ইমোটিকন ব্যবহারের সাতকাহন

Reading Time: 2 minutes

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর মধ্যে ফেসবুক খুবই জনপ্রিয়। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই ফেসবুকে আসক্ত। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনাই শেয়ার করে ফেসবুকে। শেয়ারকারীর বন্ধু- বান্ধবী, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাংখীরা লাইক, কমেন্ট, ইমোটিকন দিয়ে শেয়ারকৃত বিষয়ের প্রতি নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে।

পছন্দ, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, হাহা, ওয়াও, দুঃখ আর রাগ এই সাতটি ইমোটিকন দিয়েই ফেসবুকের যে কোন লেখা বা ছবিতে আবেগ বা অনুভুতি প্রকাশ করা হয়। প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দ্য ভার্জ’ এর নিবন্ধ অনুসারে, ফেসবুক থেকে শুরু করে টুইটার, স্ন্যাপচ্যাটের ৮০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহারকারী ইমোটিকন ব্যবহার করে।

ফেসবুকের কোন ছবিতে বা কোন পোষ্টে নিজের আবেগ-অনুভুতি প্রকাশের সময় একটু দেখে শুনে ইমোটিকন ব্যবহার করা দরকার। কেননা ইমোটিকনের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না হলে অনেক ক্ষেত্রেই তা বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এই ধরুন, একজন নতুন বিসিএস ক্যাডার তার কর্মজীবনের প্রথম দিনের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছে, আর আপনি না বুঝেই তার ছবিতে রাগের ইমোটিকন ব্যবহার করলেন, তাতে করে ঐ ক্যাডার ও তার ফলোয়ারেরা বিরক্ত হতে পারে। আপনার একটি ইমোটিকনই তার জীবন কে অতিষ্ঠ করে তুলতে পারে, অথচ আপনি কোনভাবেই সেটি করতে চান নি।

অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে ইমোটিকন ব্যবহার অবিবেচক আচরণ ও অসচেতনতাই প্রকাশ করে। এরকম একটি তুচ্ছ ঘটনার মাধ্যমেই নিজের অসচেতনতা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাও প্রকাশিত হয়। প্রকাশ করে নিজের মনের দুর্বলতাও।

তাই ছোট – বড় সবার পোষ্টে ইমোটিকন ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়ার দিকে খেয়াল রাখা দরকার। আপনার ব্যবহার করা ইমোটিকন দিয়েই অন্যরা আপনার বুদ্ধিমত্তা আর বিবেচনার মাত্রা মেপে নেওয়ার সুযোগ পায়। সে ক্ষেত্রে নিজেকে হাস্যকর কিংবা অবিবেচক হিসাবে প্রকাশ করা নিশ্চয় আপনার কাম্য নয়।

সুতরাং প্রত্যেকের উচিত ইমোটিকনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যকে বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখিন করা থেকে বিরত থাকা এবং নিজের বুদ্ধিমত্তার সঠিক পরিচয় দেওয়া।

 

লেখক : জাহানুর ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!