ইতিবাচক ও নেতিবাচক মানুষ চেনার ৬ দিক

Reading Time: 3 minutes

অনেকেই এটা নিয়ে সচেতন নয় যে চিন্তা আসক্তির মতো একটি ব্যাপার। অনেকটা অবচেতনেই চিন্তা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য আমাদের চিন্তা নিয়ে যদি চিন্তা না করি তাহলে কে চিন্তা করবে?কিছু কিছু চিন্তা থাকে যেগুলো ইতিবাচক সেগুলো খারাপ নয়। কিন্তু চিন্তা যদি নিয়মিতই নেতিবাচক থাকে তাহলে এর ফল কিন্তু ক্ষতিকর হবে। নিজের আত্মসম্মানবোধ কমা থেকে শুরু করে জীবনে অনেক সমস্যা নিয়ে আসবে। নেতিবাচক মানুষদের সঙ্গ মানুষ উপভোগ করে না। এজন্য বেশিরভাগ মানুষই তাদেরকে এড়িয়ে চলে।

নেতিবাচক মানুষদের সঙ্গ পায় অপর নেতিবাচক মানুষই! কিন্তু একসময় তারা একে অন্যের উপস্থিতি নিয়েও বিরক্ত হয়ে যায়। ধরেন, দুইজন নেতিবাচক লোক একে অন্যের সাথে কথা বলা শুরু করলো। তারা দুনিয়ার তাবৎ বিষয় নিয়ে নেতিবাচক কথা বলতে শুরু করলো আর বলতে লাগলো কোন কিছুই ভালো লাগে না। একসময় দেখা যাবে দুজন নেতিবাচক ব্যক্তি একে অন্যের ব্যাপারেও বিরক্ত হওয়া শুরু করবে। দুই নেতিবাচক ব্যক্তি কখনো একে অন্যের সঙ্গ দীর্ঘক্ষণ উপভোগ করতে পারবে না! নেতিবাচক লোকেরা একাকী হয়ে যান। এই একাকীত্ব আবার জন্ম দেয় হতাশা, অসন্তোষ ও কষ্টের জন্ম দেয়। এই ব্যর্থতা ও হতাশার চক্র থেকে বের হতে না পেরে জীবন সমুদ্রে হামাগুড়ি দেয়, গন্তব্যে পৌছতে পারে না।

আপনি ইতিবাচক না নেতিবাচক তা জানার জন্য নিচের ৬টি গুণের দিকে খেয়াল করতে পারেন।

১. ঝুঁকি বনাম নিরাপত্তা
নেতিবাচক চিন্তার মানুষ পরিবর্তনকে অপছন্দ করে। পরিকল্পনার বরখেলাপ তাদের মধ্যে চাপের সৃষ্টি করে। এ অনুভূতিটা যে করেই হউক এড়াতে চায়। তারা পরিচিত দুনিয়া ও চিরাচরিত রীতি নীতির মধ্যে আরাম পায়। কমফোর্ট জোনে থাকতে তারা কমফোর্টেবল! এবং কোন পরিবর্তন না হলে তারা সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এটা তাদেরকে বিভিন্নভাবে আটকে রাখে। এর ফলে তারা বিকশিত হতে পারে না, শিখতে পারে না এবং ব্যাক্তি হিসেবে উন্নতি করতে পারেনা। এই দুনিয়ার এত যে সৌন্দর্য তার বড় অংশই উপভোগ করতে পারে না।

আর ইতিবাচক লোক জীবনটাকে একটি দুঃসাহসী অভিযান হিসেবে নেয়। তারা নতুন নতুন অভিজ্ঞতা নিতে পছন্দ করে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করে বাঁচতে চায়। এজন্য তারা তাদের কমফোর্ট জোন থেকে বেড়িয়ে আসতে পছন্দ করে। তারা পরিবর্তনকে নিজেদের বিকশিত করার উপায় হিসেবে নেয় কর্তৃত্ব হারিয়ে যাওয়া নয়।

২. শক্তিকে উদযাপন করা বনাম দুর্বলতাকে প্রকাশ করে দেওয়া
নেতিবাচক লোক অন্যের দুর্বলতা প্রকাশ এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে। ব্যাপারটা এমন নয় তারা অনেক খারাপ লোক। তাদের ভেতরকার সমস্যাটা হচ্ছে অন্যের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা আত্মতুষ্টি লাভ করে এবং নিজের দুর্বলতা বা ব্যর্থতার পক্ষে আত্মসমর্থন লাভ করে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা তাদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাদের নেতিবাচক চিন্তা তাদেরকে আরও জঘন্য লোকে পরিণত করে।

