ইংরেজি সাহিত্যে রেনেসাঁ: উত্থানপর্ব

Reading Time: 2 minutes

ইংরেজি সাহিত্যে রেনেসাঁ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে পুরো ইউরোপীয় মানচিত্র নিয়েই আলোচনা করতে হবে। কারণ রেনেসাঁ ইউরোপের সবগুলো প্রধান দেশকেই নাড়া দিয়েছিল এবং একটি দেশ অন্য দেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়ভাবে প্রভাবিত করেছে। ভাষাগত, প্রকরণগত, ভাবগত দিক দিয়ে এক দেশের বা ভাষার সাহিত্য অন্য দেশ বা ভাষার সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে। ইউরোপীয় সবগুলো দেশ বা ভাষার সাহিত্য দুটো মূল উৎস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে অাসছে আর সেটা হলো গ্রীক ও রোমান সাহিত্য।
ইউরোপের প্রায় সব ভাষা ও সাহিত্য গ্রীক ও রোমানকে নিজেদের কমন ঐতিহ্য ও গর্বিত উত্তরাধিকার মনে করে।

মধ্যযুগের ইউরোপ ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। বিভিন্ন ছোট ছোট অংশে বিভক্ত রাজ্যগুলো একে অন্যের সাথে রক্তারক্তি করে কাটিয়েছে। আর ধর্মের নামে চেপে বসা পোপতন্ত্র ইউরোপীয়ানদের বন্দি করে রেখেছিল এক ধরণের মানসিক দাসত্বে। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক প্রায় সব জিনিসই নিয়ন্ত্রণ করতো পোপতন্ত্র। ক্ষমতার মধু মৌসুমে ইউরোপের এক তৃতীয়াংশ আবাদযোগ্য জমি নাকি চার্চের অধীনে চলে গিয়েছিল।


এদিকে দশম শতক থেকে আরব মুসলমানদের সাথে কয়েক শতকব্যাপী ক্রুসেডের সূত্রপাত ঘটায় ইউরোপের শক্তি ঘরগুলো। কয়েক শতাব্দী ধরে পবিত্র ভূমি জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে বিরতি দিয়ে দিয়ে ক্রুসেড চলতে থাকে। যুদ্ধ সংযোগের ফলে শুধু তাদের মধ্যে রক্তের লেনদেনই হয়নি, নিজেদের পরিচয়ও হয়েছে। যুদ্ধে শত্রুকে জানতে গিয়ে শত্রুর ভাষা, জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে সম্বন্ধ স্থাপিত হয়েছে। পরিচয় হয়েছে ইউরোপে দীর্ঘকাল চাপা পরে থাকা গ্রীক জ্ঞানের সাথে। নিজ ভূগোলের সাথে পরিচয় হলো অন্য ভূখণ্ডে এসে।

এর মাধ্যমে ইউরোপে রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণের সূত্রপাত হলো।


রেনেসাঁর প্রথম বাতিঘর স্থাপিত হয়েছিল ইতালিতে। চতুর্দশ শতকের শুরুতে ইতালিতে রেনেসাঁর সূত্রপাত হয় বলে বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের ঐকমত্য রয়েছে। চিত্র ও ভাস্কর্যের জন্য সময়টা ছিল সবচেয়ে উর্বর। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো ও রাফায়েলের কাজগুলো কালজয়ী কাজ হয়েছে। দান্তে, পেত্রার্ক ও বোকাচিও সাহিত্যে অনন্য অবদান রেখেছেন। তাদের কাজগুলো ইংরেজি সাহিত্যসহ ইউরোপীয় প্রায় সবগুলো সাহিত্যকে প্রভাবিত করেছে।
ইংরেজি কবিতার জনক হিসেবে পরিচিত জিওফ্রে চসার তার মধ্যবয়সে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন ইতালিতে। তখন পেত্রার্ক, বোকাচিওদের সাথে তার সাক্ষাত হয়েছে বলে মনে করা হয়।
পেত্রার্কের কাব্যভঙ্গি আর বোকাচিওর ‘ডেকামেরন’ এর সুস্পষ্ট প্রভাব আমরা দেখবো চসারের কবিতায়।


অার ভাষাগত দিক থেকে একাদশ শতক পরবর্তী সময়ে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি যে ভাষার শব্দ প্রবেশ করেছে সেটা হলো ফরাসি। ১০৬৬ সালে নরম্যান বিজেতা উইলিয়াম ‘হেস্টিংস যুদ্ধ’ জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড দখল করে ফেলে। ১৪৮৫ সালে টিউডর রাজত্বের শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত নরম্যানরা ছিল ক্ষমতায়।
ফ্রান্সের নরমান্ডি থেকে আসা এই ‘উত্তরের মানুষেরা'(নর্থ ম্যান)রা শুধু ক্ষমতা কঠামোই নয় ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে শক্তিশালী ভূমিকা রেখে যায়। ফরাসি শব্দের অতি উপস্থিতিতে ইংরেজি শব্দভাণ্ডার সবল হয়ে উঠে।

রেনেসাঁর শক্ত পাটাতনে দাড়িয়ে টিউডর রাজত্বে (১৪৮৫-১৬০৩) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য মাথা তুলে দাড়ায়। শুরু হয় ইংরেজ জাতি, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের উত্থানপর্ব।

#ইংরেজি-সাহিত্যের-ইতিহাস, দ্বিতীয় সংস্করণ, প্রথম খসরা

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!