গার্ডিয়ানের টাইমলাইন ও দায় অস্বীকারের ট্রাম্পস্টাইল

Reading Time: 6 minutes

গণতান্ত্রিক রাজনীতির সৌন্দর্য প্রস্ফুটিত হতে দেখা যায় দায় স্বীকারের মধ্যে, জবাবদিহিতার মধ্যে। গণ বা সাধারণ পাবলিক ভুল হোক, তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে প্রাধান্য দেওয়ার মধ্যে।

গণতান্ত্রিক রাজনীতি-সংস্কৃতির মধ্যে গড়ে ওঠা ও দায়িত্ব পাওয়া নেতৃত্ব ভুল হলে ক্ষমা চান, লজ্জ্বা পান, কখনো কখনো পদত্যাগও করেন। তাতে যা হয়, অধিকতর যোগ্যতাসম্পন্ন যিনি- তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। এভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতি ও সংস্কৃতি প্রতিপালিত ও সমৃদ্ধ হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা এই যে, পূর্ব পশ্চিম সর্বত্রই, আজকাল, গণতান্ত্রীক রাজনীতিতে গণতন্ত্রের মৌলিক এই আদর্শটি ভূলুন্ঠিত হতে দেখা যায়; রাজনীতিবিদদের আজকাল কোনো ভুল নেই, ব্যাপকভাবে সেই অর্থে তাদের লজ্জ্বাও পেতে দেখা যায় না। ‘মরে গেলেও চেয়ার ছাড়বো না’ এটা তাদের দারুণ এক মনোবৃত্তি।

এসবের ফলে, গণতন্ত্রের সৌন্দর্যহানি হতেই থাকে। কোনো কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী ভাল ব্যবস্থাপক হওয়া দূরের কথা, তারা তাদের কৃতকর্মের ন্যূনতম দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শুধু তাই না, এক ধাপ এগিয়ে নিজেদের ব্যর্থতাকেও তারা আড়াল করতে প্রবৃত্ত হন। ব্যস্ত হয়ে পড়েন অন্যকে বলির পাঠা করতে।

আগে এসব প্রবণতা দেখা যেতো তৃতীয় বিশ্বের সেইসব দেশগুলিতে, যারা সামরিক স্বৈরাচার হটিয়ে গণতন্ত্রের পথে নবযাত্রা শুরু করেছে; কিন্তু বাধাহীনভাবে এখন দায় অস্বীকারের এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে সেইসব দেশগুলিতেও, যাদেরকে গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে মনে করা হয়। যাদেরকে মনে করা হয়, গণতন্ত্রের আদর্শ ও সুতিগাকা- যেমন, উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা।

দেশটি সারা বিশ্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রবক্তা হিসেবে পারিচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: দেশটি ট্রাম্পযুগে প্রবেশের পর অন্যরকম হয়ে গেছে। গণতন্ত্র যেন ক্রমশ: সেখানে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে, সবকিছু ব্যক্তিকেন্দ্রীক হয়ে উঠছে। ট্রাম্প যেন আবির্ভুত হয়েছেন নির্বাচিত স্বৈরাচাররুপে। তবে এই লেখার উদ্দেশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিমবা পশ্চীমা গনতান্ত্রিক সংস্কৃতির ত্রুটিবিচ্যুতি খুঁজে বের করা নয়। স্বল্প পরিসরে লেখাটির উদ্দেশ্য, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অধিষ্টিত একজন ব্যক্তির পর্যায়ক্রমিক মিথ্যাচারের প্রতি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

মধ্য জানুয়ারীর শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সতর্ক করা হয়েছিলো ভয়াবহ বিপর্যয় সম্পর্কে, কিন্তু তিনি ক্রমাগতভাবে মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকেন জনগণকে। বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক ধাপ্পা Political Hoax।  মার্চের শুরুর দিকে ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশন সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘What a problem. Came out of nowhere’।

মজার ব্যাপার হলো, ক্রমাগত ভুল করতে থাকা ট্রাম্পই সমূহ বিপর্যয়ের মুখে শতভাগ ঘুরে গিয়ে বলেন, “I don’t take responsibility at all”.

তারপর থেকেই শুরু হলো তার স্কেপগোট ফাইন্ডিং। তিনি ওবামা, চীন ও বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থাকে দায়ী করতে শুরু করে দিলেন। প্রশ্ন হলো, কেন তিনি এসব করলেন?