আর ইতিবাচক লোক অন্য লোকের সফলতা ও সক্ষমতাকে প্রশংসা করে। তারা এটা করলে নিজেদেরকে নিয়ে অনিরাপত্তায় ভুগেনা কারণ তারা তাদের আইডেন্টিটি ও মূল্য সম্পর্কে সচেতন। তারা তাদের শক্তির জায়গাতে জোর দেয় এবং দুর্বলতা নিয়েও সচেতন থাকে। তারা এটা অনুভব করে কেউই একেবারে পারফেক্ট নয় আবার এটা নিয়ে অহেতুক কষ্ট পাওয়ারও দরকার নেই।

৩. বহির্মুখিতা বনাম আত্মকেন্দ্রিকতা
একটা লেভেল পর্যন্ত আমরা সবাই নার্সিসিস্ট। আমরা জীবন থেকে কি চাই কিভাবে পেতে চাই সেটা নিয়ে সময় দিই। তবে ইতিবাচক মানুষ নিজেদের প্রয়োজন ও অন্যদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য করতে পারে। তারা সবসময় তাদের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের আবেগ, তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এবং যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করে। অন্যকে কোন কিছুতে সফল করার মধ্যে, অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আরও বেশি ইতিবাচক চিন্তা নিয়ে আসে।

আর নেতিবাচক লোক সবসময় নিজেদেরকেই নিয়ে ভাবে। নিজেদেরকে নিয়ে কি ভাবছে, তাদের কোন প্রয়োজনটা পূরণ হলো বা হলো না। যে কোন একটা কাজ বা উদ্যোগে তাদের নিজেদের কি লাভ হলো এটা নিয়ে চিন্তা করে। তারা যদি মনে করে কোন একটা উদ্যোগ থেকে তাদের ব্যক্তিগত কোন লাভ নেই তাহলে তারা সেটা এড়িয়ে চলবে। অন্যদের কাজে যুক্ত হওয়া বা অন্যদেরকে কোন সহায়তা করার ব্যাপারে তারা খুবই কিপটে কারণ তারা সেখানে নিজেদের কোন লাভ দেখে না। তারা আশপাশে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চান তবে তাদের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে।

৪. প্রতিক্রিয়া বনাম সমালোচনা
নেতিবাচক লোক যেকোন ধরণের ফিডব্যাক বা প্রতিক্রিয়াকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেয়। তারা প্রতিক্রিয়াকে ভালোভাবে নিতে পারে না। যদিও তারা অন্যকে সমালোচনার বেলায় একটু দ্রুতই করে ফেলে।
ইতিবাচক লোক যেকোন প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাককে স্বাভাবিকভাবেই নেয়। তারা সেই ফিডব্যাকের উপর মূল্যায়ন ও বিচার শুরু করে। নির্মোহভাবে যাচাই করে সেটা কতটুকু সত্য। তারপর প্রয়োজন মতো পরিবর্তন বা না পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

৫. অনুতপ্ত বনাম উদ্ধত
ভুল করতে বা ভুলে পড়তে ঘৃণা করে নেতিবাচক লোক। এজন্য তারা যদি কোন ভুল করেও ফেলে সেটা স্বীকার করতে এবং এর জন্য ক্ষমা চাইতে কুণ্ঠা বোধ করে। তারা নিজেদের ভুল অনুভব করে কিন্তু সঠিক থাকা তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক থাকার বিষয়টি তাদেরকে এই অনুভূতি দেয় তারা অনেক বুদ্ধিমান এবং তারা পৃথিবীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আর ইতিবাচক লোক মনে করে তারা ভুল করতে পারে এবং ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনাও করতে হতে পারে। আর একটি ভুল বা ভুল স্বীকার তাদের আত্মমর্যাদাকে কমিয়ে দিতে পারে না।

৬. স্বপ্রণোধিত বনাম জীবনমুখী
নেতিবাচক লোক প্রায়ই জীবনকে নিজেদের উপর চড়িয়ে দিতে পছন্দ করে। জীবনের নৌকার নিয়ন্ত্রণ বা বৈঠা নিতে চায় না বা অসমর্থ। তারা স্রোতকে অনুসরণ করে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিপার্শিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে নারাজ। এর কারণটা আসলে তারা পরিবর্তন অপছন্দ করে।

নিজেদের ব্যর্থতা বা পরাজয়টাকে অন্যের কাজ বলে মনে করে। নিজেদেরকে পরিস্থিতির শিকার বলে মনে করে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন দায়ভার নেই বলে মনে করে। এজন্য দেখা গেছে তারা তাদের নিজের ভবিষ্যত নিজে নির্মাণ করতে পারে না।

ইতিবাচক লোক ভাগ্যের আশায় বসে থাকে না। তারা তাদের নিজের জীবনের দায়িত্ব নেয় এবং জীবনে ঘটনা ঘটায়। তারা তাদের জীবনে ঘটনা ঘটার আশায় বসে থাকে না। তারা লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেটা অর্জনের জন্য কর্মসূচী নেয়। তারা আসলে তাদের জীবনের সিইও (প্রধান নির্বাহী)।

টাইমস্ অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে সাবিদিন ইব্রাহিম

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!