কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দর্শনশোভিত সন্ধ্যা

Reading Time: 6 minutes

গেলো শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দর্শন নিয়ে একটি অনন্য পাবলিক লেকচারের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ‘দর্শন পাঠের ভূমিকা’ শিরোনামে আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন সাবিদিন ইব্রাহিম। দর্শন অনুরাগী ও সেনেকা’র ‘অন দ্য শর্টনেস অব লাইফ’ বইটির অনুবাদক সাবিদিন ইব্রাহিম আলোচনার সূত্রপাত করলেও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট দিয়েছেন উপস্থিত প্রতিটি সদস্য। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই যে দার্শনিক প্রয়াস রয়েছে আলোচনা শেষে সবার কাছে তা স্পষ্ট হয়ে উঠে। দর্শন নিয়ে মনোমুগ্ধকর আলোচনা ও বাতচিত এতটাই জমে উঠেছিল যে দুই ঘন্টার সেশন শেষে আরো তিন ঘন্টা চলে আড্ডা। আলোচনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নিয়ে বিডিএসএফের এ প্রতিবেদন।

বক্তা যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেখিয়ে দেন কীভাবে দর্শনের মাবাবা শুধু গ্রীকরাই নয়। প্রতিটি জাতি ও সভ্যতার মধ্যে দার্শনিক প্রয়াস রয়েছে। দর্শনের ইতিহাস মানুষের ইতিহাসের মতই প্রাচীন।

শুরুতে বক্তা দর্শন নিয়ে বিভিন্ন প্রচলতি ধারণাকে প্রশ্ন করেন। যেমন আমরা ধরে নিই দর্শন প্রথমে এথেন্স থেকে শুরু হয়েছে এবং গ্রীকরাই দর্শনের জনক। বক্তা যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দেখিয়ে দেন কীভাবে দর্শনের মাবাবা শুধু গ্রীকরাই নয়। প্রতিটি জাতি ও সভ্যতার মধ্যে দার্শনিক প্রয়াস রয়েছে। দর্শনের ইতিহাস মানুষের ইতিহাসের মতই প্রাচীন। গ্রীসকে দর্শনের পাদপিঠ বলা হয় কারণ এখান থেকে সুসংহতভাবে দর্শন লিপিবদ্ধ হতে শুরু করে এবং দর্শন চর্চার একটি সিলসিলা দৃশ্যমান হয়।

আমরা যে অনেক সময় ধরে নিই এথেন্সেই দর্শন শুরু হয়েছে তা সুন্দর যুক্তি ও তথ্য দিয়ে খণ্ডান বক্তা। থেলিস, অ্যানাক্সিমিন্ডার ও অ্যানাক্সিমিনিস নামে প্রথম দিককার যে তিন গ্রীক দার্শনিকের কথা বলা হয় তারা মূল ভূখণ্ড গ্রীস থেকে অনেক দূরে মিলেতুসে বেড়ে উঠেছিলেন। ইজিয়ন সাগর তীরে ওই ভূখণ্ডেই তাদের বিকাশ যা বর্তমানে তুরস্কে অবস্থিত। এশিয়া মাইনর হিসেবে পরিচিত মিলেতুসেই গ্রীক বা ইউরোপীয় দর্শনের শুরু।

গ্রীক দর্শন যে সমকালীন অন্যান্য সভ্যতা থেকে দেদারছে গ্রহণ করেছে তার প্রমাণ হিসেবে বক্তা কিছু নোক্তা দেন। থেলিস, পিথাগোরাস, প্লাতো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দার্শনিকদের বিত্তান্ত পড়লে আমরা জানতে পারি যে অনেক দার্শনিকই মিশর, ব্যবিলন বা ভারতে এসেছেন। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানও করেছেন, যাতে সহজেই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় তারা ওই সভ্যতাগুলোর জ্ঞানকাণ্ড দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছেন বা প্রভাবিত হয়েছেন।

দর্শনের অর্থনিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তা সক্রেটিসের সমসাময়িক ডায়োজিনিসের একটি গল্প উল্লেখ করেছেন। গল্পটি হচ্ছে:

সিনোপির (বর্তমান তুরস্কের উত্তরাঞ্চলে) এই দার্শনিক ভিক্ষাবৃত্তি করে নিজের সীমিত প্রয়োজন মেটাতেন গ্রীক দার্শনিক ডায়োজিনিস (৪১২ খ্রি.পূ:- ৩২৩ খ্রি.পূ.)

তাকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলআচ্ছা মানুষ কেন অন্ধ ও পঙ্গুদের ভিক্ষা দেয় কিন্তু দার্শনিকদের দেয় না?

