নভেল বা উপন্যাসের জনপ্রিয়তার কারণ

Reading Time: 2 minutes

অতীতে মহাকাব্য যেমন, মধ্যযুগে রোমান্স যেমন আধুনিক জমানায় উপন্যাস তেমন।

বর্তমানকালে অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন কেউ যদি কোন মহাকাব্য নাও পড়ে থাকে, জীবনে যদি থিয়েটারে গিয়ে নাটক নাও দেখে থাকে; দেখা যাবে ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকটা উপন্যাস পড়েছেন। বাংলাদেশের জন্য এটা আরও বড় আকারে সত্য। বাংলাদেশের অনেক পাঠক পড়া বলতে উপন্যাস পড়াকেই বুঝায়। উপন্যাসের বাইরে কোন পঠন পাঠনের বিষয় থাকতে পারে সেটা মানতে পারেন না।

উপন্যাস আসলে কেন জনপ্রিয় তার সম্ভাব্য কারণ তল্লাশি করি চলেন:

  • মানুষ গল্প বলতে ও গল্প শুনতে পছন্দ করে। ভাষার মাধ্যমে ভাবাবেগ প্রকাশের সূচনা থেকেই গল্প বলে আসছে। একেক যুগে একেকভাবে গল্প বলা হতো। ভাষা যখন একটু পরিশীলিত হয়ে উঠলো তখন তার মাধ্যমে প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি বের হলো।
  • কোন সামাজিক গোষ্ঠী বা মানব সম্প্রদায় তার শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলো, রক্তাক্ত ইতিহাস মহাকাব্যে প্রকাশ করে। মহাকাব্য প্রাথমিকভাবে বইয়ের জন্য রচিত হয়নি। একদল কবি সেটা ছন্দে ছন্দে বলে উপস্থিত জনতার কাছে জাতির অতীত গৌরবের, বীরত্বের কথা বলতো। মহাকাব্যের লিখিত রূপ আসে অনেক পরে। ছন্দে ছন্দে মনে রাখা যায় বলে, লেখার উপকরণ দুর্লভ বলে কবিদের স্মৃতিই ছিল একমাত্র ভরসা।
  • লেখার উপকরণ সহজলভ্য হওয়াতে সাহিত্য শুধু আর মুখস্ত রাখার বিষয় রইলোনা। নতুন নতুন সাহিত্য প্রকরণ সৃষ্টি হতে লাগলো। রেনেসাঁর মধ্যগগনে গুটেনবার্গের প্রিন্টিং প্রেস মানবজাতিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। বই, পত্র, পত্রিকা, সাময়িকী প্রকাশের হিড়িক পরে যায়। অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতকে এটা চূড়ায় গিয়ে পৌছায়। উনবিংশ শতক ছিল ব্রিটেনের জন্য সবচেয়ে গৌরবের, প্রভাব-প্রতিপত্তি আর ক্ষমতার। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক চলে আসে ব্রিটেনের হাতে। সত্যিই তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে কখনো সূর্য অস্ত যেতোনা। বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে লোটপাট করো আনা সম্পদের পাহাড় দিয়ে সাগরকণ্যারূপে সাজায় ব্রিটেনকে। তখন যোগাযোগের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে দাড়ায় চিঠি। চিঠিকে বলা যায় উপন্যাসের মা।
  • চিঠির মাধ্যমে দূরে থাকা প্রিয়জনের কাছে বার্তা আদান প্রদানের পাশাপাশি এটা হয়ে দাড়ায় আবেগ-অনুরাগের চিত্র অঙ্কন এবং এর প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে। চিঠিতে দেখা যেতো লেখক তার চারপাশের একটা ফটোগ্রাফিক বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করতো দূরে থাকা স্বজনদের কাছে। দূর দূরান্তের বিভিন্ন ভূখণ্ড ভ্রমণকালে বিচিত্র অভিজ্ঞতা, পরিবেশের বর্ণনা চিঠি লেখক ও পাঠকের বর্ণনাভঙ্গি ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে। চিঠি নভেলের মাঠ তৈরি করে রেখেছিল। এজন্য সাহিত্যাঙ্গনে নভেল এসেই বাজিমাত করে দেয়। উল্লেখ্য ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে খ্যাত স্যামুয়েল রিচার্ডসনের ‘পামেলা’ উপন্যাসটি মূলত চিঠির আদান প্রদানের মাধ্যমেই আবর্তিত হয়েছে।
  • আজকে ফিল্ম ও বিভিন্ন টিভি সিরিজ জনপ্রিয় তখন নভেল ততটা জনপ্রিয় ছিল। বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে সিরিজ আকারে নতুন উপন্যাসগুলো প্রকাশিত হতো। কোন উপন্যাস যদি জনপ্রিয়তা পেতো তাহলে সেই সাময়িকীর বিক্রি বেড়ে যেত। পরবর্তীতে সেই উপন্যাস গ্রন্থাকারে বের হতো। ভিক্টোরিয় যুগের প্রধান ঔপন্যাসিক তথা ইংরেজি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ এই ঔপন্যাসিকের সবগুলো লেখাই বিভিন্ন সাময়িকীতে সিরিজ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।

#ইংরেজিসাহিত্যেরইতিহাস_দ্বিতীয়_সংস্করণ_প্রথম_খসরা

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!