মৃত্যুদণ্ড ও অন্যান্য বিষয়

Reading Time: 6 minutes

শাস্তি হিসেবে শুধু মৃত্যুদণ্ড দিলে ন্যায়সঙ্গত হবে না; তা পুরুষাঙ্গ কেটে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে পুরুষ’ই যেখানে নেই পুরুষাঙ্গ কাটবেন কিভাবে? সামাজিক,রাষ্ট্রীয়,দলীয় ছত্রছায়ায় মদদপুষ্ঠ হয়ে আমাদের পুরুষদের পুরুষাঙ্গ এত বড় হয়েছে যে তার সমূলে উৎপাটনের মূল পাওয়া আকাশ কুসুম কল্পনা। কে ধর্ষক,কে ধর্ষক নয় এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রশাসন বরাবর ব্যর্থ। আবার তার সাথে যুক্ত হয়েছে বিচারের নামে প্রহসন। এ প্রহসন দীর্ঘ দিনের, জন্মলগ্ন থেকে। এরিস্টটলসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী স্বাধীন বিচার বিভাগকে উল্লেখ  করেছেন, একটি রাষ্ট্রের অত্যাবশ্যকীয় স্তম্ভ স্বরূপ। আর আমরা সেই স্তম্ভকে পেয়েছি একটি রাষ্ট্র যখন আদর্শ, নীতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধে অধঃপতিত, কলঙ্কের দাগে জর্জরিত, জাতি চিন্তা চেতনায় পথভ্রষ্ট হয়ে চলার কয়েক দশক পরে। তবুও দীর্ঘদিন টানা মুসলধারে বৃষ্টির পর পূর্বাকাশে আশার সূর্যোদয় হয়েছিল কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহারে অর্ধমৃত প্রায়। হয়েছে এমনটি যে নাটাই রেখে হাতে ঘুড়ি উড়িয়েছে আকাশে। এখন এক লহমা ভেবে বলুনতো, রাজার হাতের পুতুলের কী করার থাকে?….শুধু এহাত ওহাত ছাড়া!

আর তার’ই একটি সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান নিয়ে আসবে মৃত্যুদণ্ড। আসলে’ই কি আসবে? ভেবে দেখা দরকার। নাকি তেল মারার এ মহাযজ্ঞানুষ্ঠানে আমিও একটু সামিল হব। পোঁদ ফাটে তো রাষ্ট্রের ফাঁটবে; আমার কী? হ্যাঁ আমার আছে। এ সমাজের মানুষ, রাষ্ট্রের নাগরিক। নাগরিক হিসেবে সম্মুখে দৃশ্যমান যে তিনটি পথ আপাতত খোলা তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তারপর সিদ্ধান্ত, মৃত্যুদণ্ড, মূল আইন ও কাঠামোগত সংশোধন নাকি বহাল আইনের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন, আইনটি যেন বর্তমান সময়কে মোকাবেলা করে টেকসই সমাধান দেয়।

ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত। কিন্তু দেখতে হবে যুক্তির ধোপে কতটুকু যুক্তিযুক্ত। এজন্য প্রয়োজন যথেষ্ট গবেষণা ও সমীক্ষা।আপাতত লেখায় পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তি তর্কের দিকে আগ্রসর হওয়াই শ্রেয়। তবে চিন্তাশীল ও সামগ্রিক বিষয় জানা জনমতের ছাপ থাকবে আশা করি। পূর্বে বিশেষ করে ৯০ দশকের পরে এসিড নিক্ষেপ ছিল ব্যাপক, ভয়ংকর, ধর্ষণের মত অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক ব্যাধি। এসিড নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমন আইন(২০০২)-এ মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার যথেষ্ট সফল হন।অর্থাৎ আইনটি ফলপ্রসূ হয় (যদিও সম্পূর্ণ কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে)। বিষয়টি মাথায় এঁটে এই পাশবিক বর্বর নির্মম নৈতিকতা বিরুদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডকে আমরা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছি। এদেশের অধিকাংশ মানুষ আইন জানেন না। আইন সম্পর্কে সচেতনও নয়। কিন্তু অন্তত সবাই মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে কমবেশি ওয়াকিবহাল থাকেন। এতে মানুষের মধ্যে ভয় ভীতি সঞ্চয় হবে ,অন্তত অপরাধ করার পূর্বে পরিণতি ভেবে দেখবে। ফল হিসেবে ধর্ষণ কমে আসবে। যদি তাই হয় প্রকৃতপক্ষেই ধর্ষণ কমে আসবে। কিন্তু না হওয়ার প্রশ্নে? অতীত বিশ্লেষণ করে অপর পৃষ্ঠাও অনেকে ভেবেছেন (যাদের মধ্যে অনেকে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন)। তারা বেশ কয়েকটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। যেমন-আইন কার্যকারিতার নিশ্চয়তা কতটুকু? যেখানে ২০০২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার অর্ধেক নিষ্পত্তি হয়েছে এবং এর মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ সাজা প্রাপ্ত হয়েছেন। তাও আবার শাস্তির কিঞ্চিতাংশ (প্রথম আলোর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মার্চ সংখ্যা ২০১৮, ৯ই অক্টোবর ২০২০ প্রতিবেদন ও ১১ই অক্টোবর ২০২০ শোকো ইশিকাওয়ার বিশেষ সাক্ষাৎকার )। ধর্ষণ বা গণধর্ষণের ফলে মারা গেলে অথবা গণধর্ষণে আহত হলে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন-২০০০ অনুযায়ী ধর্ষক বা ধর্ষণকারীরা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কিন্তু কয়জন হয়েছেন?

