নারী-পুরুষের ভেদ-অভেদ জ্ঞান

Reading Time: 3 minutes

শিশু অথবা বাচ্চা থাকা অবস্থায় ছেলে এবং মেয়ে দুজনই সমানতালে দৌড়াদৌড়ি করে হৈহল্লোর করে উঠোনে মাঠে ঘাটে ঘরে। তখনও তারা নিজেদের মধ্যকার শারীরিক পার্থক্যটা বুঝে নি,বুঝলেও সামাজিক জীবনে এই পার্থক্যটা কত বড় ব্যবধান গড়ে তুলে সে বিষয়ে তাদের ধারণা থাকার প্রশ্নই আসে না।ঠিক কখন শিশুগুলো ছেলে মেয়ের পার্থক্য বুঝে নিজেদের বিচরণ ক্ষেত্রকে আলাদা করে? কখন ছেলেরা শিশুকালের মতোই বাহিরে বিচরণকে তার পারফেক্ট স্থান মনে করে? কখন মেয়ে শিশুটি শিশুকালের বাহিরে বিচরণ বাদ দিয়ে ঘরে বসে থাকতে চায়? কখন সে দৌড়াদৌড়ি হৈহল্লোর ফেলে রোগাক্রান্ত মুরগির মতোই ঝিমায়? কখন মেয়েটা সবার আড়ালে থাকতে চায়?

ছেলেদের এই ক্ষণটা হলো যখন তার প্রথম স্বপ্নদোষ হয়। আর মেয়েদের যখন মাসিক হয়। স্বপ্ন দোষ ছেলেদের বর্হিমূখী ন্যাচারটাকে আরো উস্কে দেয় এবং মাসিক মেয়েদের অর্ন্তমুখী করে তোলে। সেক্স এবং মাসিক অতীতে মেয়েদের জন্য একটা ভয়ানক পেইনের বিষয় ছিলো। ইসলাম পূর্ব ধর্মগুলো নারীদেরকে মাসিক এবং সন্তান প্রসবকালীন অবস্থার জন্য নারীদেরকে অশুচি অস্পৃশ্য ভাবতো।

অনেক ধর্ম আছে নারীদেরকে মানুষই ভাবা হয় না। এই ভাবনাটা এখনো কমবেশি সকল ধর্মগ্রস্থ লোক ধারণা করে নানান বয়ানের ছদ্মবেশে। প্রযুক্তি নারীকে সেক্স এবং মাসিককালীন পেইন থেকে অনেকটাই মুক্তি দিয়েছে। জন্মনিরোধক পিল কনডম সেনোরার আবিষ্কার নারীকে এই পেইন থেকে মুক্তি দিয়েছে। কিভাবে?
পূর্বের নারীর মাসিক হলেই তাকে ঘরে বসে থাকতে হতো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্লিডিংয়ের ভয়ে। সেনোরা তাকে সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়েছে। পূর্বে কোন নারীর জন্য সেক্স করা মানেই সন্তান গর্ভে আসার ভয় তৈরী হওয়া। কিন্তু জন্মনিরোধক পিল কনডম তাদেরকে সেই ভয় থেকে মুক্তি দিয়েছে। এইসব প্রযুক্তির জন্য নারীকে আর পূর্বের মতো ঘরে বসে থাকতে হয় না অনাকাঙ্ক্ষিত ভয় বুকে নিয়ে।

সে চাইলে ছেলেদের মতোই ক্রিয়াশীল থাকতে পারে বাহির জগতে। নারীকে মাসিক এবং সন্তান প্রসবকালীন ঝামেলার জন্য যারা বাহির জগতের(ধর্মীয় রাজনৈতিক সামাজিক কর্মক্ষেত্র) যোগ্য ভাবতেন না তাদের চিন্তা পদ্ধতি এখন ভেঙে পড়ছে। “মাসিক হলে নামাজ রোজা করা নিষেধ” ব্লিডিং হবে বলে। যারা এই তত্ত্বে আস্তাবান ছিলেন তাদের চিন্তা এখন মৃত পাতার মতো ঝরে পড়ছে।

