করোনা লকডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা হ্রাস!

Reading Time: 3 minutes

বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শপিং মল, গির্জা বন্ধ হওয়া পরবর্তী সময়ের সঙ্গে ২০১৯ সালের তুলনা করে দেখা গেছে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর এ সময়টাতে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলা কমেছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছুটা মন্দের ভালো হিসেবে দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি বন্দুক হামলা হয়েছে। সাধারণত ডজনখানেক হতাহত হলে বা মারা গেলে বিশ্ব গণমাধ্যমে খবরটি আসে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসেই গড়ে শতাধিক ছোটবড় বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে।


যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় মানুষজনকে বাড়িতে আশ্রয় করতে বাধ্য করার ফলে কভিড-১৯ সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা যেমন কমেছে তেমনি বন্দুক হামলায় হতাহতের সংখ্যাও ‘কিঞ্চিত’ কমেছে।

গত পাঁচ বছরের তুলনায় এপ্রিলে বন্দুক হামলার হার

আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত সহিংসতার উপাত্ত বিশ্লেষণকারী এক সংস্থার বরাতে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গির্জা, শপিং মল, রেস্তোরাঁ, স্কুল ও পার্কসহ বেশিরভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার সংখ্যা গত এপ্রিলে ২৪ শতাংশ কমেছে। গত মাসে বন্দুক বা আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধি সত্ত্বেও হামলার সংখ্যা কমেছে।
রাজ্য ও শহরগুলি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ব্যাপকভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের কারণে আহতের সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ২৫ টি বন্দুক হামলা হয়েছে যাতে ২২ জন নিহত এবং ৮৯ জন আহত হয়েছে। গত বছর একই মাসে ৩৩ টি হামলায় ২৫ জন নিহত ও ১৩০ জন আহত হয়েছিল। গত এপ্রিলে আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা ২০১৫ পরবর্তী সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ। সংস্থাটি ২০১৩ থেকে এই ধরনের ঘটনার উপর নজর রাখছে। ম্যাস শুটিং বা বেপরোয় বন্দুক হামলা বলতে একটি হামলার ঘটনায় হামলাকারী বাদে অন্তত চারজন বা তারো বেশি মানুষের উপর হামলাকে বুঝানো হয়।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ টি বন্দুক হামলা হয়েছে

ব্রাডি ক্যাম্পেইন টু প্রিভেন্ট গান ভায়োলেন্স এর কর্মসূচিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাইলিয়ান হান্টার বলেন, বেপরোয়া বন্দুক হামলা কমতে একটি মহামারীর প্রয়োজন হলো যেখানে মানুষের জীবন বিঘ্নিত হলো এবং ঘর থেকে বের হতে না পেরে সারাদিন ঘরে অবস্থান অবস্থান করছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে হেলিকপ্টার পাইলট হিসাবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই মেরিন সেনা আরো বলেন, আমি মনে করি আমরা সকলেই এ বিষয়ে একমত হতে পারি যে এবাবে আমরা আমাদের জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে চাই না।

গত পাঁচ বছরের তুলনায় মার্চে ম্যাস শুটিং বা বন্দুক হামলার হার

এপ্রিলের তুলনায় মার্চের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। যখন দেশব্যাপী এই শাটডাউন কার্যকর হতে শুরু করেছিল তখন এক বছর আগের তুলনায় মার্চে গোলাগুলি, মৃত্যু ও হতাহতের পরিমাণ ২৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। ২০২০ সালে এ পর্যন্ত ম্যাস শুটিং বা বন্দুক হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৭টি যা গত বছরের হামলার সংখ্যার দিকে আগাচ্ছে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ এই জাতীয় ঘটনার উপাত্ত সংরক্ষন শুরুর পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল নাগাদ বন্দুক হামলার বিপরীতে পূর্ববর্তী পাঁচ বছরের উপাত্ত

মহামারীটিতে প্রত্যাশিত বন্দুক বিক্রি বেড়েছে। ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) ন্যাশনাল ইনস্ট্যান্ট ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড চেক সিস্টেম ডান বাই স্মল আর্মস বিশ্লেষণে দেখা গেছে গত মার্চে আগ্নোয়াস্ত্র বিক্রি ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধির পর এপ্রিলেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অস্ত্র বিক্রি বেড়েছে ৭১ শতাংশ। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র সরকার বন্দুক বিক্রির উপাত্ত সংরক্ষন করে না কিন্তু এফবিআইয়ের ব্যবস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র শিল্পের বিক্রির প্রক্সি উপাত্ত সরবরাহকারীর ভূমিকা পালন করছে এফবিআই।

হান্টার বলেন, মানুষ যখন ফের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে তখন কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।
চলতি বছরের এপ্রিল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে ৯৬ টি বন্দুক হামলা হয়েছে এবং এতে ১০৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় তা মাত্র অল্প কমেছে। গত বছরে একই সময়ে ১০০ টি বন্দুক হামলায় ১১৮ জন প্রাণ হারিয়েছিল।

ছবি: গেটি ইমেজেস

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!