তিনি জবাব দিয়েছিলেন, মানুষের মনে মাঝে মাঝে এই ভয় কাজ করে একদিন সে পঙ্গু বা অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু কারো মনে এই ভাবনা বা দুর্ভাবনা কাজ করে না সে একদিন দার্শনিক হবে।

গ্রীক দার্শনিক ডায়োজিনিস (৪১২ খ্রি.পূ:- ৩২৩ খ্রি.পূ.)কে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিলআচ্ছা মানুষ কেন অন্ধ ও পঙ্গুদের ভিক্ষা দেয় কিন্তু দার্শনিকদের দেয় না?

ডায়োজিনিসের গল্প থেকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান পাইযা আমাদের দর্শন অনুসন্ধিৎসার প্রাথমিক দরজা হতে পারে।

আলোচনায় বক্তা দর্শনকে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেন। দর্শন চর্চা করতে চাইলে আমাদেরকে আমাদের সকল অভিজ্ঞতা, আমাদের উপলব্ধি ও আমাদের আশপাশের বাস্তবতাকে মনের খোলা চোখে দেখার প্রশিক্ষন নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

অন্যান্য ডিসিপ্লিনের (জ্ঞানকাণ্ড) সঙ্গে দর্শনের পার্থক্য হলো এখানে এমন কোন মহা জরুরী ফ্যাক্টস বা ডাটা (উপাত্ত) নেই যা মুখস্ত করতে হবে, এমন কোন ফর্মূলা নেই যা নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। দর্শনে কোন স্বত:সিদ্ধ নীতি নেই, প্রশ্নাতীত কোন মতবাদ (ডগমা) নেই, এমন কোন জ্ঞান নেই যেটা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।

তিনি আরো বলেন, অন্যান্য ডিসিপ্লিনের (জ্ঞানকাণ্ড) সঙ্গে দর্শনের পার্থক্য হলো এখানে এমন কোন মহা জরুরী ফ্যাক্টস বা ডাটা (উপাত্ত) নেই যা মুখস্ত করতে হবে, এমন কোন ফর্মূলা নেই যা নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুসরণ করতে হবে। দর্শনে কোন স্বত:সিদ্ধ নীতি নেই, প্রশ্নাতীত কোন মতবাদ (ডগমা) নেই, এমন কোন জ্ঞান নেই যেটা গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক। ঐতিহাসিক তথ্য বা ফ্যাক্টস ছাড়া দর্শনের কেতাবের প্রতিটি বাক্য বা উক্তিকে নিজস্ব বুদ্ধিবিবেচনা (রিজন) ব্যবহার করে চ্যালেঞ্জ করা যাবে, দ্বিমত প্রকাশ করা যাবে। দর্শন একটি অনুসন্ধানী যাত্রা, একটি অভিযান। এবং আমাদের প্রত্যেকেরই অধিকার রয়েছে আমাদের নিজস্ব বিবেকবিবেচনা ব্যবহার করে নিজস্ব উপসংহারে (কনক্লুজনস)/ সিদ্ধান্তে পৌছার।

ফিলসফির শাব্দিক অর্থ

আভিধানিক অর্থে ফিলসফি হচ্ছে: দ্য লাভ ফর উইজডমজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা/অনুরাগ বা উপলব্ধির প্রয়াস/বুঝাপড়ার প্রচেষ্টা (দ্য পারস্যুট অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং)

ইংরেজি ফিলসফি শব্দটি সুনির্দিষ্ট কোন বিষয়কে বুঝায় না এবং এটি বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।

দার্শনিকদের সাধারণত এমনভাবে দেখা হয়

তিনি এমন কোন ব্যক্তি যিনি অদ্ভূত বিষয় নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন, তারা সমাজের আম জিন্দেগী থেকে বেরিয়ে আসে মেঘের উপরে মাথা তুলে রাখেন। তিনি সমাজে এমন কিছু প্রশ্ন তুলেন তার অনেকগুলো উত্তর মজুদ রয়েছে। আম জনতার দৃষ্টিতে দেখলে কখনো কখনো মনে হতে পারে দর্শন অপ্রয়োজনীয়। নিত্যদিনের তেলডালের প্রয়োজনে দর্শন অপ্রয়োজনীয় মনে হতে পারে কিন্তু এ দেয়ালের বাইরে এসে দাড়িয়ে দেখলে দেখবোমহান দার্শনিকদের চিন্তা ও দূরদৃষ্টি সংস্কৃতির বিকাশ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চূড়ান্ত (ডিসাইসিভ) প্রভাব রেখেছে।

