অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ-এর ভূমিকা

Reading Time: 6 minutes

এই লকডাউনের মধ্যে সেনেকার ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ বইটি খুব প্রাসঙ্গিক। কয়েকজন পাঠক বইটির পিডিএফ চাওয়ার মতো অন্যায্য অনুরোধ করেছেন। অনেকে মন থেকেই বইটি পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবার জন্য ভূমিকার অংশবিশেষ এখানে প্রকাশ করা হচ্ছে। এখানে বইটির সারবত্তা রয়েছে। আশা করি এ অংশটুকু পড়লে বইটির সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয় লাভ করা যাবে।

 

আমরা সকলেই মৃত্যুকে ভয় পাই কারণ এটি জীবনের ইতি টেনে দেয়। কিন্তু জীবন অনেক বড় যদি সেটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানি। জীবনকে বড় করার উপায় হচ্ছে বর্তমানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে শেখা। ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখা হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় অপচয়। এটি আমাদের সামনে উপস্থিত মূল্যবান বর্তমানকে খেয়ে ফেলে। ভবিষ্যতের মুলো ঝুলিয়ে রেখে আজকের দিনটিকে ধ্বংস করে ফেলে। এরকম অপেক্ষায় বসে থাকতে থাকতে আমাদের জীবনের শেষ ডেকে আনতে পারি। জীবনান্তে মনে হবে কত অল্প সময়ই না পৃথিবীতে ছিলাম এবং কোনকিছু না করেই ছেড়ে যাচ্ছি। শত বছর বেঁচে থাকলেই বড় জীবন হয় না, নমস্য জীবন হয় না। শত বছরের অর্থহীন জীবন অত্যন্ত ছোটই মনে হবে। কারণ মানুষ আসলে বয়সে বড় হয় না, জীবনকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমেই বড় হয়। অনেক বুড়ো লোককে দেখা যায় যারা নিজেদের বড় প্রমাণ করার জন্য বয়স ছাড়া আর কোনো অস্ত্র দেখাতে পারে না। জীবন কী ছোট? আর জীবনকে বড় ও মহীয়ানই বা করা যায় কীভাবে এই তত্ত্ব নিয়েই সেনেকার ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ বা ‘জীবন এত ছোট কেন’।

রোমান দার্শনিক লুকিউস আন্নাইউস সেনেকার লেখা ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ আমার পড়া সবচেয়ে সেরা বইয়ের একটি। ল্যাটিনে ‘দ্য ব্রেভিতাতে ভিতায়ে’ কে ইংরেজিতে ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ করা হয়েছে। বাংলা করার সময় প্রথমদিকে আমি এটাকে ভাবার্থে ‘জীবন ছোট নয়’ হিসেবে চালিয়েছি। পরবর্তীতে ল্যাটিনে দক্ষতা রয়েছে এমন এক পণ্ডিতবরের সহায়তায় ‘জীবন এত ছোট কেন’ ব্যবহার করা শুরু করেছি। নাম যেভাবেই দিই না কেন দুটোতেই বইটির ভাব সুস্পষ্ট হয়। বইটির প্রথমদিকেই জীবন এত ছোট কেন সে নিয়ে অনেকের প্রশ্নের বিষয়টি তুলে আনা হয়েছে। বইটি শেষ করলে আমরা উত্তর পাব-জীবন ছোট নয়। তবে এর সাথে কিছু ‘যদি, কিন্তু’ রয়েছে। সেগুলো অনুসন্ধানের জন্যই বইটি পড়তে হবে। শুধু পড়লেই হবে না। সেনেকা যে পথ বাতলে দিয়েছেন সেই মতে কাজ না করলে ফল লাভ হবে না। এই স্বল্পমেয়াদি জীবনকে যদি ফলবান, মূল্যবান করতে চাই তাহলে সময়কে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে সে বিষয়ে কার্যকরী সদুপদেশ নিয়ে হাজির সেনেকা।

বইটি আকারে ছোট কিন্তু গুরুত্বে অনেক ভারী, তাই এক পাঠে চলবে না। সবসময় কাছে রাখার মতো একটি বই। বইটির দীক্ষা চিন্তা ও মননে গেঁথে রাখার জন্য এই অনুবাদ শুরু করেছিলাম ২০১৬ সালের প্রথম দিকে। মহৎ চিন্তায় ভরপুর ছোট্ট এই বইটি শেষ করতে বিশ-বাইশ মাসেরও বেশি সময় লাগে। এর কারণ হলো : অনেক জিনিসপত্র বুঝতে সময় লেগেছে, কিছু অংশ অনুবাদ করা দুরূহ ঠেকেছে। তাছাড়া সেনেকার দর্শন রপ্ত করতে কিছু সময় নেয়া ও পঠন পাঠনের প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে এগিয়ে যাওয়ার ফলে আমি উপকৃত হয়েছি।

