ডায়েরির পাতায় আনা ফ্রাঙ্ক

Reading Time: < 1 minute

ডায়েরির পাতায় শেষ আঁচর টেনেছিল পনেরো বছর দু মাস বয়সে। তার ঠিক সাত মাস পরে এই পৃথিবীর জল মাটি হাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল সেই কিশোরীর। তবে আমার ব্যক্তিক অভিমত পৃথিবী থেকে চলে গিয়ে আনার সম্পর্ক ছিন্ন হয় নি বরং বেড়েছে তা আরও বিস্তৃত পরিসরে।

ধর্মে ইহুদি জার্মানির বাসিন্দা আনা ফ্রাঙ্কের জন্ম ১৯২৯ সালে। ঠিক তখনই জার্মানির মাটিতে মাথা তুলেছে হিটলার। ইহুদিদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে গেষ্টাপো বাহিনী। আলবার্ট আইনস্টাইন বাধ্য হয়েছেন জার্মানি ছাড়তে। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদে প্রকাশিতআনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরিতে রয়েছে আনার বন্দী জীবনের স্পষ্ট উপস্থাপনা। কোথাও প্রস্ফুটিত হয়েছে বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতি আর কোথাও বিকশিত হয়েছে মনের কোণে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত বাসনা।

বইটিতে আমি দেখেছি তেরো থেকে পনেরো বছরে আনার হেটে চলা। এক আশ্চর্য গভীর আনা অকপটে কথা বলে গেছেন দর্শন, মানব চরিত্র, প্রেম প্রকৃতি জীবনবোধ আর সমকালীন ইতিহাস নিয়ে। ফুটে উঠেছে ইহুদিদের লাঞ্চনাযন্ত্রণাসংগ্রাম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছবি। ইহুদীদের হলদে তারা পরতে হবে, সাইকেল চালানো যাবে না,রেলগাড়িতে চড়া ছিল নিষেধ।

গুপ্ত মহলে অবরুদ্ধ আনা এবং তার পরিবার সদা আতঙ্কে থাকত। কারন কোন প্রকার ভদ্রতা ছাড়া গেষ্টাপো বাহিনী ইহুদীদের ডজনে ডজনে তুলে নিয়ে যেত। এর মাঝেও আনালা বেলে নিফেরনাইসেথেকে একটা করে অধ্যায় পড়ে ফেলত। নতুন শব্দ গুলো খাতায় টুকে রাখত।

লেখক হবার স্বপ্ন দেখত আনা, স্বপ্ন দেখত মৃত্যুর পরও বেচে থাকার। বেচে থাকলে আজ বয়স হতো সত্তোর। সে বেচে নেই। কুড়িতে ঝড়ে গেছে। বেচে আছে শুধু দিনলিপি, আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি।।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!