কারণ নারী মাসিক নিয়েও ব্লিডিংয়ের শিকার না হয়ে স্বাভাবিক অবস্থার মতো এক্ট করতে পারছে। ফলে নারী মাসিককালীন অবস্থায় ধর্মীয় ইবাদতে অংশগ্রহণ করতে পারছে। পূর্বের ফতুয়া এখন আর কাজ করছে না। যারা নারীকে মাসিক এবং গর্ভকালীন পরিস্থিতি জন্য ধর্মীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃত্বের জন্য অযোগ্য ভাবতেন তাদের চিন্তাও সূর্যালোকে নাই হয়ে যাওয়া কুয়াশার মতো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
এই অবস্থায় নারীর ধর্মীয় নেতৃত্ব,মসজিদ মন্দির গীর্জায় পুরুষের মতো যাতায়াত, জুম্মা সহ সকল ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ,নামাজের ইমামতি রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক অংশগ্রহণের পথে কোথাও আর চিন্তাগত বাধা থাকলো না। এরপর যদি কোন বাধা থাকে সেটা হবে নারীর অযোগ্যতা অথবা পুরুষতন্ত্রের মূর্খতা।

নারী প্রকৃতিগত ভাবে ইনটুইটিভনেসের(স্বজ্ঞা) প্রতিনিধিত্ব করে। আর পুরুষ করে লজিক কিংবা চিন্তার। ইনটুইটিভনেস হলো তাৎক্ষণিক সময়ের ইশারা ইঙ্গিত। যার কোন ব্যাখ্যা তার কাছে থাকে না তবে যা বলা হয় তার প্রতি অটল আস্থা থাকে।

লজিক কিংবা চিন্তার বিষয়টা হলো দ্বান্দ্বিকতাময় ক্রম-অগ্রসরমান একটা সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। প্রক্রিয়াটা কিভাবে অগ্রসর হয় এবং তা থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যক্তি পুরোপুরি সজাগ থাকে। এবং তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও ব্যক্তির কাছে হাজির থাকে।
স্বজ্ঞার বিষয়টা অনিশ্চয়তা এবং ডায়নামিসিজমে ভরপুর। তবে লজিক কিংবা চিন্তার বিষয়টাতে নিশ্চয়তা এবং সরলরৈখিকতার প্রভাব প্রকট। অর্থাৎ চিন্তা কিংবা লজিক স্থান কাল পাত্র নিরপেক্ষ বিষয়। এখানে প্রক্রিয়াটাই মুখ্য। প্রক্রিয়া ঠিকমত আগাতে পারলে যে কোন ব্যক্তি যে কোন স্থান কিংবা কালে একই সিদ্ধান্তে আসবে।

এই দিক দিয়ে স্বজ্ঞার বিষয়টা পুরোপুরি ভিন্ন। এটাতে স্থান কাল পাত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ইশারা কিংবা বার্তাটা কি হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির সার্বিক অবস্থার উপর। ফলে এটা ব্যক্তি এবং স্থান কাল ভেদে ভিন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিকে নিষ্ক্রিয় করে বার্তা কিংবা ইশারা দেয়া হয়।

কোন নারী যখন পুরুষের প্রেমে পড়ে তখন মূলত সে পুরুষের লজিক্যাল চিন্তারই প্রেমে পড়ে,যা তার মধ্যে ঘাটতি আছে সেটার পূর্ণতা চায় সে। আবার কোন পুরুষ যখন নারীর প্রেমে পড়ে তখন সে মূলত নারীর স্বজ্ঞারই প্রেমে পড়ে যার মাধ্যমে সে তার স্বজ্ঞার ঘাটতিকে এড়াতে চায়।

আর এই বিপরীতমুখী আকর্ষণ নারী পুরুষকে তাদের প্রেমের সময় বিপরীত আচরণ করতে বাধ্য করে। যেমন অধিকাংশ সময় দেখা যায় নারী তার পুরুষ সঙ্গীকে আয়ত্তীকরণের কৌশল স্বরূপ লজিক্যাল চিন্তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। অর্থাৎ নারী তখন লজিক্যালিটির অভিনয় করে। ঠিক এর বিপরীত আচরণ করে পুরুষ নারীকে আত্তীকরণের জন্য। অর্থাৎ পুরুষ নিজে স্বজ্ঞার দ্বারা চালিত হওয়ার অভিনয় করে।
বিষয়টাকে পরিষ্কার করে বললে গ্রামের কোন মানুষ যখন শহরে কোন আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায় তখন সে একটু শহুরে শহুরে ভাব করার চেষ্টা করে শহুরে আত্মীয়কে আত্তীকরণের জন্য। ঠিক এর বিপরীত কাজটা করে শহর থেকে গ্রামের আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া মানুষ। এই বিষয়টা ঘটে যদি এই শহুরে এবং গ্রামের আত্মীয়ের মধ্যে প্রেমের টান থাকে।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!