রাজনীতি এবং ধর্মচিন্তার সম্পর্কবিচার

Reading Time: 2 minutes

রাজনীতি এবং ধর্ম হলো মানব চিন্তা বিচরণ ক্ষেত্রগুলোর সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি ক্ষেত্র। রাজনীতি এবং ধর্ম মানুষের গভীরতম বোধ এবং মানব অস্তিত্বের স্বীকৃতি দানে সবচেয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্তগুলো ধর্ম এবং রাজনীতিই দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ধর্ম এবং রাজনীতিই মানুষের পরিচয় তৈরী করে, যা দিয়ে সে তার শারীর এবং আত্মাকে পরিচিত করে তোলে সামষ্টিক পৃথিবীতে।

যা দিয়ে মানুষ তার দুনিয়া এবং পারলৌকিক জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে সমাজ এবং রাষ্ট্রে। ধর্মের বিষয়টা হলো মানুষের আত্মা এবং পারলৌকিক জীবন সম্পর্কিত, এবং রাজনীতির বিষয়টা হলো শরীর এবং দুনিয়া সম্পর্কিত। ধর্মের বিষয়ে প্রতিটা মানুষের সমান অধিকার আছে সে কোন ধর্মের ছাতায় নিজের পরিচয় তৈরী করবে। ধর্মের নানান বিষয়াদিতে ধর্মীয় গ্রন্থ অনুধাবন করে এবং তার নিজের বুদ্ধিমত্তার আলোকে সে মত দিতে পারবে। এটা তার ঐশী অধিকার।

অন্যদিকে রাজনৈতিক অধিকার গুলো হলো ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দল মতের ছাতায় নিজের পরিচয় তৈরী করবে এ বিষয়ে সে স্বাধীন। রাষ্ট্র এবং সমাজকে নিজের মতো করে চালানোর জন্য দল তৈরী করে জনমত গঠন করে ক্ষমতায় আরোহনের অধিকারও প্রত্যেকের আছে। রাষ্ট্রের নীতি আদর্শ সংবিধান তৈরীর অধিকারও প্রত্যেকের সমান।

রাষ্ট্রের প্রধান কে হবে সে বিষয়েও প্রত্যেকের মত দেয়ার ঐশী অধিকার আছে। মানুষের আত্মা বা পারলৌকিক জগত এবং শরীর বা বস্তুজগতের এই বিষয়গুলো নিয়ে ডিল করে ধর্মগুরু এবং রাজনীতিবিদ গণ। তারা মাঝে মাঝে মানুষকে তার ঐশী অধিকার থেকে বঞ্চিত করে গড়ে তোলে মোল্লাতন্ত্র এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা।

যে মোল্লাতান্ত্রিক ব্যবস্থা মানুষকে আত্মা এবং পারলৌকিক জগত সম্পর্কিত বিষয়ে মত দেয়ার অধিকার হরণ করে। তারা বলে মানুষ এতো জটিল বিষয়ে মত দেয়ার অযোগ্য। তারাই কেবল মত দেয়ার একমাত্র অধিকার এবং যোগ্যতা রাখে। এর মধ্য দিয়ে তারা সাধারণ মানুষদেরকে মানুষের শ্রেণি থেকে সরিয়ে পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়। তারা মানুষের ভেতরকার যুক্তি বুদ্ধি এবং ঐশী চেতনার বিষয়টাকে অস্বীকার করে মানুষকে ডি-হিউমেনাইজ করে।

অন্য দিকে স্বৈরাচারী শাসক মানুষের সকল রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে মানুষের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালায়। তারাও মানুষের ভেতরকার যুক্তি বুদ্ধি এবং ঐশী চেতনার বিষয়টাকে অস্বীকার করে। তারা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি নির্ধারণের অধিকার হরণ করে।
এবং তারা নিজেদেরকেই কেবল এই রাজনৈতিক বিষয় গুলোর যোগ্য ভাবে। এতে করে তারা সাধারণ জনগণকে মানুষের স্তর থেকে নামিয়ে এনিমেলাইজ করে অর্থাৎ পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়।

এই মোল্লাতন্ত্র এবং স্বৈরতন্ত্র উভয়ে মিলে মানুষের দুনিয়া এবং পরকালীন পরিচয় গুলো লুট করে। মানুষকে পরিচয়হীন করে কেবল তাদের গোলাম করে রাখে। সাধারণ মানুষকে পরিচয়হীন অধিকারহীন করার ক্ষেত্রে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে কাজ করে।
যদিও সাধারণ মানুষ খোলা চোখে তাদের এই অবস্থান আচ করতে পারে না। আচ না করতে পারার জন্যই তারা নানান ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক দিবস উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এতে করে জনগণ আমোদ ফুর্তির এবং ছওয়াবের ছদ্মবেশে তাদের মূল শত্রুকে ভুলে যায়।

Arif Rahman

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!