প্রত্যেকটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও প্রত্যেকটি মনোবৈজ্ঞানিক তত্ত্বের পেছনে দর্শনের তত্ত্ব কাজ করেছে। মহান সব দার্শনিকদের চিন্তার পাটাতনে দাড়িয়েই সকল বিজ্ঞান বিকশিত হয়েছে, প্রষ্ফূটিত হয়েছে।

এমনকি ধর্মীয় চিন্তাচেতনায় ও দর্শনের উপস্থিতি বেশ মজবুত।

মধ্যযুগে ইউরোপে খ্রিস্ট ধর্মের প্রসারের পেছনে ভূমিকা রেখেছে সন্ত অগাস্টিন, সন্ত টমাস একুইনাস, ইরেসমাসদের মতো দার্শনিকদের দার্শনিক প্রয়াস।

বিপ্লবহউক সেটা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক পেছনে কাজ করেছে দার্শনিক নীতি। যেমন ফরাসী বিপ্লব আদর্শিকভাবে রূপ পেয়েছে জন লক ও ভলতেয়ারের মতো দার্শনিকদের চিন্তার উপর দাড়িয়ে। এবং সর্বশেষ দুই শতক জুড়ে কমিউনিস্ট আন্দোলন শক্তিশালীভাবে প্রভাবিত হয়েছে ডে ব্যক্তির চিন্তা দ্বারা তিনি হচ্ছেন কার্ল মার্ক্স।

আমরা যখনই পৃথিবীর অর্থ খুঁজার চেষ্টা করি, যখনই জীবনের অর্থ এবং পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলি, যখনই আমরা কোন নৈতিক ও আদর্শিক বিষয়গুলোর ছামনা/মোকাবিলা করি, যখনই আমরা আমাদের কাজের গুরুত্ব নিয়ে চিন্তা করি আমরা তখনই ওই সব চিন্তা ও আইডিয়ার সামনে উপস্থিত হই যা দার্শনিকরা শত বর্ষ ধরে মোকাবিলা করে আসছে।

আভিধানিক অর্থ পেরিয়ে আমরা দর্শনের অর্থ বুঝতে ওই দিকে ধাবিত হতে পারি যে পথে গিয়েছেন প্রতিষ্ঠিত দার্শনিকরা। মানে তাদের পথের সঙ্গে আমাদের পথ মিলিয়েই কেবল আরো ভালো উপলিব্ধি আনতে পারি। তারা কীভাবে জ্ঞানের প্রতি অনুরাগী ছিলেন বা তারা কীভাবে বুঝাপড়ার চেষ্টা চালিয়েছেন।

জীবন কী, জীবনের মুখ্য কী? জীবন কীভাবে পরিচালনা করতে হয়? এই মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান কোথায়?এ ই মহাবিশ্ব কীভাবে আসলো?মহাবিশ্বের স্রষ্টা কী আছে? স্রষ্টার স্বরূপ কেমন এমনতর বিবিধ প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা দর্শনের কাজ।

তাই বলে দর্শন আবার ধর্মশাস্ত্র বা বিজ্ঞান নয়! ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝামাঝি অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো নিয়ে দর্শন কাজ করে বলে মনে করেন বার্ট্রান্ড রাসেল।

জেফ্রি ওলেন দর্শনের বিকাশকে সুন্দর একটি উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘দর্শনের ইতিহাস যেন একটি দীর্ঘ পারিবারিক কাহিনী/পরিবারের দীর্ঘ কাহিনী। শুরুতে ছিল একজন বড় গৃহপিতা ও গৃহমাতা; জ্ঞানের প্রতি অনুসন্ধিৎসা ও প্রজ্ঞা। ইনাদের গর্ভে জন্ম নেন বেশ কয়েকজন সন্তানাদি। গণিত, পদার্থ, নীতিবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা, রাজনীতিবিজ্ঞান, অধিবিদ্যা ও জ্ঞানতত্ত্বের মতো বিষয়গুলো একই বাবা-মায়ের গর্ভজাত সন্তান। দার্শনিকরা শুধু দার্শনিকই ছিলেন না; ছিলেন গণিতবিদ, পদার্থবিদ, মনোবিদও। সত্যিই পরিবারটির ইতিহাসের প্রাথমিক পর্যায়ে দর্শনের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগগুলোর ফারাক করা হতো না।

শুরুতে জ্ঞানের প্রতি সকল শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুসন্ধিৎসাই ছিল দর্শন। সেই বিষয়টি আজকের জমানের আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও অনুকরণ করে থাকে। বিজ্ঞান কিংবা মানবিক বিভাগের সর্বোচ্চ ডিগ্রিকে পিএইচডি বা ডক্টর অব ফিলসফি বা দর্শনের ওস্তাদ বলা হয়।’