এ জায়গায় স্বীকার করতে হবে যেকোনো বই নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রথমে আমি আমার উপকারের কথা ভাবি। আমি আমার জীবনকে অনেক ভালোবাসি। আমি আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার দিতে চাই। সান জু’র ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ অনুবাদের মতো সেনেকা’র ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ও সবার আগে আমাকে আমার উপহার। একই সঙ্গে এই সমাজ, দেশ ও বিশ্বের বাসিন্দা হিসেবে আমি প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি প্রাণিরই মঙ্গলাকাক্সক্ষী। আমি উপকৃত হওয়ায় আপনাদের মাঝেও সেই সুখবার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই। সুন্দর জীবন, উন্নত জীবন, মহৎ জীবনের শোলক সন্ধান প্রচেষ্টায় আমি যেমন সেনেকাদের মতো মহৎ চিন্তার মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, তাদের চিন্তা দ্বারা উপকৃত হয়েছি তেমনি সেই কল্যাণবাণী আর সবার মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চাই।

বইটিতে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা এসেছে। যেমন- অনেকেই এই প্রশ্ন করে মানুষ কেন এত অল্প দিন বাঁচে, মানুষের জীবন এত ছোট কেন?

অনেকের মাথায় এই প্রশ্ন জাগে-কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণি, অণুজীব, ভাইরাস আছে যা মানুষের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় বাঁচে কিন্তু মানুষ কেন এত অল্প সময় বাঁচে? মানুষ যেখানে কত বড় বড় কাজ করতে পারে সেখানে কিছু প্রাণিকে মানুষের চেয়ে পাঁচগুণ, দশগুণ বেশি সময় দিয়ে রাখা হয়েছে যাদের ভোজন-আহার ও বাচ্চা পয়দা ছাড়া আপাত আর কোনো কাজ নেই।

মানুষকে কম সময় দেয়া হয়েছে এটি স্বীকার করতে সেনেকা নারাজ। তিনি মনে করেন, আমাদেরকে অল্প সময় দেওয়া হয়নি বরং আমরা আমাদের সময়ের বড় অংশটাই অপচয় করি। আমাদের সময়ের পুরোটা যদি ভালোভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে সে সময়ের মধ্যেই অনেক বড় বড় কাজ করা সম্ভব। কিন্তু এটা যদি হেলায় উড়িয়ে দেওয়া হয়, শুধু ভোগে বিলিয়ে দেওয়া হয়, কোনো মহান উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো না হয় তাহলে দেখা যাবে সময়টা কখন যে হাওয়ায় উড়ে গেছে, একেবারে টের পাওয়ার আগেই।

বেশিরভাগ মানুষই কীভাবে অন্যের জন্য বাঁচে, অন্যের জীবন যাপন করে এবং সবচেয়ে কম কাছের থেকে যায় নিজের কাছে, এর উপলব্ধি হবে বইটি পড়ে। মানুষ কেমন অদ্ভূতুড়ে আচরণ করে, এমনকি নিজের সঙ্গেও! তারা তাদের মালিকানায় থাকা জায়গা-জমির এক ফুটও যদি অন্য কেউ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে কেমনে ক্ষেপে যায়, তেড়ে আসে, এমনকি জান কুরবান করে ফেলে বা অন্যেরটা নিয়ে ফেলে! অথচ কোনো মানুষের জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ যদি থাকে সেটা হলো সময়। আমরা সেই মূল্যবান সম্পদ সময়টিতে কীভাবে বিভিন্ন মানুষকে ভাগ বসিয়ে দিতে দিই? এবং জায়গা-জমি, অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রে বড় কিপটে হলেও সময় সম্পদ বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা অনেক উদার। যাকে তাকে মালিকানা দিয়ে দিই এই মহামূল্যবান সময় বা সময়ের বড় অংশটুকুর। সেনেকার মতে এটা এমন বড় ডাকাতি যেটা মালিক টেরই পায় না।

