নারী মুক্তির রাজনীতি -অর্থনীতি

Reading Time: 2 minutes

মার্ক্স নারীর মর্যাদার ইতিহাস ব্যখ্যা করতে গিয়ে বলছেন, যেভাবে মানুষ দেবতাকে নারীর রুপে দেখেছে তাতে সন্দেহ নেই নারীর অতীত উজ্জ্বল ছিল ইতিহাসের সুচনা লগ্নে। কিন্তু নারীর অবস্থা স্থানচ্যুত হয়েছে লিঙ্গ ভিত্তিক শ্রম বিভাজনের জন্যে। ফ্রেড্রিক এঙ্গেলস তার ” পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি এবং রাষ্ট্রের উৎপত্তি” বইয়ে বলছেন, ঘর সংসার সামলানোর কাজে যেদিন নারীকে পাঠানো হয়েছিল সেদিনই তার শ্রেনীগত ভাবে বড় পরাজয় ঘটে যায়।

একসময় নারী যেভাবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাধীন অংশগ্রহন করতো সেটা ব্যক্তিগত সম্পত্তি উত্থান কিংবা এক পত্নীক বিয়ে ব্যবস্থার ফলে ধংস হয়ে যায়। সবাই মিলে শিকার করা সম্পদের যখন সারপ্লাস হওয়া শুরু হলো তখন মানুষ তার দখল নিতে চাইলো, দখল করা সারপ্লাসের উত্তরাধিকার খুজতে গিয়েই এক নারীকে নিয়ে সংসার করা শুরু করল। তখন থেকেই নারীর কাজ নির্ধারণ করে দেয়া হলো সন্তান উৎপাদন ও লালন পালন। এগ্রিগেরিয়ান সমাজেও নারীকে বোঝানো হলো বেশি বেশি সন্তান জন্মদান করে জমি চাষে শ্রমের সংস্থান দেওয়ার জন্য।

নারী ও সন্তান উৎপাদন করা শুরু করলো নিজের দায়বদ্ধ কাজ হিসেবে। ইতিহাসের বিকাশের সাথে সাথে নারীকে পুরুষ তার শ্রেনী স্বার্থে আর পুজি তার পুজির স্বার্থে  যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করেছে। এই ব্যবহার এখন ও দারুন ভাবে উজ্জ্বল। পুজি এখনো ঠিক করে দেয় নারী কেমন ভাবে দাঁড়াবে, কিভাবে তাকাবে, কিভাবে বলবে, কেমন শরীরের হবে, নারীর ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস কেমন হবে। বোকা নারীও মাথা নাড়ে দুনিয়ার সাথে। এখনকার বিশ্বায়িত পুজি বোঝাতে সক্ষম হয়েছে, সুন্দরেই নারীর মুক্তি। এখনো পুজি নারীর বিউটির মান নির্ধারণ করে দেয়। মাথা মোটা মেয়েও মুখ সাদা করার স্বপ্ন দেখে।

নারী ফেয়ার এন্ড লাভ্লি মেখে সফল হতে চায়। এখনো বোকা নারী ভাবে সুন্দর হওয়ায় ই জীবন। সুন্দরী প্রতিযোগিতা বোকা নারীর বুদ্ধিবৃত্তিক স্থুলতা আর পুজির গাজন ছাড়া কিছুই না। সুন্দরের চর্চা বা স্বীকৃতি বা উদযাপন খারাপ কিছু না। তবে বানিজ্যিক উদ্দেশ্যে সুন্দরের চর্চা এবং ব্যবহার নি:সন্দেহে অপ্রাকৃতিক এবং কুতসিত ব্যাপার। সুন্দরী প্রতিযোগীতায় নারীর এমন উপস্থাপন পন্যের মোড়ক বানানোর মতই বানিজ্যিক। পুজির টিকে থাকার জন্যে বেচাকেনা টিকিয়ে রাখা খুব দরকার। আর এই পন্য বেচতে গিয়ে একদিকে সংস্কৃতির ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলা হয়েছে যেখানে আমার নন্দনবোধকে বাজারে তোলা হয়েছে আর অন্যদিকে তার সাথে যুক্ত করা হয়েছে নারীর যৌনতাকে, দেহকে।

নারীর দেহের ব্যবহার নারীর মস্তিস্কের শক্তি সামর্থ্য এর জন্যে কতটা অবমাননাকর বা অসম্মানজনক এটা বোঝার মত যে মানসিক শক্তি দরকার তা অরজন করতে ব্যর্থ হয়েছে নারী সমাজ। এটা ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, মানব জাতির ইতিহাস জুড়েই নারী পুজির শিকার। তাই এই বলয় থেকে বের হতে নারীর বিকাশের ইতিহাস পুন:পাঠ খুব জরুরি। মেয়েদের বোঝা উচিত খালি যৌনতার স্বাধীনতা মানেই নারী মুক্তি না।

লেখক : মঞ্জুরুর রহমান প্রিন্স

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!