তো, সেই একক পরিবারের সন্তানেরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়লো যার যার জীবিকা অর্জনের জন্য, পথ খোঁজার জন্য। দর্শনের একক পরিবার থেকে প্রথম ঘরছাড়া সন্তান হলো পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা। বেরিয়ে এসে তারা তাদের নিজস্ব গবেষনা পদ্ধতি বা পরীক্ষন কৌশল বের করার চেষ্টা করলো। দর্শনের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ তীব্র করে পদার্থবিদ্যা বা জ্যোতির্বিদ্যার হিজরত বা এক্সোডাসে নেতৃত্ব দিয়েছেন গ্যালিলেও (১৫৬৪-১৬৪২), আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) এবং জোহানেস কেপলার (১৫৭১-১৬৩০)। এর পর ঘর ছেড়ে চলে যান মনোবিজ্ঞান।

উপস্থিত সবার মধ্যে দর্শনের প্রতি উত্সাহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে বক্তা আলোচনা শেষ করলেও আমাদের আলোচনা, প্রশ্ন থামেনি। ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানে চলে আরো কয়েক প্রস্থ আলোচনা। সেখানে অংশগ্রহণ করা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্বের ছাত্র ফরিদ মুস্তাকিম তার ফেসবুক পেজে লিখেন, ‘অল্পবিস্তর পরিচয়ে যথেষ্ট জটিল আড্ডায় মেতে উঠার ক্ষমতা বোধকরি অল্পকিছু মানুষের ই আছে। সেই কিঞ্চিত পরিসরে বৃহৎ জায়গা জুড়ে রয়েছে পাঞ্জাবি পরিহিত পাশের মানুষটি।’

 

বিডিএসএফের লেকচারে প্রথমবারের মতো উপস্থিত সোহানূর সোহাগ নামে অপর এক ছাত্র তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘দর্শন শাস্ত্রের উপর বক্তার আধিপাত্য দেখে আমি আসলেই মুগ্ধ। প্রায় ৫ ঘন্টা সময় কাটানো হয়, শুধু মাত্র দর্শন শাস্ত্রের আলোচনা সমালোচনা করেই, আশ্চর্য জনক ভাবে এক মিনিটের জন্য ও বোরিং ফিল হয়নি। চিন্তার ধমনী দিয়ে জ্ঞানের রক্তপ্রবাহ করে জ্ঞান সমুদ্র ও গড়ে তোলা যায়! চিন্তার জগতে মানুষকে ডমিনেট করার ষ্পৃহা পেলাম। জ্ঞান সাম্রাজ্য আপনার পদাঙ্ক অনুসরণে নেমে পড়লাম, সম্রাট না হই,সেনাপতি তো হবোই!

জান্নাতুল ফেরদৌস সোহানী লিখেন, আমাদের জানার ও শেখার প্রক্রিয়া অবিরাম। আর তা থেকেই দর্শনের সূচনা। জ্ঞানের ক্ষুধা মেটানোর জন্যই দার্শনিকরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চিন্তার উদ্ভব ঘটিয়েছেন।বিভিন্ন সময়ের দার্শনিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনকে ব্যাখ্যার প্রয়াস ছিল আড্ডাজুড়ে।

আজকের স্টাডি আড্ডা আমাদের চিন্তার জগতকে সমৃদ্ধ করেছে এবং জানার আগ্রহ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। আড্ডায় উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ এবং নিয়মিত আসার আমন্ত্রণ রইল।’

কুবির ইংরেজি বিভাগে ছাত্র কামাল হোসেন লিখেন, বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারন সমন্বয়ক, তরুণ উদিয়মান গবেষক সাবিদিন ইব্রাহিম ভাইয়ের স্বচ্ছল পদচারনা ও শেষ বিকেলের জমজমাট আড্ডায় মুখরিত ছিল আজ কুবি ক্যাম্পাস।

দর্শন চিন্তার উৎস, দর্শন চর্চার গুরুত্ব ও সভত্যার ক্রমবিকাশে দর্শনের ভূমিকা কি? তা অত্যন্ত সহজ ভাষায় তুলে ধরেছেন প্রধান আলোচক। তিনি প্রাচীন দার্শনিক থেলিস থেকে শুরু করে আধুনিক দার্শনিকদের চিন্তা ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সম্পর্ক অত্যন্ত সুচারুরূপে বর্ণনা করেন। আড্ডাতে নতুনদের উপসিহতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সবমিলিয়ে অসাধারন কিছু সময় অতিবাহিত করেছে কুবি স্টাডি ফোরামের সদস্যরা।

 

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিডিএসএফ সদস্য এমদাদুল এইচ সরকার, জান্নাতুল ফেরদৌস সোহানী ও কামাল হোসেন

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!