আমরা পৃথিবীতে এমনভাবে জীবনধারণ করি যেন আমরা অমর, মৃত্যু মনে হয় আসবেই না। অথচ যে মুহূর্তটা এখন চলে গেল সেটা আর ফিরিয়ে আনা কখনোই সম্ভব নয়। এবং এই যে মৃত্যু এবং চলে যাওয়া এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ট্রাজিক সত্য। এটা ট্রাজিক সত্য কারণ এই সত্যটা সবাই জানলেও ভুলে থাকে বা ভুলে যায়।

সেনেকার মতে, ‘তুমি এমনভাবে সময় অপচয় করো যেন তোমার অফুরান যোগান আছে। কিন্তু ব্যাপারটা হলো কোনদিন কাউকে যে সময়টা দিলে বা যে জন্য দিলে সেটা হয়তো তোমার শেষ সময়। মরণশীল প্রাণির সব ভয় তোমাদের কিন্তু বাসনাগুলো মৃত্যুহীনদের।’

যারা বিভিন্ন বেহুদা কাজে ব্যস্ত থাকে কিন্তু ভালো কাজগুলো, শ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাগুলো শেষ বয়সের জন্য ফেলে রাখে, যারা ৫০-৬০ এ অবসরে গিয়ে কিছু একটা করবে বলে চিন্তা করে তাদের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন কীভাবে তারা নিশ্চিত যে ৫০ বছর বা ৬০ বছর বেঁচে থাকবে? সেনেকার মতে, এমন মানুষদের লজ্জা পাওয়া উচিত। যারা তাদের জীবনের সেরা সময়টাতে ভালো কাজ করতে পারেনি তারা শেষ জীবনে এসে সব দেখিয়ে দেবে! এমনতর ভাবনা অহেতুক কল্পনাবিলাস নয় কি? সেনেকার কথা হচ্ছে যা কিছু করার আজই শুরু করতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখার দরকার নেই।

কীভাবে জীবন যাপন করতে হয় সেটা জানা অনেক সহজ আবার সারা জীবন চলে যেতে পারে সেটা আবিষ্কার করতে। এটা কি কেউ কাউকে শেখাতে পারে? জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অল্প বয়সে অনেকে উস্তাদ বনে যেতে পারলেও এখানে সেটি কঠিন ঠেকতে পারে।

জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়া বা কীভাবে বাঁচতে হয় এটা শিখতে অনেক কষ্ট হয়, এমনকি জীবন ফুরিয়ে যাওয়ার আগে অনুধাবন হয় যে আসলে সেরকম বাঁচতেই পারলাম না। অনেকে বহু মানুষের উপর ক্ষমতাবান হওয়াকে জীবনের সফলতা মনে করে। এর একটা বড় গোলকধাঁধা হচ্ছে এই যে-অনেকের কাছে পরিচিত হলেও দেখা যায় সে নিজের কাছে সবচেয়ে অপরিচিত। এজন্য অনেক খ্যাতিমান লোক দিন শেষে খেয়াল করে ভড়কে যায় তার নিজের জন্যই তার সময় বরাদ্দ কত কম!

সেনেকার মতে, ‘যারা তোমাকে তাদের দিকে ডেকে নেয় তারা আসলে তোমার কাছ থেকেই সরিয়ে নেয়।’

সেনেকা তার বইয়ে সিসেরোর একটি চিঠির অংশবিশেষ উল্লেখ করে বলেন কীভাবে সিসেরো নিজেকে ‘অর্ধেক বন্দি’ (হাফ এ প্রিজনার) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বড় দায়িত্ব, বড় অবস্থান কিছু কিছু মানুষকে সেই বড় দায়িত্ব বা অবস্থানের হাতে বন্দি করে ফেলে।

অন্যকে সুখী করতে, অন্যের সামনে সুখী হিসেবে নিজেকে সবসময় তুলে ধরে রাখতে কত মানুষের জীবনের বড় অংশ চলে যায়। জীবনের যোগ বিয়োগ শেষে দেখা যায় আর সবাইকে সুখি করতে পারলেও যাকে সুখী করা হয়নি সেটা হলো নিজেকে! পাবলিক লাইফের প্যাড়া এমনই! এজন্যই আমরা কত রাজা-বাদশা, ধনরাজ, জ্ঞানী-মুনি-ঋষিকে দেখি অর্থ, সম্পদ, প্রাসাদ ছেড়ে জীবনের অর্থ খুঁজতে বের হয়ে পড়েন। তাদের মধ্য থেকেই বের হয়ে আসে গৌতম বুদ্ধ, মহাবীর, সক্রেটিস, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রেনে দেকার্ত, বেনেডিক্ট স্পিনোজা বা লুডবিগ ভিৎগেনস্টেইন প্রমুখ মহামানব।

বেশিরভাগ মানুষের দিন কাটে অতীতের অনুশোচনা আর ভবিষ্যতের দুর্ভাবনা নিয়ে। কয়জন পারে আজকের দিনটাকেই শেষদিন মনে করে পূর্ণ করে বাঁচতে? আর অনেকের দিন কাটে ভবিষ্যতের ভালো সময়ের অপেক্ষা করে। সেনেকার প্রশ্ন ভবিষ্যতের কাছে দাবি-দাওয়া বা ভবিষ্যতের ভয় ছাড়া বর্তমানে বাঁচতে পারে কয়জন?

