পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার

Reading Time: < 1 minute

বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমন্ড ফ্রয়েডের পর নিউফ্রয়েডিয়ানদের মাঝে সর্বোচ্চ খ্যাতি লাভ করা এরিক এরিকসনের মতবাদের সারমর্ম হল সমাজ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই মানুষ গড়ে উঠে। দীর্ঘ দশ মাস দশ দিন মায়ের গর্ভে থাকার পর যখন সন্তানটি পৃথিবীতে আসে তখন একমাত্র অবলম্বনই হচ্ছে মা। আধো আধো বুলিতে ‘দাআআদা’ ‘বাআআবা’ ‘মাম্মা’ এসব শিক্ষাটা মায়ের কাছ থেকেই শুরু হয়। কারো যেন কুদৃষ্টি না পরে তার জন্য মাথার সম্মুখদিকে কপালের ঠিক ডান পাশে কালি দিয়ে গোলাকার একটি বৃত্তও একে দেয়া হয়।

এরিকসনের ব্যাখ্যায় পাওয়া জীবনের আটটি স্টেজের মধ্যে ১ম স্টেজে মায়ের পায়ের উপর পা রেখে হাটিহাটি পা পা করে হাটতেও শিখিয়ে দেন মা। সন্তানের হাতের উপর হাত রেখে অ, আ, ই, ঈ – সব বর্ণমালা গুলো কত ধৈর্য ধরেই না শিখিয়ে দেন তিনি। বাল্য কাল, কৈশোর, যৌবন – সবটা সময় সন্তানেরা মায়ের কাছে যেন ছোট খোকন।

অসুখ হলে সারা রাত পাশে বসে সেবা করা, নিজে পুরাতন কাপর পরে সন্তানের জন্য নতুন কাপর কিনে দেয়া, মাছের মাথা টি সন্তানের জন্য রেখে নিজে পাতিলের তলানিতে পড়ে থাকা ঝোল খাওয়াসহ কত ত্যাগ স্বীকার ই না করেন সন্তানদের জন্য!

আর এ মানুষটিকেই আধুনিক ছেলেমেয়েদের একটা অংশ পরিচয় দিতে লজ্জা পায়। পড়াশোনা শেষ করে উচ্চ বেতনের চাকরি পাবার পর ভুলে যায় সে মানুষটি কে। সন্তানের সাথে একটু কথা বলার জন্য যখন তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ফোন করেন সন্তান তখন “আমি প্রচন্ড ব্যাস্ত” বলে লাইনটা কেটে দেয়।

নিজের অতীতকে বাদ দিয়ে সুখের পাহাড় গড়তে চায়। আর বৃদ্ধা মা কে একটা সময় দিয়ে আসে বৃদ্ধাশ্রমে।

তবুও যেন মায়েদের মনোবল থেমে থাকে না। বৃদ্ধাশ্রমে বসে বসেও প্রার্থনা করে তার সন্তানটির জন্য। মঙ্গল কামনা করে ছোট খোকন সোনার।

শ্রদ্ধা জানাই পৃথিবীর সমস্ত মায়েদের কে। জীবনের সার্বক্ষণিক বন্ধু এ মানুষটির মুখে হাসি ফোটানো ই যেন হয় সন্তানদের তপস্যা।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!