বইমেলায় বই বাছাইকর্ম এবং ভাইয়া-আপুদের চাপাচাপি বিত্তান্ত

Reading Time: 2 minutes

বইমেলায় অনেক স্টলে এক মিনিটও দাঁড়ানো যায় না। স্টলের কাছাকাছি যেতে না যেতেই সেখানকার ভাইয়া-আপুরা হাকডাক শুরু করেন- ‘স্যার/ভাই আপনি কোন ধরণের বই চাচ্ছেন? এটা দেখেন, ওটা দেখেন, এটা ভালো বই, এটা ওমুক সেলিব্রেটির বই।’একজন পাঠক বা ক্রেতা হিসেবে প্রথম কথা হলো-আমি যদি আপনার সাহায্য না চাই তাহলে আপনি আমাকে বই বাছাইয়ে জোর করে সাহায্য করছেন কেন? নিশ্চয়ই আপনার সেরা বইগুলো চটের বস্তায় লুকিয়ে রাখেননি বা মেলার বাইরে ফেলে আসেননি? সব বই তো আপনার ডিসপ্লেতেই আছে। আপনারা তো পাঠককে বই বাছাইয়ে কিছুটা স্বাধীনতা দিতেই পারেন। আর আপনাদের সহায়তা লাগলে সেটা বলে কয়ে নেয়া যাবে।

মানুষের মুখ দেখেই যেমন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না তেমনি মলাট দেখে, বই নিয়ে চিৎকার-চেচামেচি, গুজব, হুজুগ দেখে বই কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া সবল সিদ্ধান্ত নয়।

উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে-নাড়িয়ে না দেখে এবং দু-চার মিনিট না পড়ে বই কেনার প্রশ্নই আসে না! পরিচিতজন, বন্ধু-বান্ধব এবং আলোচিত বই কেনা হয় তবে তা হয়তো ১০ পার্সেন্ট। গত বছর কেনা কয়েক ডজন বইয়ের ৯০ শতাংশই দেখলাম কয়েক মিনিট পড়ে, গুরত্ব বুঝে, প্রয়োজন, ভালো লাগা ও সামর্থ্যের সঙ্গতির উপর ভর করে কিনেছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে করি না। কয়েকটি বড় স্টলেও দেখলাম সেখানকার ভাইয়া-আপুরা বই বিক্রি ও বাছাইয়ে চাপাচাপি করছেন। আজকে আমার ডিফেন্স মেকানিজম ছিল তাদের কথা পাত্তা না দেয়া এবং নিজের মতো করে বই দেখা। কোন মানুষের ডাকে সাড়া না দেয়া অভদ্রতা এবং তাদেকে ইগনোর করায় বেশ খারাপ লেগেছে। কিন্তু কিছু করার ছিল না, এটা ছাড়া। প্রয়োজনীয় কোন জিনিস ক্রয়ে আমি আমার প্রয়োজন ও সামর্থ্যকেই গুরুত্ব দেই। আমাকে জোর করে কিছু কিনতে বাধ্য করা আমাকে আমার পছন্দের ও প্রয়োজনের বাইরের জিনিস খাওয়ানো বা খেতে বাধ্য করা। আমার খাওয়া-পড়ার সিদ্ধান্ত অন্যকে গ্রহণ করতে দেবো কেন?

প্রকাশক ও প্রকাশনা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বলবো-এ চর্চাটা ভালো না। শুধু প্রয়োজনেই পাঠককে হেল্প করা ভালো, জোর করে হেল্প জোরাজুরি হয়ে যায়। যে স্টলগুলোতে চুপচাপ বই নেড়েচেড়ে দেখা যায়, কয়েক মিনিট পড়া যায় ওই স্টলগুলো ভালো লাগে এবং সেখানে বেশিক্ষণ থাকতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি। এরকম বেশ কয়েকটি প্রকাশনীও রয়েছে যেগুলোতে এ অভিজ্ঞতা নিতে পারি।

তারা বাজারে হাড়ি-পাতিল কেনার সময় অসংখ্যবার উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে-নাড়িয়ে-বাজিয়ে দেখে কিন্তু মানুষের বেলায় তার চেহারা মোবারক দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

শেষ করি ডায়োজেনিসের একটি বচনামৃত দিয়ে-“তারা বাজারে হাড়ি-পাতিল কেনার সময় অসংখ্যবার উল্টিয়ে-পাল্টিয়ে-নাড়িয়ে-বাজিয়ে দেখে কিন্তু মানুষের বেলায় তার চেহারা মোবারক দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।”

মানুষের মুখ দেখেই যেমন সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না তেমনি মলাট দেখে, বই নিয়ে চিৎকার-চেচামেচি, গুজব, হুজুগ দেখে বই কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া সবল সিদ্ধান্ত নয়। দেখে-শুনে-পড়ে, প্রয়োজন ও ভালো লাগা বিচার করেই বই কেনা হউক।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!