চিন্তার রাজ্যে নাড়া দেওয়া বই: বই-১

Reading Time: 2 minutes

“তুমি বোধহয় বড় বেশি খুঁজিয়ে; আর সেই খোঁজার ধান্দায় হারিয়ে ফেলেছ পথের লক্ষ্যস্থল। তাই জীবনের শেষ হয়ে এল, কিন্তু পেলে না কিছুই।”

“জ্ঞান কাউকে শেখানো যায় না, দেওয়া যায় না। জ্ঞানী লোক যখন জ্ঞান বিতরনের চেষ্টা করেন তখন সে চেষ্টা আমার কাছে নির্বুদ্ধিতা বলে মনে হয়।”

বইয়ের শেষ দিকে সিদ্ধার্থ তাঁর বন্ধু গোবিন্দকে এভাবেই বলেছেন।

 

বলা দরকার গৌতম বুদ্ধের নাম সিদ্ধার্থ কিন্তু হেরমান হেস রচিত সিদ্ধার্থ আর গৌতম বুদ্ধ দুটি ভিন্ন মানুষ।

হেরমান হেস সিদ্ধার্থ সম্পর্কে বলেছেন: “Siddhartha is the expression of my liberation from Indian thinking.”

 

দুই বন্ধু সিদ্ধার্থ ও গোবিন্দ বাল্যকালেই গৃহ ত্যাগ করে সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন। গোবিন্দ জ্ঞান অর্জনে তৃপ্ত হলেও হতে পারেনি সিদ্ধার্থ।

প্রায় ৩ বছর সন্ন্যাস জীবন অতিবাহিত করার পর তাঁরা শুনতে পেল গৌতম বুদ্ধের কথা। বুদ্ধের সাথে দেখা করলেন দুই বন্ধু।

তাঁর বন্ধু গোবিন্দ গৌতমবুদ্ধের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেও তিনি করলেন না। কারণ তিনি তথাকথিত জ্ঞান অর্জন, উপদেশ ও ধর্মের বাঁধনে বাঁধা পড়েননি।

গৌতম বুদ্ধের কাছে থেকে গেল তাঁর বন্ধু গোবিন্দ, সিদ্ধার্থ পথ চলতে থাকলেন।

 

তিনি নগরে চলে গেলেন। নগরে প্রথম দেখা হলো গণিকা কমলার সাথে, প্রেমে পড়ে গেলেন। সন্ন্যাস জীবন ত্যাগ করলেন। কমলার কাছ থেকে প্রেম বিদ্যা শিখতে চাইলেন। কমলা তখন তাকে জানলো “কমলাকে পেতে হলে অর্থ লাগবে”।

 

এর পর কি হলো?

সংসার জীবনই কি বেছে নিয়েছিলো সিদ্ধার্থ নাকি আবার সন্ন্যাস হয় গিয়েছিলো? সিদ্ধি লাভ কি করতে পেরেছিল সিদ্ধার্থ?

প্রকৃতির কাছ থেকে শিক্ষা কিভাবে নৌকার মাঝি বাসুদেব নিতেন? কিভাবে বাসুদেবের সাথে সিদ্ধার্থের পরিচয়?

তাঁর বন্ধু গোবিন্দের সাথে কি আর দেখা হয়েছিল সিদ্ধার্থের?

কমলাই কি প্রেমে পরেছিল সিদ্ধার্থের?

সিদ্ধার্থ কেনই বা আত্নহত্যার কথা ভাবলেন? কিভাবে সে আত্নহত্যা থেকে নিজেকে বাঁচালেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে বইটা পড়ুন।

 

বইটি থেকে যা শিখনীয়, তার কিছু:

# তত্ত্বগত উপদেশ শুনে তেমন উপকার আসে না, নিজেকে নিজের জানতে হবে।

# সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ না করেই এই জীবন সংসারে থেকে প্রকৃতি থেকে শিখে সিদ্ধি লাভ করা যায়।

# ভালো ও মন্দের সমন্বয়েই এই পৃথিবী ও মানুষ। কোন মানুষই পুরোপুরি ভালো বা খারাপ হয় না। জগতের ভালো মন্দ সবকিছুই সহানুভূতির চোখে দেখতে হবে।

“বুদ্ধ আছেন জুয়াড়ির অন্তরে; আবার দস্যুর খোঁজ পাওয়া যাবে ব্রাক্ষণের মধ্যে।”

# পরিচ্ছন্ন চিন্তা করার ক্ষমতা, অপেক্ষা, উপস এই তিনটি জিনিস জীবনে কতটা প্রয়োজনীয় তা।

সবশেষে বলা, বইটা পড়ুন। পড়লে অবশ্যই নতুনভাবে কিছু বিষয়ের সাথে পরিচিত হবেন এবং চিন্তার রাজ্যে নাড়া দিবে।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!