বুক রিভিউ-গল্পে গল্পে অনুজীব আবিষ্কার

Reading Time: 2 minutes
সঞ্জয় মুখার্জীর গল্পে গল্পে অনুজীব আবিষ্কার পড়লাম সম্প্রতি । খুবই সহজ করে লেখা এ বই পড়তে ঘন্টাখানেক ও লাগবে না ।

মূলত বাচ্চাদের পড়ার জন্যই বইটা ডিজাইন করা। পাতায় পাতায় রঙ্গিন ছবি। এক চাচা তার ৮/১০ বছরের ভাতিজা-ভাতিঝিকে গল্পের ছলে ভাইরাস -ব্যাকটেরিয়া-ছত্রাক সম্পর্কে জানিয়েছেন এই বইতে। আসিফ আর টুনটুনির সাথে সাথে আমরাও জেনে অবাক হই , ১৬৫০ সালে লিউয়েন হুকের অনুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের আগে কেউ ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়া বা ক্ষুদ্র অনুজীবের কথা জানতাম না ।

তারপর আমরা একে একে জানলাম জলাতংক’র টীকা আবিষ্কারের গল্প,ইংল্যন্ডের হাসপাতালের গাইনি ডাক্তারদের ভুল চিকিতসার ইতিহাস, এডোয়ার্ড জেনার এর গুটিবসন্ত প্রতিরোধের গল্প, আমেরিকার এ্যানথ্রাক্স পাউডার নামক জীবানু অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করার ঘটনা। ।

কোনো প্রানী কি এমনি এমনি তৈরি হতে পারে, নাকি জড় বস্তু থেকে তৈরি হতে পারে, নাকি অবশ্যই একটি জীব থেকেই জীবনের উতপত্তি হয়–সেই জটিল প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। জানতে পারি ”স্বতস্ফুর্ত উতপত্তি” তত্ত্ব এবং এর বিরোধীতা সম্পর্কে।

প্রচুর বিজ্ঞানীর সাথে আমাদের পরিচয় ঘটে। পাগলাটে লুই পাস্তুরকে আমরা চিনলাম, যার নাম অনুসারে পাস্তুরিত তরল দুখ আমরা খাই । জীবানুর ভয়ে এই লুই পাস্তুর কখনো কারো সাথে হ্যান্ড শেক করতেন না । এখনকার সময়েও করোনার ভয়ে আমরা সবাই লুই পাস্তুর হয়ে গেছি 🙂

জানতে পারলাম , পেনিসিলিয়াম নামক এ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারক আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং সম্পর্কে, যিনি পেনিসিলিন আবিষ্কার করে নোবেল প্রাইজ জিতে বলেছিলেন, আমার এখানে কোনো অবদান নেই ,এ্যাক্সিডেন্টালি আবিষ্কার হয়ে গেছে 🙂

শুধু ডাক্তার বা বিজ্ঞানীরাই নন, বইয়ের পাতায় পাতায় মহানায়ক হিসেবে উঠে এসেছেন অনেক সাধারন মানুষ ও। এডওয়ার্ড জেনার যখন পক্স এর ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করলেন, তখন সেটা টেস্ট করার জন্য কোনো ভলান্টিয়ার খুজে পাচ্ছিলেন না । কেউ রাজি হচ্ছিল না নিজের শরীরে পক্সের জীবানু গ্রহন করতে। তখন জেনারের বাড়ির কাজের লোক জেমস ফিপস নিজের ছেলেকে গিনিপিগ বানাতে রাজি হয়েছিলেন । তার এই সাহসি উদ্যোগের ফলেই পক্সের ভ্যাক্সিন তৈরি হল।

সেটা ছিল বিশ্বের প্রথম ভ্যাক্সিন, ১৭৫০ সালের ঘটনা। তারপর সেই সিস্টেমেই একের পর এক আরো ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হতে লাগল।

এসব মহান মানষদের কথা জেনে যখন মানব জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভাবি, তখন আবার মানুষের নির্বুদ্ধিতার কথা জানালেন টুকটুকির মা।

আমরা দৈনন্দিন জীবনে হুদা কামে প্রচুর এন্টিবায়োটিক খাই। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বা ঠিকমত ফুল কোর্স ওষুধ না খেলে ব্যাক্টেরিয়াটি বিবর্তনের মাধ্যমে ”ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া” তে পরিনত হয়, তখন সেটাকে থামানোর আর কোনো উপায় থাকেনা। ”এ্যন্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট” রোগগুলা বর্তমান সময়ে ডাক্তারদের জন্য অনেক বড় একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে।

সঞ্জয় মুখার্জী বর্তমানে অধ্যাপনা করছেন নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে,অনুজীববিজ্ঞান বিভাগে। এক ঘন্টা সময় ইনভেস্ট করে অজানা অনেক কিছুই জানতে পারলাম। আপনিও করোনার এই সিজনে প্রাসঙ্গিক বইটা পড়ে ফেলতে পারেন
———————-
Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!