বরং বিচারবিভাগের শ্রীহীনতা (ভিক্টিমকে হেনেস্তা,সময় অসময় মামলার ডেট দেওয়া, সাক্ষীর অনিরাপত্তা, বিচারকের অভাব, অপ্রাসঙ্গিক জিজ্ঞাসাবাদ, পুলিশের হয়রানি, আর্থিক অস্বচ্ছলতা কারণ ধর্ষকরা সহায় সম্বলহীনদের সুযোগ নেয়সহ ইত্যাদি) কারণে অনেকে বিচার বিমুখ হচ্ছে। বাংলাদেশে সাজানো মামলা অহরহ ঘটেছে, ঘটছে। পারিবারিকসহ রাজনৈতিক জের ধরে বহু নিরাপরাধ মানুষ শাস্তি ভোগ করছে। যদি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হত? আবার অনেক সময় ফৌজদারি আইনের ১৬৪ ধারার অধীনে জোর পূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি  নেয়া হয়। ফলে প্রকৃতপক্ষে দোষ না করেও স্বীকার করতে বাধ্য হয়। সম্প্রতি আগষ্ট মাসে নারায়নগঞ্জে এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে।আদালতে তিনটি ছেলের জবানবন্দির পর মেয়ে ফিরে আসে। অথচ মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল ছেলে তিনটি। যদি মৃত্যুদণ্ড দিত? (২৪ ও ২৫শে আগষ্ট দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক ইনকিলাব)। অপরদিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে আইনের অপব্যবহার দীর্ঘদিনের চর্চা। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আসামী খালাস হয়ে যায়, অপরাধী হয়েও; আবার না হয়েও। যদি উদ্দেশ্য হাসিলে কাউকে লেলিয়ে দেয়া হয়? এখানে বলে রাখা ভাল,এসিড নিক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনো ক্ষমতাসীনরা সম্পূর্ণ সুযোগটি ব্যবহার করতে পারেনি। কারণ কেউ জেনেশুনে নিজের অঙ্গহানি করাতে চাইবে না। কিন্তু ক্রমশ নৈতিকতা বর্জিত এই সমাজের অনেকেই অর্থ ও ক্ষমতার সহানুভূতিতে বানোয়াট মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা করতে পারে। সেক্ষেত্রে জীবন অযাচিতভাবে বিপন্ন হবে? তাছাড়া এসিড অপরাধ দমন আইনের সাথে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনও ছিল। তাহলে কি নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিয়ন্ত্রণ আইন করা হবে?

