ক্লাসিকের পাতায় এথেন্স ভ্রমন!

Reading Time: 2 minutes

জ্ঞান চর্চা সমুন্নত রাখার এবং তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেবার একটি অন্যতম মাধ্যম হলো এটি নিয়ে আলোচনা করা। একাকি বই পড়ে নিজের তথ্যের বাক্স খানিকটা সমৃদ্ধ করা যায় সত্য, কিন্তু তা দিয়ে সমাজের কোন উন্নয়ন করা যায় না। আর এই চিন্তাধারা বুকে লালন করে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম তাদের নিয়মিত জ্ঞান চর্চার একটি শাখা হিসেবে গ্রহন করেছে ‘বুক টক এবং আইডিয়া টক’

গতকাল মঙ্গলবার, নির্ধারিত কার্যক্রম অনুযায়ী জমে উঠেছিল বিডিএসএফ এর বুক টক আড্ডা। গতদিনের ‌আড্ডায় মূলত স্থান পায় ক্লাসিক বুক সিরিজের বইগুলো। প্রথমেই ‘সোফির জগৎ’ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন মাহফুজ আব্দুল্লাহ। তিনি বইটির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দর্শনের অস্তিত্ববাদের কথা তুলে ধরেন।

এরপর ‘সক্রেটিসের জবানবন্দী’ বইটির আলোচনা তুলে ধরে আড্ডার রসদ বাড়িয়ে দেন সাগর বড়ুয়া। তিনি অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে সক্রেটিসের জবানবন্দীর প্রেক্ষাপট এবং ‘হেমলক’ পান করানোর কারণ তুলে ধরবার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে আড্ডায় যোগ দেন আব্দুল হাকিম আবির (আতা গাছ!)। সক্রেটিসের জীবন পাঠের মাধ্যমে কী অনুসন্ধান করবার আছে? অথবা তাঁর জীবন থেকে কী শিক্ষা গ্রহম করা যেতে পারে? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সকলের সামনে তুলে ধরেন আবির।

জবাবে সাবিদিন ইব্রাহিম বলেন, তৎকালীন সময়ে সক্রেটিস সমাজের নানা অসঙ্গতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেনে, যা আমাদেরকে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলবার সাহস যোগাবে। তিনি আরো বলেন, মাত্র একটি প্রজন্মই পারে একটি সমাজ, একটি দেশের সামগ্রিক দুরাবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে। সুতরাং আমাদের মেধা দিয়ে, জ্ঞান দিয়ে, চিন্তা দিয়ে এরকম একটি সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তোলায় উদ্বোগী হতে হবে।

তবে এসবের মাঝে দু’টি ব্যতিক্রমী আলোচনা তুলে ধরেন সাবিদিন ইব্রাহিম এবং আহমেদ দ্বীন রুমি। সাবিদিন ইব্রাহিম, ড. অমর্ত্য সেনের লেখা ‘ফার্স্ট বয়দের দেশ’ বইয়ের আলোচনায় বলেন- এই উপমহাদেশে সবসময় বিভিন্ন পরীক্ষার ফার্স্ট বয়দের নিয়ে আলাদা রকমের চাকচিক্যতা(!) লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু সেই ফার্স্ট বয়দের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে জ্ঞানের কী বিকাশ ঘটেছে কিংবা সমাজের পরিবর্তনে তাদের ভুমিকা’ই বা কতটুকু তা গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় না কখনোই।

অন্যদিকে আহমেদ দ্বীন রুমি Donald A. Mackenzie এর ‘Indian Myth and Legend’ বইয়ের আলোচনায় বলেন, ভারতীয় মিথোলজি অনুযায়ী ইন্দ্র’কে ‘সুপ্রীম গড’ বলা হয়, কিন্তু তাঁর আরেকটি বড় পরিচয় Indian Hammar God হিসেবে। অনুরূপভাবে নজরুলকে বলা হয় বাংলার বায়রন, ঠিক যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড। অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে ওয়েস্টার্নকে  সবসময়  একটি স্ট্যান্ডার্ড ধরে অন্যদের তুলনা করা হয় যা তাদের আধিপত্যের’ই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

এছাড়া আড্ডায় আরও আলোচনা করেন রাসেল শেখ, মিল্লাত, অরণ্য আরিফ সহ অন্য সভ্যরা। ক্লাসিক এবং দর্শন নিয়ে আলোচনার এক মুহূর্তে মনে হয়েছিল আমরা যেন ফিরে গিয়েছি তিন হাজার বছর আগের সেই এথেন্স নগরীতে যার বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে ফিরছে সক্রটিস, প্লেটো এবং অ্যারিস্টটলের মত ইতিহাস বিখ্যাত দার্শনিক।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!