একাত্তরের দিন গুলোতে জাহানারা ইমাম

Reading Time: 2 minutes

বিভিন্ন সংগঠনের মধ্য দিয়ে ও নিজের অধীত জ্ঞান মানুষের মনোজগতে পৌছে দেয়া যায় -এমন সকল নির্যাস ই পাওয়া তাঁর কাছ থেকে। তিনি এক মুক্তিযোদ্ধার মা, সংগ্রামী দেশপ্রমিকের স্ত্রী এবং দৃড়চেতা বাঙালী নারী জাহানারা ইমাম। কোন বুকফাটা আর্তনাদ বা অস্থির হাহাকারে নয় বরং গোঁলাপকুড়ির মত মেলে ধরেছেন জীবনের দুঃখগুলোকে। খন্ড খন্ড অগণিত দুঃখের মিলনে যে মালা গেথেছেন তার হৃদয়চিত্র প্রস্ফুটিত হয়েছে “একাত্তরের দিনগুলি” তে। যেখানে স্থান পেয়েছে ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ সোমবার থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তের টান টান উত্তেজনার প্রত্যক্ষ বিবরণ।

লেখিকার পুত্রের সাথে ছিল তার বন্ধুসুলভ সম্পর্ক। সারাদিনের কর্মযজ্ঞ শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর ক্লান্তিহীন ভাবে মাকে যেন সব বলতে হবে রুমির। কথায় কথায় ইংরেজী বাংলার উদ্ধৃতি ব্যবহার করা ছেলেটি ২ মার্চ বাড়ি এসে বরাবরের মতই মাকে সব বর্ণনা দিতে লাগলেন। লেখিকা নতুন পতাকার নাম শুনে তা কেমন দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করলে রুমি একখন্ড কাগজ আর কয়েকটা রঙিন পেন্সিল বের বের করে সেখানে সবুজের উপর লাল গোলাকার সূর্য তার মধ্যে হলুদ রঙে পূর্ব বাংলার ম্যাপ একে দেখাল।

তবে এ বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের মাঝেও ছেলের জন্য প্রাণটা সব সময় হাতে থাকত লেখিকার। কারন যেভাবে চেয়ারে স্বাধীকার স্বাধীনতা নিয়ে চেয়ারে চেয়ারে বাকবিতন্ডা চলছে কখন যেন কোনদিক থেকে আচমকা একটি গুলি এসে ছিন্ন করে দেয় রুমির হৃদয়টাকে। জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে একটি গুলির ব্যাবধান মাত্র।

ছেলের আলোচনার পরিধি নিয়ে সন্তুষ্টি কাজ করত লেখিকার মধ্যে। মাও সেতুং, এঙ্গেল্স, লেনিনদের নিয়ে এত স্বচ্ছ ধারণা তার আশেপাশে অনেকেই জানত না। ছোট ভাই শুধু চেগুয়েভেরার কথা আসলেই একটু আধটু লাফিয়ে উঠত।

মে মাসের দিকে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার একটি হল রক্ত স্থানান্তর। সুস্থ মানুষ গুলোকে ধরে নিয়ে পাক আর্মিরা শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু টুকুও নিয় নিত রাবারের সিরিঞ্জ ব্যবহার করে।

১৫জুন রুমি বাড়ি ছাড়ার ৪৮ দিন পর যখন বাড়ি আসে তখন যেন এক নতুন রুমিকে আবিষ্কার করেন জাহানারা ইমাম। সিগারেট খাওয়া, উসখোখুসকো চুল,ঠিক মত সেভ না করা এক অগোছালো রুমি। দীর্ঘদিন ট্রেইনিংয়ে থাকা ছেলের গল্প গুলো শুনে যেন অনেক ভাবনার জালে আবদ্ধ হন লেখিকা। সব সময় ফ্রিজে একগাদা খাবার রান্না করে রাখেন আর রুমির বন্ধুরা এলে তাদের যত্ন করে খাবারের ব্যবস্থা করেন।

নিজের বাড়ি থেকে রুমিসহ তার বন্ধুদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে সবার খোঁজ মিলে কিন্তু রুমি আর ফিরে আসে নি। জামির জন্মদিন, ঈদ, নিজেদের বিবাহবার্ষিকী, রুমির জন্মদিন সব কিছুতেই স্থবিরতা চলে আসে। আর একটু একটু করে রুমির বন্ধুরাই হয়ে পাশে থাকে লেখিকার। একজন রুমির মা হয়ে উঠেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম।

No automatic alt text available.
Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!