পরিবহন ধর্মঘটটা আসলে কারা ডেকেছে, শ্রমিকরা না মালিকরা?

Reading Time: 2 minutes

পরিবহন ধর্মঘটটা আসলে কারা ডেকেছে, শ্রমিকরা না মালিকরা?

শ্রমিকরা যে ডাকেননি, প্রমাণটা তাদের প্রচারপত্রেই পাবেন।

যে প্রধান কারণগুলার জন্য শ্রমিকরা বেপরোয়া গাড়ি চালাতে বাধ্য হন, নিজেরা দুর্ঘটনায় পড়েন এবং অন্য মানুষকেও হতাহত করেন, সেখানে তার একটাও উল্লেখ নাই, সেগুলা দূর করার কোন চেষ্টাও নাই। সেখানে কোন দাবি নেই, যেটা মালিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। অথচ মালিক-গুণ্ডা-প্রশাসন মিলে একমন একটা মাফিয়া চক্র পরিবহন খাতে তৈরি করে রেখেছে, সেখানে শাস্তি-জরিমানা বিশ গুন বৃদ্ধি করলেও দুর্ঘটনার হার একটুও কমবে না।

বাসগুলা দুর্ঘটনা ঘটায়, কারণ শহরে সেগুলো দৈনিক ইজারা দেয়া হয় শ্রমিকদের কাছে। তাদের কোন দৈনিক মজুরি নেই। প্রতিযোগিতায় তাদের বাধ্য করে মালিকরা। আন্তজেলা বাস চালক বা ট্রাক চালকরা কোন বিশ্রমা পান না, শরীরের শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে পর্যন্ত তাদের গাড়ি চালাতে হয়। এই শ্রান্ত ক্লান্ত দেহ দুর্ঘটনা ডেকে আনে। এই দুর্ঘটনার শিকার তারা নিজেরাও হন বিপুল পরিমানে।

দুর্ঘটনার আরেকটা বড় কারণ গাড়িগুলোর বেহাল দশা। কারণ, নতুন পুঁজিকে আসার বেলায় কড়া বাধা। বিপুল পরিমান চাঁদা দিয়ে এই খাতে ঢুকতে হয়। সে কারণেই ৩০ বছরের ঝরঝরে ট্রাক-বাসগুলোও রাস্তায় চলছে। কারা করছে? সকল পরিবহন মালিকদের তালিকা দেখুন, অধিকাংশ আওয়ামী লীগ। বাকিদেরও রাজনৈতিক পরিচয় আছে।

কেন আমাদের দেশে পরিবহন ভাড়া অস্বাভাবিক বেশি, তার কারণটাও মিলবে এই মাফিয়াতন্ত্রে্র অন্দরমহলে তাকালেই।

ঢাকা শহরে পরিবহন শ্রমিকরা প্রতিদিন মালিকের ভাড়া, জ্বালানি, মাফিয়াতন্ত্রের বিপুল চাঁদা জোগাড় করে তারপর নিজেদের রুজি আয় করেন।

দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। কিন্তু তার সংখ্যা বিপুল হারে কমে আসতো এই এতগুলো অবৈধ কাজ থেকে পরিবহন খাতকে মুক্ত করতে পারলে।

কিন্তু এই মাফিয়ারা নিজেরা শত শত কোটি টাকা চাঁদা বাজি করছে, সাথে বাড়তি ভাড়া হিসেবেও কেটে নিচ্ছে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা। শ্রমিকদেরই একাংশকে তারা ব্যবহার করছে লাঠিয়াল হিসেবে।

শ্রমিকরা কেন জিম্মি হয়? তারা কেন রুখে দাঁড়ায় না?

যে কারণে গণস্বাস্থ্য ট্রাস্ট রাতারাতি দখল হয়ে ভাগ বাঁটোয়ারা হয়ে যায়, সেই একই কারণে শ্রমিকদেরও কিছু করার থাকে না। নিয়ন্ত্রণ ও দখল বজায় রাখতে তাদের পাশে আছে প্রশাসন ও বিশাল গুণ্ডাবাহিনী।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পরিবহন শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বন্ধ করার জন্য স্বৈরাচার এরশাদ যে সংগঠন খাড়া করেছিল স্থানীয় মাস্তানদের নিয়ে, সেইটাই আজ গোটাদেশে আবির্ভূত হয়েছে মাফিয়া নিয়ন্ত্রক হিসেবে। তারাই আজ মানুষের মুখে মবিল লাগিয়ে দিচ্ছে, নারীদের ওপর হামলা করছে।

গোটাদেশেই গণতন্ত্র দরকার। পরিবহন খাতে তো অবশ্যই।

লক্ষ লক্ষ পরিবহন শ্রমিককে খলনায়ক ভাববার আগে আমাদের এই বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।
পরিবহন শ্রমিক নিরাপদে থাকলে , তার কর্মস্থল নিরাপদ ও তার স্বাস্থ্য অটুট থাকলে দেশবাসী নিরাপদ থাকবেন।

এই জন্যই দরকার-

Firoz Ahmed

 

কভার ফটো ক্রেডিট: বণিক বার্তা

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!