মানুষ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসকেই সবচেয়ে বেশি হেলা করে। আর সব ব্যাপারে কিপটে হলেও সময়ের ব্যাপারে আমরা বেশ উদার, তার কারণ এটা দেখা যায় না। অঁতোয়ান দ্য স্যান্ত একজুপেরির বিশ শতকের ক্লাসিক ‘ক্ষুদে যুবরাজ’ (দি লিটল প্রিন্স)-এও দেখি জীবনের সবচেয়ে বড় গোপন সূত্র হচ্ছে- ‘মানুষ হৃদয় দিয়েই কেবল সত্যিকারে দেখতে পায়। যা প্রয়োজনীয় তা চোখের অগোচরেই থাকে।’

সময়ের অপচয় মেনে নিতে পারেন না সেনেকা। অনেক তুচ্ছ বিষয়ে আমরা বেশ সতর্ক হলেও এই মহামূল্যবান বিষয়টিতে বেহিসেবি। সময়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে যারা অপচয় করে, অহেতুক কাজ করে বেড়ায় তারাই আবার যখন গভীর অসুস্থতায় পরে বা মৃত্যুমুখে পতিত হয় তখন ডাক্তার-কবিরাজের হাঁটুর নিচে পড়ে থাকে যেন আরও কয়টা দিন বাঁচতে পারে। বা কাউকে যখন মৃত্যুদ- দেওয়া হয় তখন উকিল-মোক্তারদের পেছনে ভাই-বন্ধু, আত্মীয়-স্বজনদের দৌড়ানো দেখলেই বুঝা যায় একটি দিন কত বড় হতে পারে, কত মূল্যবান হতে পারে। আবার এ লোকটিই হয়তো দিনের পর দিন, মূল্যবান দিন বেহুদা কাজে ক্ষয় করে গেছে, অন্যের জীবন যাপন করে গেছে আর নিজের কাছে অচেনা থেকে কাটিয়েছে।

অনেক বছর বাঁচলেই কেবল বড় মানুষ হওয়া যায় না। সেনেকা বলেন, ‘কারো ধূসর চুল আর কুচকে যাওয়া চামড়া দেখে ভেবো না সে অনেকদিন বেঁচেছে। সে বড়জোর অনেকদিন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।’

আমার কাছে একটি ভালো বই একটি ভালো সফটওয়্যার। সফটওয়ার যেমন কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্ট ফোনের কাজের প্রকৃতি পাল্টে দেয় তেমনি একটা ভালো বইও মানুষের দেখার দৃষ্টি, ভাবনার পদ্ধতি পাল্টে দেয়। তাই আমার মতে বই মানুষের জন্য সেরা সফটওয়ার। আর একেকটা সেরা বই পড়া হচ্ছে একেকটা সফটওয়্যার ইন্সটল করা; তার মানে জগৎকে একেকবার একেকটি দৃষ্টিতে দেখার সক্ষমতা অর্জন করা।

সেনেকার ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ আমার কাছে তেমন একটি বই। যখন মনে হয় অহেতুক সময় অপচয় করছি, যখন মনে হয় আমি আমার নিজের করা অঙ্গীকারের  সঙ্গে প্রতারণা করছি, মনের গহিন কোণে হতাশার চাষবাস করছি তখনই এমন কিছু সফটওয়ারের সাহায্য নিই। এগুলো ইনস্টল করার মাধ্যমে আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করি।

আমি বইটি পড়ে নিজে উপকৃত হয়েছি। সময় ও নিজের জীবনের মূল্য নিয়ে সচেতন হয়েছি। নিজের স্বপ্ন ও আকাঙ্খার উপর আত্মবিশ্বাস মজবুত করেছি। সেনেকার মূল বয়ানটার সঙ্গে একেবারে পুরোপুরি ঐকমত্য পোষণ করে স্বীকার করি-জীবন ছোট নয়, যদি সেটাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়।

Spread the love

Related Posts

No Responses

Add Comment

error: Content is protected !!