পাঠক কত প্রকার, কখন আপনি ভালো বা দক্ষ পাঠক হবেন?

Reading Time: 2 minutes

তথ্য জানা বা আনন্দ লাভ করা পাঠের উদ্দেশ্য তবে একমাত্র উদ্দেশ্য নয় বা শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য নয়। নিজেকে জানা, স্বাধীন বিচার-বুদ্ধির অধিকারী হওয়া এবং সে অনুযায়ী বিচার করা পাঠের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য। আমরা যখন নিজেকে জানার পাঠ গ্রহণ করতে পারি এবং স্বাধীনভাবে নিজের বুদ্ধি বিবেচনা প্রয়োগ করতে পারি তখনই সত্যিকারের পাঠক হয়ে উঠি, স্বাধীন ও সবল পাঠক হয়ে উঠি।
প্রাথমিক স্তরে বা পাঠক হওয়ার শুরুতে কেতাবের বা অন্যের জ্ঞান ধার করতে হয়। কিন্তু সবল বা স্বাধীন পাঠক হলে এক সময় কোন কেতাবের সহায়তা ছাড়াই পৃথিবীর অর্থ অনুধাবন করা যায়, পৃথিবীর রহস্য উন্মোচিত হয়। এরকম স্বাধীন পাঠক হওয়া সাধনার ব্যাপার। এটা বলা দুষ্কর কখন এ ক্ষমতা অর্জিত হতে পারে। তা পঁচিশের কোঠাতেও আসতে পারে আবার পঁচাশিতেও ধরা না দিতে পারে।

আবার আপনি যখন নিজেকে জ্ঞানী ভাববেন বা সম্পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেছেন বলে যখনই মনে করবেন তখনই আপনি অজ্ঞতার সমুদ্রে বিলিন হবেন। জ্ঞানপাত্র সবসময় খোলা রাখা বা অপূর্ণ রাখাই সত্যিকারের জ্ঞানপিপাসুর ধর্ম। তবে তথ্যবহনকারী ও তত্ত্ব কপচানোকারী হওয়া বা অন্যকে দেখিয়ে দেয়ার বীরত্ব প্রদর্শন যেন জ্ঞানের লক্ষ্য না হয়। নিজেকে জানা, বিশ^ব্রম্মান্ডকে জানা, মানুষের সুখ-দুঃখের কারণ জানা এবং তা সমাধানের উপায় জানা হউক জ্ঞানের উদ্দেশ্য। সত্যিকারের স্বাধীন ও শক্তিশালী জ্ঞান চর্চাকারী সেই যে পুরো পৃথিবীই খোলা কিতাব হিসেবে পাঠ করতে পারে।

পাঠক কত প্রকার হতে পারে
এবার আসেন পাঠকের বিভিন্ন রূপ নিয়ে কথা বলি। আমি কিছু মজার নাম খুঁজে পেয়েছি এবং কয়েকটা ধার করেছি। যেমন-

সর্বভুক পাঠক: এক ধরণের পাঠক আছেন যারা হচ্ছেন সর্বভুক প্রজাতির পাঠক যারা সব ধরণের বই পড়েন। অবশ্য সব সিরিয়াস পাঠক-ই শুরুতে এমন পাঠক থাকেন। অথবা পাঠ অভিরুচি তৈরিতে সবধরণের বই পড়ার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। এই বিভিন্ন ধারার, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বই পড়েই একজন পাঠকের পছন্দ ও রুচি তৈরি হয়।

দস্যু প্রজাতির পাঠক:
দস্যু প্রজাতির পাঠক অভিধাটি জর্মান দার্শনিক ফ্রেদরিক নিৎসের দেয়া। মহাত্মা নিৎসে সবচেয়ে বাঁজে ধরণের পাঠকদের কথা বলতে গিয়ে এমনতর পাঠকের কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন দস্যু প্রজাতির পাঠকেরা পড়তে গিয়ে অল্প কিছু ব্যবহার করেন আর বেশিরভাগই নষ্ট করেন। নিৎসে তার ‘মিক্সড অপিনিয়নস্ এন্ড ম্যাক্সিমস্’ (প্রকাশ ১৮৭৯) বইয়ে বলেন, ‘The worst readers are those who proceed like plundering soldiers: they pick up a few things they can use, soil and confuse the rest, and blaspheme the whole’.

পেশাদার পাঠক: এমন এক পাঠকগোষ্ঠি আছেন যাদের ভালো লাগলেও পড়তে হয়, খারাপ লাগলেও পড়তে হয়। পড়া হচ্ছে তাদের পেশা, সেটা নেশা না ও হতে পারে। আইনজীবি, ডাক্তার, পত্রিকাওয়ালা, প্রুফরিডার, টাইপরাইটার সহ এমন কিছু পেশার মানুষ রয়েছেন যারা ভালো লাগলেও পড়েন, না লাগলেও পড়েন। কেউ কেউ হয়তো প্রতিদিনই শত শত পৃষ্ঠা পড়েন। আবার পড়া যাদের বদভ্যাসের অংশ সেরকম নিয়মিত পাঠকও পেশাদার পাঠক হতে পারেন। পড়াকে তারা এমন বদভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন যে ইচ্ছে করলেও ছাড়তে পারে না। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাঠক।

মৌয়াল পাঠক: মৌয়ালরা মধুর চাক থেকে মধু সংগ্রহ করে। মৌয়াল ধারার পাঠকরা পড়া থেকে কেবল মজা নিতে চায়। এজন্য তাদের পড়ার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই থাকে মজা লওয়া। এটা দোষের কিছু না। সবধরণের পাঠকই পড়া থেকে মজা নিয়ে থাকেন।

………….
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বই উত্সব অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯ শুরু হলো। বই পড়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে মাসব্যাপী কিছু পোস্ট এবং বিভিন্ন বইয়ের উপর পরিচিতিমূলক আলোচনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি জারি রাখার আশা রাখি। আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
#জীবন-গড়তে-বই

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!