দ্বিতীয় যে সমাধান পদ্ধতি আমাদের সম্মুখে,মূল আইন ও কাঠামোগত সংশোধন। কাঠামোগত বলতে এখানে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা। ব্যবস্থাটি অত্যন্ত হয়রানি মূলক। অভিযোগ গঠন করা থেকে শুরু করে প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত। ইনভেস্টিগেশন, সাক্ষী হাজির করা ইত্যাদিতে অভিযোগকারী অতিষ্ঠ হয়ে যায়। বিচারক ও জায়গা স্বল্পতায় আদালত বারবার ব্যর্থতার খাবি খায়। সাক্ষী,নারী ও শিশুর নিরাপত্তা দূরে থাক, অনেক তদন্তের নিরীক্ষা পর্যন্ত হয় না। এর উপরে যুক্ত হয়েছে অস্পষ্ট আইন। ব্রিটিশ আমলে রচিত বাংলাদেশ দণ্ডবিধি-১৮৬০(পেনাল কোর্ড) ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের যে সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে তা সময় অনুপযোগী। সময়ের সাথে যেমন পরিবর্তন হয়েছে অপরাধী তেমনি তার কর্মকাণ্ড। শুধু যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট হলেই ধর্ষণ এমনটি নয়। পায়ুপথ,মুখ(ওরাল)সহ স্তন, হাত যে কোনো অঙ্গ ও প্রযুক্তির অপব্যবহারও ধর্ষণের পর্যায়ের। আবার নারী পুরুষ উভয় ধর্ষণের স্বীকার হতে পারে বিষয়টি স্পষ্টকরণ। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে অনুসরণ করতে পারি। আমাদের সাক্ষ্য আইন-১৮৭২ এর ন্যায়বিচার বহির্ভূত ১৫৫(৪) ধারাটি বিলুপ্ত করতে হবে। যেখানে বলা হয়েছে,”‘কোনো ব্যক্তি যখন বলাৎকার কিংবা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হয়, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রা। “এই উপধারাকে ব্যবহার করে অভিযুক্তের আইনজীবী সাক্ষ্য আইনের ১৫১, ১৫২ ধারাকে বৈধভাবে লঙ্ঘন করে। অভিযোগকারিণীর ব্যক্তিগত, বৈবাহিক এমনকি মানসিকভাবে দুর্বল করার মত এমন সব অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে। দুর্ঘটনাপ্রসূত মামুলি ঘটনাকে সামনে এনে মূল মামলা থেকে সরে যায়। যেমন শ্রী দিনটা পাল বনাম রাষ্ট্র মামলায় 30 BLD (AD) 2010 অভিযোগকারিণীর গাছ বেয়ে ওঠাকে দুশ্চরিত্রা হিসেবে প্রমাণ করেন এবং তার সাক্ষ্যকে অগ্রহণযোগ্য ধরে নেন। অপরদিকে, ফৌজদারি আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হয় ঠিকই, কিন্তু তা জোরপূর্ব। অর্থাৎ ৩৬৪ ধারা সঠিকভাবে মান্য করা হয় না। দেখারও কেউ নেই। কিন্তু একটি সিস্টেমকে পরিবর্তন করা কি এত সহজ? এটি কি সময়-সাপেক্ষ নয়? বর্তমান পরিস্থিতিতে কি এত সময় আছে? সিস্টেম পরিবর্তনের ব্যয় কি কর্তৃপক্ষ বহন করতে পারবে? তাছাড়া পূর্বোক্ত আইন অনুযায়ী চলমান মামলা নতুন আইনে এনে মীমাংসা করতে হবে। ফলে বিচার ব্যবস্থায় নিশ্চয় কাজ বাড়বে। অপরদিকে পূর্ববর্তী মামলার রায়ে ও নতুন আইনের মামলার রায়ে বৈষম্য সৃষ্টি হবে। নতুন আইনে যারা সাজাপ্রাপ্ত নয়, তাদের কী করা হবে? জটিল সব প্রশ্ন বাতাসে ভাসমান তুলোর পেঁজার মত সামনে আসে কিন্তু সহজে দূরীভূত হয় না। দূর হলে দুঃখিনী মায়ের অপমান অপবাদ  অনেকাংশে লাঘব হবে।

