বাংলাদেশে পরনির্ভরশীলতার রূপ

Reading Time: 2 minutes

আমাদের দেশের গ্রামীণ অর্থব্যবস্থার দিকে তাকালে একটা জিনিস বেশ প্রকটাভাবে ধরা পড়ে আর তা হল পরনির্ভরশীলতা। দেখুন, জমিতে কৃষক ধান লাগাচ্ছে বা পাট লাগাচ্ছে। আর তার উপর নির্ভর করছে তার বউ, ৩/৪ টি ছেলেমেয়ে, ভাই, পিতামাতা। কেও তাকে সাহায্য করছে না বা জমিতে কাজ করছে না, পাছে লোকে কি বলে। আপনি যদি বাংলাদেশের কোন একটা গ্রামে যান একটা চিত্র দেখতে পাবেন আর তা হল কৃষকের স্নাতক সম্পন্ন ছেলেটা বসে বসে ঘাস চিবুচ্ছে আর বাজারে গিয়ে ক্যারাম খেলছে। সে তার বাবার কোন কাজেই আসছে না।

চলুন এবার খ্রীষ্টের জন্মের আগে প্রাচীন গ্রিসের স্পার্টাতে ফিরে যায়। স্পার্টানরা ছিলো যোদ্ধা জাতি। যোদ্ধা নাহয়ে উপায় ও ছিলো না। এথেন্সের সাথে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। মূলত সে যুগ ছিল লড়াই আর সংগ্রামের যুগ। সবাইকেই পরিশ্রম বা লড়াইয়ে নামতে হতো। যুদ্ধের অংশ হিসেবে স্পার্টান কিশোরদের বনে ছেড়ে দেয়া হত। নেকড়ে আর ভালুকদের হাত থেকে বেচে ফিরতে পারলে তবেই না তারা যোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেতো।

আমাদের দেশ আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের একটা প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এখানে পানি আছে আর আছে অত্যন্ত উর্বর মাটি। দেখুন উর্বর মাটি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যুদ্ধের প্রধান জ্বালানী হলো earth and water. আর এই earth যদি fertile বা উর্বর হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

আমাদের দেশে উন্নয়নের অন্তরায় কি জানেন? আমাদের এ উর্বর মাটি আর স্বাদু পানি। সিংগাপুরে মাটি কম তাই তারা প্রযুক্তি দিয়ে এগিয়েছে। ইসরায়েল তো মাটিই দখল করে ফেললো কিন্তু তারা মাটির যথেষ্ট সদব্যবহার করেছে।

আপনি তখনই শক্তিশালী হবেন যখন আপনার হাতের অস্ত্রটিকে নিয়মিত ধার দিবেন। আপনার কাছে সম্পদ আছে অথচ আপনি ফেলে রাখছেন বা বসে বসে আরামে খাচ্ছেন তো আপনার পতন অবশ্যম্ভাবী।

এমিরেটস এয়ারে আবুধাবি এয়ারপোর্টে গেলাম। অসম্ভব সুন্দর, তেলের টাকা চারিদিকে চাকচিক্যের ছড়াছড়ি। অথচ কেবিন ক্রু, বিমানবন্দরের সকল কর্মী ইন্ডিয়ান। সিকিউরিটি অফিসার আমাকে বলে – আপকা বেল্ট উতারো, চেক কারনা পারেগা।

পুরো বিমানবন্দরে কোন স্থানীয় অফিসার দেখলাম না। বিমানবন্দরেই এই অবস্থা পুরা দেশের অবস্থা তো আরো শোচনীয় হবে। তেল আছে তো টাকা উড়াও। লোক নিয়ে আসো ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ সহ আরো অন্য দেশ থেকে। আর নিজেরা মউজ মাস্তি আর ফেরারি নিয়ে ছোট।

Vikings দের নাম শুনে থাকবেন। তারা যুদ্ধের সময় পুরো একটা টিম হিসেবে কাজ করতো। পুরুষ যোদ্ধাদের পাশাপাশি নারী যোদ্ধারাও কম যেত না। এজন্য তারা ছিলো অদম্য।

আপনার পরিবার পুরো একটা টিম। সবাইকেই কাজে লাগান। অর্থাৎ যার যা দায়িত্ব তাকে তা শিখিয়ে দিন। আপনার ছেলেমেয়ে যে শুধু লেখাপড়াই করবে তা না, ধান কাটা শেখান, সংসারের অন্যান্য কাজ করা শেখান। আমরা যদি পুরো টিম হিসেবে কাজ না করি তাহলে সারাজীবন আমাদের made in china পণ্য নিয়েই থাকতে হবে। হতে হবে পরাধীনতার জালে আবদ্ধ।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!