বাঙালীকে কে বাঁচাবে

Reading Time: < 1 minute

বুক রিভিউ
……………………………….
বই : ” বাঙালীকে কে বাঁচাবে”
লেখক : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
প্রকাশনী :অন্বেষা
বইয়ের উৎস: বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম
পৃষ্ঠা : ১২৭

এমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরি স্যার সুসংগঠিত আন্দোলনকে ই জোড় দিয়েছেন দুর্দশা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে। যে আন্দোলনের একমাত্র লক্ষ হবে সমাজ পরিবর্তন।
স্যার বহি:শক্তির স্বার্থনির্ভর সহযোগিতার আলোকপাত করেছেন। বাঙালী জাতিকে বাঁচাতে পারে তারা নিজেরাই। এ বাঁচার মাধ্যম হতে পারে ভাষা এবং ভালবাসা। প্রধান চর্চাক্ষেত্র থাকবে শুদ্ধ বাংলা আর এক বাঙালির প্রতি আরেক বাঙালির থাকবে আন্তরিক ভালবাসা।

লেখক মাতৃভাষা ব্যাতিত অন্যান্য ভাষাকে যে অগ্রাহ্য করেছেন তা নয়। প্রয়োজনে অধিক ভাষার চর্চা করব তবে অবাঙালি হয়ে নয়। জীবিকার তাগিদে বহির্বিশ্বে গমন করব শিখব নতুন ভাষা আর মিশে যাব নতুন সংস্কৃতিতে। ঠিক সেই সময়টাতেও অন্তরে লালন করব মাতৃভুমি বাংলার প্রতি ভালবাসা আর চর্চায় থাকবে মায়ের ভাষা বাংলা। যেমনটি করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত। বহুবার বিদেশ গমন করেছেন তবে অবাঙালি হয়ে যান নি। ব্যাতিক্রম ঘটেছে এম এন রায় এর ক্ষেত্রে। এই বিপ্লবী নেতা কমিউনিষ্ট হয়ে উঠতে পেরেছেন কিন্তু যথাযথ বাঙালি হয়ে উঠতে পারেন নি।

লেখক বিজ্ঞান এবং বানিজ্যিক বিষয়ের পাশাপাশি মানবিক বিদ্যায় ও জোড় প্রদান করেছেন। শিক্ষাব্যাবস্থা শুধু পুস্তকে সীমাবদ্ধ না রেখে পর্যবেক্ষণ যোগ্য করে তুলতে হবে। এই বক্তব্যে টলটস্টয়ের উদাহরণ চলে আসে ‘জেলখানা যে দেখে নি রাষ্ট্রের চরিত্র সম্পর্কে সে অজ্ঞ’। সত্যি ই তো এককেন্দ্রিক শিক্ষা লাভে আমাদের হৃদয়ে আজ শৈবাল জমে যাচ্ছে। নিজেকে ছড়িয়ে দিতে হবে চারপাশে। বিদ্যার যথার্থ বিকাশে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠা যায়। নইলে ব্যার্থতা আর হীনস্মন্যতায় ঘটে মানুষের ভগ্নাবশেষ।

বায়ান্নতে আবুল বরকত, ঊনসত্তোর এ আসাদ আর নব্বই এ নুর হোসেন রা প্রান দিয়েছেন শুধু বাঙালি বলেই। সুতরাং প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অদম্য সাহসিকতা দিয়েই সুসংগঠিত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যাদের মৃত্যুর মিছিলে আমরা রাষ্ট্র েবং রাষ্ট্রভাষা পেয়েছি, ভাষাকে ভালবেসে বাঙালি হয়ে ই তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার, আপনার এবং আমাদের সবার।।।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!