এবার আসি সর্বশেষ বিবেচ্য বিষয়ে, বহাল আইনের পরিপূর্ণ সদ্ব্যবহার। নারী ও শিশু সুরক্ষায় আমাদের উল্লেখ্যযোগ্য আইনগুলো হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন(২০০০), ফৌজদারি, দণ্ডবিধি প্রমুখ। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৭ম ধারায় নারী ও শিশু অপহরণের শাস্তি, ৯ম ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণজনিত শাস্তি এবং ১০ম ধারায় যৌন নিপীড়ন ও ইত্যাদি দণ্ডের উল্লেখ করা হলেও দুই দশক প্রায় অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। কিছু বিচার হয়েছে কিন্তু অধিকাংশই হয় নি। বিশেষ করে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তকে ফৌজদারি আইনে নো ডাউট অর্থাৎ নিঃসন্দহে প্রমাণ করতে পারেনি। বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত প্রতিকূলতার কারণে সাক্ষীর অভাব বরাবর প্রমাণ ব্যর্থতার অন্যতম। যেখানে ২৪ ধারায় সাক্ষীর উপস্থিতি এবং ৩১ ধারায় নারী ও শিশুর নিরাপত্তামূলকমূলক হেফাজতের কথা বলা বলা হয়েছে। কিন্তু আদৌ কি নিরাপত্তা পায়? বরং হুমকি ধামকি এমকি বিচার না পেয়ে সামাজিকভাবে বয়কট হয়। প্রশাসন কি খবর রাখে? প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব কি হ্যাঁ/না এতটুকু? এজন্য প্রকৃত ধর্ষিতাও নির্ভরশীলতার অভাবে বিচারের অমুখাপেক্ষী। যায় যাক, পিছন দিয়ে যাক। অন্তত মাখামাখি হলো না। একজন সরকারি প্রসিকিউটর (কৌসুলি) থাকবেন দক্ষ,সৎ,কর্মনিষ্ঠ। এমন পাওয়া ভার। দলের দলান্ধ অত্যধিক নিম্নমানের আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করালে স্বভাবত দলীয় ও স্বচ্ছাতার জটিলতায় আসামি ছাড়া পেয়ে যাওয়ার কথা অনুমেয়। বস্তুত তাই হয়। এভাবে গড়ে উঠে অবিশ্বাসের জায়গা, ধর্ষকদের সাহস। এটি একদিনে হয় নি। বিভিন্ন দলের বিভিন্ন আমলে ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠেছে এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতি রোধ করতে না পারলে নতুন অস্ত্র দিয়ে কি লাভ গর্ব করা ছাড়া? মনে রাখার বিষয় মৃত্যুদণ্ড দিলেই মৃত্যুদণ্ড হয় না। উচ্চ আদালতে আপিল হয়ে কার্যকর হতে দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। স্বচ্ছতার প্রশ্নে নাকচ হয়েও যায় (স্বচ্ছতার প্রশ্ন হোক অপরাধ অথবা বিচার)। আবার বিক্রিয়ার বিপরীত হিসেবে সাক্ষীকে নিশ্চিহ্ন করতে ধর্ষিতাকে হত্যার প্রবণতাও বাড়বে। সব মিলিয়ে ঘা খেলে মানুষের হুশ হয়। ভয় সমান কার্যকর আইন। শুধু আইন নয়; আমরা এতটা সভ্য নই। দেওয়া কি হবে? নাকি বিভিন্ন গণমাধ্যম,আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের মৃত্যুদণ্ড আছে বলে বলে এই গর্ব করার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে? 

যদি গতানুগতিক না হয়ে আইন সঠিকভাবে কার্যকর করার ব্যবস্থা হয়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি লোপ পেয়ে নতুন যুগের সূচনা হবে। সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। মানুষ বিশেষত নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে। এক্ষেত্রে আমাদের লাগামটানার মত আইন রয়েছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনালও করা হয়েছে। শুধু নেই সদিচ্ছা। সদিচ্ছার লালন করে উচ্চ আদালত কতৃক নির্দেশিত পথে হাঁটলে অন্তত ১৬ অক্টোবর সমকালে প্রকাশিত টাঙ্গাইলে ৮ বছর পরে রায় সংবাদটি পড়তে হত না। জ্ঞাতার্থে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন(২০০০) ২০(৩) ধারায় ১৮০ দিন অর্থাৎ প্রায় ছয় মাসের মধ্যে  বিচারকার্য সমাপ্ত করা এবং ৩১ক ধারায় জবাবদিহিতার বিষয়টি উল্লেখিত হয়েছে। উচ্চ আদালত জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংগঠনকে মনিটরিং কমিটি করাসহ ৭ দফা নির্দেশ দিয়েছিলন। যাতে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করার কথাও উল্লেখ ছিল(১৮ই জুলাই ২০১৯,বিবিসি নিউজ বাংলা)। কিন্তু কাগজে কলমে শুধু উল্লেখ’ই রয়ে গেছে(৭ই অক্টোবর ২০২০,আমাদেরসময়)। কেউ ভ্রূক্ষেপ করে নি। 

যে সরকার-ই ক্ষমতায় আসুক, সবাই নারীর ক্ষমতায় চায়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের নারীরা এখন অনেক এগিয়ে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে? হচ্ছে কিছু অযাচিত ভূঁইফোঁড় মানুষের জন্য। দলীয় পাল্লা ভারী করতে গিয়ে পাল্লায় তুলে ফেলে স্বার্থান্বেষী,কিছু মুখোশধারী। অপরদিকে অসংস্কারের দরুনে আইন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আইন ব্যবস্থার সংস্কার সময়ের দাবি।
লেখাঃ তাহরীম তাওরাত

শিক্ষার্থী,

আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!