অতএব, এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু ট্রাম্পের সেই পর্যায়ক্রমিক মিথ্যাচার উন্মোচন নয়, তার কারণ অনুসন্ধানও। 

৮ জানুয়ারী ২০২০

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে নিউমোনিয়া গোত্রের ও মহামারি ধাঁচের একটি অপরিচিত রোগ সম্পর্কীত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। রোগটি মাছ ও মাংস বিক্রির পাইকার বাজার থেকে ছড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিডিসি থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

১৮ জানুয়ারী ২০২০

ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে। স্বাস্থ সচিব অ্যালেক্স অ্যাজার ট্রাম্পকে ফোন করে করোনাভাইরাস সম্পর্কে বলেন। ট্রাম্প তখন বিষয়টাকে পাত্তা না দিয়ে অ্যাজারের সাথে বেশীরভাগ কথাবাত্রা বলেন Vaping নিয়ে।

Vaping হলো  ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে সিগারেট খাওয়া। সিগারেটের ধোয়ার পরিবর্তে ধুমপায়ী একটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অ্যারোসল ইনহেল করেন, যাকে সাধারণভাবে বলা হয় vapor। এই গোটা প্রক্রিয়াটির নাম Vaping। ট্রাম্প রোগটি সম্পর্কে অবগত হন কিন্তু গায়ে মাখেন না।

ছবি: এপি

২১ জানুয়ারী ২০২০

কোভিড-১৯ পজিটিভ নিয়ে, সিয়াটলের কাছে, ওয়াশিংটনের এভারেট নামক জায়গায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩০ বছর বয়স্ক এই ব্যক্তি চীনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলেন।  

২২ জানুয়ারী ২০২০

ট্রাম্প সুইজারল্যান্ডের দাভোসে একটি কনফারেন্সে গিয়েছেন। প্রথম করোনাভাইরাস নিয়ে পাবলিক কমেন্ট করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাবল টিভি CNBC কে বলেন, এক ব্যক্তি এসেছেন চীন থেকে, এটি সর্ম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। কোন সমস্যা নেই।

২৭ জানুয়ারী ২০২০

হোয়াইট হাউজের ডমেস্টিক কাউন্সিলের প্রধান জো গ্রোগান চলতি দায়িত্বের চীফ অব স্টাফ মিক মালভেনি ও অন্যান্যদেরকে বলেন যে, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ তা লড়তে গেলে কয়েক মাসের জন্য জনগণের জীবনের উপর আধিপত্য বিস্তার করতে হবে। প্রশাসনের তরফ হতে ভাইরাসটিকে সিরিয়াসলি নিতে হবে। যদি তা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রেসিডেন্টের পুণনির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ওয়াশিংটন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা কঠোরভাবে সতর্ক বার্তা দেন।

২৯ জানুয়ারী ২০২০

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভাররো ন্যাশনাল ইকোনোমিক কাউন্সিলকে একটি পত্র দিয়ে সতর্ক করে দেন এই মর্মে যে, করোনাভাইরাস যুক্তরাষ্ট্রের আধামিলিয়ন মানুষের প্রাণ নাশের কারণ হতে পারে। আর অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হবে ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা ধাক্কা। Axios রিপোর্ট করে।

৩০ জানুয়ারী ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হেলথ এমার্জেন্সি ঘোষণা করেছে, অ্যালেক্স অ্যাজার ট্রাম্পকে আবারও সতর্ক করেন।  ট্রাম্প তখন বিমানে, একটি নির্বাচনি র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করতে কোথাও যাচ্ছেন। অ্যাজারকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, “alarmist”, নিউইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করে। একই দিন, ট্রাম্প টুইট করে বলেন, চীন ও অন্যান্যদের সাথে করোনাভাইরাস নিয়ে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছি। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত মাত্র ৫ জন, সবাই ভালভাবে সেরে উঠেছেন।

৩১ জানুয়ারী ২০২০

স্বাস্থসচিব অ্যাজার জনস্বাস্থ্য সম্পর্কীত জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন। বিদেশীরা যারা চীনে ভ্রমণ করেছেন সম্প্রতি, ট্রাম্প তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ।

৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের সাথে ব্রিফিং শেষ করে সিনেটরবৃন্দ তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই বলে যে, প্রশাসন করোনাভাইরাসের হুমকিকে আমলে নিচ্ছে না। কানেকটিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন যে, এমার্জেন্সি কোনো তহবিল গঠনের বিষয়ে কোনো অনুরোধ আসেনি সেখানে। বড় ধরণের ভুল হলো। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের বিভিন্ন ধরণের সাপ্লাই ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এটাকে তারা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না।

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

একদল গভর্নরদেরকে সম্বোধন করে ট্রাম্প বলেন, দেখুন, আমার মনে হয় আমরা এটাকে ভালভাবেই সামলাচ্ছি। আমার মনে হয় এপ্রিল এলেই গরম পড়ে যাবে, তখন এটা থাকবে না। গরম এলে এই জাতীয় ভাইরাসের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০

নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট করে যে, হোয়াইট হাউজ একটি মক এক্সারসাইজ করেছে মহামারির উপর প্রণিত রেসপন্সের আলোকে, তাদের বক্তব্য এই যে, একটি আগ্রাসী সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং প্রয়োজন।

২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২০

অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নাভাররো পরিপূর্ন মহামারির বিষয়ে সতর্ক করেন একটি পত্রে। তিনি বলেন যে, প্রায় একশো মিলিয়ন আমেরিকানকে এই কোভিড-১৯ আঘাত করতে পারে এবং প্রায় ১ থেকে ২ মিলিয়ন মানুষ মারা যেতে পারে। এই পত্র Axios এর হাতে আছে।  

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস খুব ভালমতই নিয়ন্ত্রণে আছে। সবার সাথে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। সিডিসি ও হু খুব কঠোর পরিশ্রম করছে এবং তারা খুব স্মার্টলি সবকিছু করছে। স্টক মার্কেট আমার কাছে ভাল মনে হচ্ছে। ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ঢঙে বলেন, ‘Very much under control’

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০

CDC’র সাথে টেলি ব্রিফিংএ National Center for Immunization and Respiratory Diseases এর পরিচালক ন্যান্সি মেসোনিয়ার বলেন, শেষমেষ আমরা একটি সামাজিক সংক্রমন দেখবো। জনজীবন মারাত্নকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। আমাদের এখনই এ বিষয়ে ভাবা উচিত।

ট্রাম্প তখন ভারতের নতুন দিল্লিতে। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে করোনাভাইরাস নিয়ে প্রশ্ন করতে পারেন। আমাদের দেশে সেটা খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে। খুবই কমসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত। যারা আক্রান্ত, আমি তাদের সম্পর্কে অন্য কোনো কিছু শুনিনি।

ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে ট্রাম্প অ্যাজারকে ফোন করেন। তিনি অ্যাজারকে মেসোনিয়ার সম্পর্কে অভিযোগ করে বলেন যে, সে স্টক মার্কেটকে ভয় দেখাচ্ছে।

ন্যাশনাল ইকোনোমিক কাউন্সিলের পরিচালক ল্যারি কুডলোকে সিএনবিসিতে করা মেসোনিয়ারের মন্তব্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। ল্যারি কুডলো জবাব দেন, আমরা এটাকে আটকাতে পেরেছি। এয়ারটাইট করতে পেরেছি তা বলবো না। তবে এয়ারটাইটের কাছাকাছি আমরা।

২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০

হোয়াইট হাউজের প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প বলেন, গত দুই সপ্তাহে সংক্রমন নিচে নেমে গেছে। মাত্র ৫ জন, খুব শিগ্গির সব কিছু ঠিক হয়ে যাচ্ছে। হয়তো পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আর দুই এক জন  আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি টুইটারে সিএনএনকে এক হাত দেখে নিয়ে বলেন, তাদের নিউজগুলি লো রেটিং। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে যতটা খারাপ করে দেখানো সম্ভব, ততটাই তারা সেটা করে দেখাচ্ছে। সম্ভব হলে মার্কেটকেও ভয় দেখাচ্ছে। ফেইক নিউজ, ঠিক তাদের অযোগ্য ডেমোক্রাটরা যেমন। খালি কথা বলেন তারা, কাজে ঠনঠন। USA in great shape!

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০

এটা উধাও হয়ে যাচ্ছে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, একদিন দেখা যাবে এটা একটা অলৌকিক ঘটনা, এটা উধাও হয়ে গেছে।

২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

সিয়াটলের কাছে এক ব্যক্তি মারা যান, তার বয়স ছিলো ৫০, যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রাণহানি। প্রথম করোনা শনাক্তের ৬ সপ্তাহ পর Food and Drug Administration কোভিড ১৯ এর টেস্ট কার্যক্রমে গতি আনার বিষয়ে ল্যাব ও হাসপাতালগুলিকে নির্দেশ দেন।

৫ মার্চ ২০২০

টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আমরা যেভাবে করোনাভাইরাসকে হ্যান্ডল করছি তার উপর ভিত্তি করে  গ্যালাপ একটি জরিপ করেছে, তারা এইমাত্র  সর্বোচ্চ রেটিংএর কথা জানালো আমাকে। ২০০৯-১০এর সোয়াইন ফ্লুতে যুক্তরাষ্ট্রে মারা গিয়েছিলো ১৩,০০০ মানুষ। খুব খারাপভাবে সেটাকে হ্যান্ডল করা হয়েছিলো। জিজ্ঞাসা করুন সংশ্লিষ্টদের, তখন প্রেসিডেন্ট কে ছিলো?

