উচ্চশিক্ষা: প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ

Reading Time: 2 minutes

পথ চলতে চলতে মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই থমকে যেতে হয়। কখনো দীর্ঘ সময়ের জন্য,কখনওবা সাময়িক সময়ের জন্য। এ সময় পেছন পানে ফিরে তাকালে রীতিমতো চমকে উঠতে হয়। মাঝে মাঝে কেন জানি, এ ছুটে চলাকে বড্ড বেশিই নিরর্থক মনে হয় নিজের কাছেই। আসলেই তো…….!

আচ্ছা, আমরা কেন সর্বদা এভাবে ছুটে চলি?? এ প্রশ্নের উত্তর কখনওই constant হবে না…..বরঞ্চ খুব বেশিই variable হবে। কারণ সবার কাছেই তো জীবনের মানে এক হয় না। এটা একেকজনের কাছে একেকরকম হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ লোকের কাছেই এ ছুটে চলার মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করা…..মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে ওঠা। তবে সবাই এ উপায়কে অনুসরণ করে না। এ উপায়ে হয়ত জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করা যায়…….অনেক অর্থবিত্তের মালিক হওয়া যায়…….কিন্তু স্মরণীয় কেউ হয়ে ওঠা যায় না কখনওই। ইতিহাস কথা বলে…….পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেয়। জীবনে যারা বড় কিছু হয়েছে…….নশ্বর পৃথিবীতে অবিনশ্বর কীর্তি রেখে গেছে, তারা প্রায় সকলেই স্রোতের বিপরীতে গা ভাসানো পাবলিক…….একদিনে যে এটা সম্ভব হয়েছে,তা কিন্তু নয়। কী পরিমাণে যে পরিশ্রম যে তাদের করতে হয়েছে,একমাত্র তারাই বলতে পারবে……কত রাত যে নির্ঘুম কেটে গেছে,সে হিসাব তারা নিজেরাও কখনো রাখার প্রয়োজনবোধ করেনি। অথচ আমাদের প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে দেখুন একটিবার……..এরা বেশিরভাগই সস্তা খ্যাতির দিকে সদা ধাবমান….. অথচ খ্যাতি অর্জনের জন্য বিন্দুমাত্র কষ্ট স্বীকার করতে রাজি হবে না। আমার কথাতে কারো বিশ্বাস না হলে নিজেরাই খোঁজ করে দেখতে পারেন। বিশ্বাস করি,আমার কথার সত্যতা মিলবে এক না একদিন।

বলা হয়ে থাকে যে বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চার সূতিকাগার। এখানে জ্ঞানচক্ষু উন্মোচনের লক্ষ্যে সকল প্রকার বৈশ্বিক শিক্ষা দেয়া হবে। সে জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জাতি তথা সমগ্র দেশ উন্নতি লাভ করবে। অথচ কী জ্ঞানলাভ করছি আমরা?? আসলেই কি আমাদেরকে কোনো বৈশ্বিক জ্ঞানের শিক্ষা দেয়া হচ্ছে??? বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও মুখস্থ বিদ্যার উপরে নির্ভর করতে হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীকে। ভালো সিজিপিএ এর আশায় শিক্ষকদের কাছে তিনবেলা রুটিনমাফিক তেলবাজি করতে হচ্ছে। আবাসিক হলে নিজের মাথাগোঁজার ঠাইটুকু পেতে হলের রাজনৈতিক বড় ভাই/আপুদের গোলামী করতে হচ্ছে তিনবেলাই। বৈশ্বিক শিক্ষালাভ করতে এসে শিক্ষার্থীদের শিখতে হচ্ছে তেলবাজি। রাজনৈতিক বড়ভাইদের ভয়ে তাদেরকে চাঁদাবাজি করতে হচ্ছে এক প্রকার বাধ্য হয়েই! দেশের প্রায় সবগুলো পাবলিক ইউনিভার্সিটির দিকে তাকালে এই একই চিত্রই চোখে পড়বে। স্থান-কালভেদে কেবল রূপ-রসের পরিবর্তন হবে।কিন্তু সকল রসুনের একই গোঁড়া! দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরও একই দশা। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলোতে এরকম চিত্র চোখে পড়ে না সেভাবে। কিন্তু কয়জনেরই বা সাধ্য আছে ভালোমানের প্রাইভেট ইউনিতে পড়ার?? এছাড়া ইদানীং সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী নির্যাতন-ধর্ষণ-খুনের মত ঘটনা। ব্যাপারগুলো এত বেশি কমন হয়ে গেছে যে কোনো ঘটনা নিয়ে বেশিদিন লেখালেখির সুযোগ হয় না সাংবাদিকদের।তার আগেই নতুন কোনো ঘটনা পূর্বের ঘটনার জায়গা দখল করে নেয়। ফলে পত্রিকার পাতার মত মানুষের মন থেকেও হারিয়ে যায় ঘটনাটি।

এ তো গেল একদিকের কথা…….আজকাল আর শিক্ষালাভকে জ্ঞানলাভের উপায় বলে ভাবা হয় না।বরং শিক্ষাকে সার্টিফিকেট লাভ ও চাকরি লাভের মোক্ষম উপায় বলে ধরে নেয়া হয়।বাস্তবেও তেমনটাই হয়।জ্ঞানের বিকাশ কতখানি হলো,তাতে কারো,কিছুই যায়, আসে না। বৈধ-অবৈধ উপায়ে একখানা সনদ বাগাতে পারলেই হয়! কেল্লাফতে! আর কী লাগে চাকরি হতে!!!??কিন্তু বাস্তব জীবনের চিত্র ভিন্ন। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এ লেখাপড়া করে যে অ্যাকাডেমিক জ্ঞান আমরা লাভ করি,তার কতটুকু আমরা ব্যবহারিক জীবনে কাজে আসে?? কতটুকুই বা কাজে লাগাতে পারি??এর হার খুব বেশি কখনওই হবে না। বৈশ্বিক জ্ঞানলাভ থেকে যে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি বিভিন্নভাবে,এর জন্য আসলে কারা দায়ী?? আমরা,নাকি আমাদের সমাজব্যবস্থা……আমাদের রাষ্ট্র……আমাদের কর্তৃপক্ষ?? পারিপার্শ্বিক পরিবেশ আমাদেরকে অন্যায় পথে পা বাড়াতে বাধ্য করছে। রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদের যথাযথ শিক্ষাপ্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে। এতকিছুর পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিং নিয়ে লাফালাফি করা হবে। বিশ্বের একহাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর এ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই বলে ভার্চুয়াল জগতে তোলপাড় করা হবে।পোস্টের উপর পোস্ট দেয়া হবে এ নিয়ে। অথচ যেসব বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে এ র‍্যাঙ্কিং করা হয়,তার কতটুকু এ দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিত করা হয়,সে বিষয়ে কারো বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। কবি এখানেই নিরব!

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!