সায়েন্স টক – ০৫ : “খাবারের স্বাদ নির্ণয়ে জিহবার কারসাজি!”

Reading Time: 2 minutes

মানুষ তার আদিকাল থেকেই খাবারের ব্যাপারে উচ্চাভিলাষী। খাদ্যের তালিকায় তাই প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন আইটেম। প্রত্যেকটি খাবারেরই আছে তার নিজস্ব ঐতিহ্য অর্থাৎ স্বাদ। একটি খাবারের স্বাদ কখনই অন্য আরেকটি খাবারের স্বাদের সাথে নিজেকে গুলিয়ে ফেলে না। তাহলে কি আমরা বলবো খাবারের জীবন আছে? অবশ্যই তেমনটি নয়।

প্রতিদিনই নিত্য নতুন সব খাবারের রেসিপি তৈরি করছে মানুষ। সুতরাং প্রতিটি খাবারের স্বাদও নির্ধারণ করছে এই মানুষ গুলোই। কিন্তু মানুষের মধ্যে এমন কোন জিনিসটি আছে যা এতটা নিখুত ভাবে প্রতিটি খাবারের আলাদা আলাদা স্বাদ নির্ণয় করে দিচ্ছে? ঠিক এই প্রশ্নটিই যদি আপনার মনে উকি দিয়ে থাকে তবে এই লেখাটি আপনার জন্যই।

প্রত্যেক মানব দেহে এমন কতগুলো তন্ত্র রয়েছে যারা পর্যায়ক্রমিক ভাবে তাদের কজগুলো সঠিক ভাবে পরিচালনা করে চলেছে। যাদের মধ্যে একটি হচ্ছে “পরিপাকতন্ত্র”। পরিপাকতন্ত্রের দায়িত্ব হচ্ছে সমগ্র দেহে খাদ্যের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করা। এই তন্ত্রটি অনেকগুলো অঙ্গের সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে অন্যতম হলো জিহবা। কোন একটি খাবার মুখে দেবার সাথে সাথেই মস্তিষ্ক আমাদের নির্দেশ দেয় যে, খাবারটি আমরা খাব নাকি ফেলে দেব। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মস্তিষ্ককে খাবারটি সম্পর্কে রিভিয়্যু দিচ্ছে কে? আপনি ঠিকই ধরেছেন , এই কাজটি করছে জিহবা।

মানুষের মুখবিবরের নিম্ন চোয়ালের অস্থির সাথে জিহবা যুক্ত থাকে। এর পৃষ্ঠতলে পিড়কার উপর অবস্থিত থাকে ফ্লাস্ক আকৃতির স্বাদকোরক বা টেস্ট বাড্স (Test Buds)। জিহবার এই টেস্ট বাড্স বা স্বাদকোরক গুলো খাদ্যে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীলতা প্রদর্শন করে প্রতিটি খাবারের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ নির্ণয় করে। তবে জিহবার পৃথক পৃথক অংশ পৃথক পৃথক স্বাদ নির্ণয়ে অংশগ্রহন করে।

“জিহবার অগ্রপ্রান্ত মিষ্টি স্বাদ, অগ্রভাগের দুপাশে নোনা স্বাদ, পশ্চাৎভাগের দুপাশে টক (অম্লতা) স্বাদ এবং পেছনের দিকে তিক্ত স্বাদ গ্রহন করে”। খাবারের স্বাদ নির্ণয়ে যে স্বাদকোরক গুলো অংশগ্রহন করে সেগুলো পাঁচ-দশ দিনের মধ্যে খাদ্যের ঘষায় নষ্ট বা ছিন্ন হয়ে যায় এবং নতুন করে প্রতিস্থাপিত হয়। এভাবেই জিহবা তার স্বাদকোরকের মাধ্যমে খাদ্যের নানারকম স্বাদ উদ্ভাবন করে চলেছে।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!