৬ মার্চ ২০২০

সিডিসির ল্যাবগুলি পরিদর্শনে যান ট্রাম্প, সেখানে তিনি বৈশ্বিক এই মহামারিকে অভুতপুর্ব সমস্যা হিসেবে আখ্যা দেন।  বলেন, কি একটা সমস্যা, কোথাথেকে কি হচেছ তা বোঝা যাচ্ছে না। পরবর্তী ২ সপ্তাহে স্টকমার্কেট ২০ শতাংশ পড়ে যায়।

৯ মার্চ ২০২০

ট্রাম্পের প্রাক্তন অভ্যন্তরিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা টম বসার্ট একটি মতামত কলাম লেখেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে এখনি পদক্ষেপ নিতে হবে। বৈকালিক একটি সাংবাদিক সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের কর্তাব্যক্তিগণ বলেন, এই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এক মিলিয়ন মানুষকে টেস্টের আওতায় আনবে।

তারা একটি মিথ্যা সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছিলো, পরবর্তীতে দেখা যায় যে, মার্চের ১২ তারিখ পর্যন্ত কেবলমাত্র ৪০০০ ব্যক্তিকে  টেস্ট করতে পেরেছেন তারা।

১০ মার্চ ২০২০

ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, যখনই কারো টেস্টের দরকার হবে তখনই তিনি টেস্টের সুযোগ পাবেন। পেশাগত কাজে দায়িত্বপালনরত ব্যক্তিগনও, যখনই বলবেন, তখনই টেস্ট। সবকিছু ভালভাবে চলছে। যখনই কারো টেস্টের দরকার হবে তখনই তিনি টেস্টের সুযোগ পাবেন।

১২ মার্চ ২০২০

Dr Anthony Fauci কংগ্রেসের সামনে হাটে হাড়ি ভেঙে দেন। বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পর্যাপ্ত টেস্টিং কিট নেই। যা দরকার তা দিয়ে সিস্টেমটাকে গিয়ারাপ করা হয়নি। এটা একটা ব্যর্থতা। চলুন এটা স্বীকার করি।  কিন্তু ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ব্রিফিংএ বলেন, আপনি যদি সঠিক এজেন্সির কাছে যান, সঠিক এরিয়াতে যান, আপনি ঠিকই টেস্ট করাতে পারবেন।

১৩ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাসের কারণে ট্রাম্প জাতীয় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি ঘোষণা দেন গুগলের সাহায্যে একটি সাইট ডেভলপমেন্টেরও কাজ চলছে যাতে জনগণকে টেস্টের ব্যাপারে সাহায্য করা যায়।

ট্রাম্প বলেন, আমরা ফার্মেসী ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে দ্রুততম সময়ে টেস্টের বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা কথা বলেছি পাবলিক হেল্থ প্রফেশনালদের সাথেও।

কিন্তু দেখা যায় এক মাসের মাথায় কেবলমাত্র অল্প কিছু সংখ্যক টেস্টই করানো গেছে। তখন ট্রাম্প বলেন, “I don’t take responsibility at all” আমি আদৌ এর দায়িত্ব নেবো না।

এই মিথ্যাচার ও উটের মত বালির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে থাকার কারণ পর্যবেক্ষকদের মতে নির্বাচন। আর একবার জয়লাভের অন্তর্নীহিত, উদগ্র, বাসনা। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার প্রফেসর ও Saving Capitalism: For the Many, Not the Few গ্রন্থের লেখক Robert Reich যথার্থই লিখেছেন To Donald Trump, coronavirus is just one more chance for a power grab। করোনা ভাইরাস ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা আকড়ে ধরার আরএকটা সুযোগ।

গণতান্ত্রিক রাজনীতির ফাঁক দিয়ে ঢুকে এভাবে যতদিন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের মত মানুষ ক্ষমতার সিংহাসন দখল করতে থাকবেন, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র নয় শুধু, বিশ্বের কোথাও সাধারণ মানু্ষের কোন মুক্তি নেই।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

১. https://www.theguardian.com/us-news/2020/apr/14/trump-coronavirus-alerts-disinformation-timeline

২. https://www.theguardian.com/commentisfree/2020/apr/04/donald-trump-coronavirus-power-grab

৩. https://www.politico.com/news/2020/03/13/trump-coronavirus-testing-128971

Writer: Nurul Islam Siddque Lablu

Deputy RegistrarInstitutional Quality Assurance Cell (IQAC)

Khulna Khulna University, Khulna, Bangladesh 

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!