বারাক ওবামার ‘অডাসিটি অব হোপ’

Reading Time: 2 minutes

আমেরিকার ৪৪ তম ও প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা জুনিয়র । ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয় তার বেষ্ট সেলার মর্যাদা পাওয়া বই ‘অডাসিটি অব হোপ’। ইলিয়নের কনিষ্ঠতম সিনেটর ওবামা ২০০৪ সালে বোস্টনে ডেমোক্রেটিক দলের জাতীয় সম্মেলনে “অডাসিটি অব হোপ” নামে এক বক্তৃতা দেন। অডাসিটি অব হোপ নামটি সেখান থেকেই আসে।

বারাক ওবামা নয় অধ্যায়ের  এই বইটিতে এক গুচ্ছ আদর্শ আর মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে কিভাবে একটি নতুন ধারার রাজনীতির কথা বলেছেন। সেসব নীতিমালার প্রচন্ড বিরোধিতা করেছেন যেসব নীতিমালার বাস্তবায়ন আমেরিকানদের জন্য কলংক হয়ে দাঁড়িয়েছে আর বিশ্বসমাজে তাদের মরযাদাকে করেছে ক্ষুণ্ণ। তুলে ধরেছেন এই সঙ্কট উত্তরণের একটি রূপরেখা। বইটির অনেক জায়গায় তিনি রিপাবলিকানদের কড়া সমালোচনা করেন পাশাপাশি ডেমোক্রেটদের বিভিন্ন ভুল তুলে ধরেন।

ওবামা বইটি শুরু করেন তার রাজনীতি জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ননার মাধ্যমে। পিতৃভূমি থেকে ফিরে এসে হার্ভাড ল কলেজে ভর্তি হন। বছর শেষে চারপাশ থেকে সাফল্য তাকে ঘিরে ধরে। যার

ফলশ্রুতিস্বরূপ হার্ভাড রিভিউয়ের সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর ঠিক দুই বছর পর সম্পাদক থেকে রিভিওয়ের  প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ  প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে হার্ভাড ল’ কলেজ থেকে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি নিয়ে ওবামা শিকাগো শহরে ফিরে আসেন। সেখানে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ল’স্কুলে লেকচারার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন পাশাপাশি আফ্রো- আমেরিকান গরীব লোকদের নিয়ে কাজ করেছেন। সেখানকার সাত বছরের সাফল্য ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা “অডাসিটি অব হোপ” বইটি লিখতে অনুপ্রেরনা দিয়েছে।

প্রথম অধ্যায়ে তিনি ডেমোক্রেট সিনেটরদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কারন এবং তা থেকে উত্তরনের উপায় বর্ননা করেন।  তিনি ডেমোক্রেটদের রিপাবলিকান দের বিরুদ্ধে জয়লাভে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দল দূর করে দূর্নীতি মুক্ত হতে বলেন। দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি রাজনৈতিক সিস্টেমের বিভিন্ন অনিয়ম এবং যার ফলশ্রুতিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিজেদের মূল্যবোধ জলাঞ্জলি দেওয়ার বিষয়ে বলেন। তিনি বলেন একটি সাফল্যমণ্ডিত রাজনৈতিক সিস্টেমে থাকবে আপোস, সমঝোতা ও সহযোগীতা।

তৃতীয় অধ্যায়ে ওবামা আমেরিকার  সংবিধান নিয়ে কথা বলেন। সিনেটের বিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান সদস্যদের সাথে তরুন সাংসদদের অনেকসময় মতভেদ সৃষ্টি হয়। একজন নিষ্ঠাবান সিনেটর সংবিধান ও আইন প্রনয়নের ক্ষেত্রে কি করা উচিত এবং তার ব্যতিক্রম হলে কি হবে সে বিষয়েও বলা হয়েছে এ অধ্যায়। পরবর্তী অধ্যায়ে রাজনীতি ও রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে বলা হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়ে তিনি সাংস্কৃতিক,  সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্হিতির কারনে আমেরিকার অর্থনীতির ক্রমবিবর্তন বিষয়ে বলেন। এ অধ্যায়ে তিনি শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সমস্যা ও তার সমাধানের ব্যাপারেও আলোকপাত করেন। পরবর্তী দুটি অধ্যায়ে ওবামা নিজের উদাহরন টেনে বর্ননা করেন ধর্মীয় বিশ্বাস ও বর্ণবাদ যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে প্রভাব ফেলে। বর্ণবাদের কারনে তিনি যে তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন সে বিষয়টিও ওঠে আসে তার এই বইয়ে।

পরবর্তী অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কুটনীতি,  প্রতিরক্ষা কৌশল ও ইন্দোনেশিয়ায় বসবাস কালে তার অভিজ্ঞতার আলোকে আন্তর্জাতিক অ্যাফেরার নিয়ে আলোকপাত করে। তিনি আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক কৌশলে আরো দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বান জানান। যদিও ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়ান ইলাভেন সন্ত্রাসী হামলা একতরফা দমনকে উৎসাহিত করছে তবুও ইরাক যুদ্ধকে আমেরকা দুর্বলভাবে মোকাবেলা করেছে বলে মনে করেন।

বইটির সর্বশেষ অধ্যায়ে ওবামা তার পরিবারের সাথে তুলনা করে আমেরিকার পরিবারগুলো যে বাধা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে তা  নিয়ে কথা বলেন। অর্থনৈতিক মন্দার কারনে মৌলিক চাহিদা পূরনে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারে বাবা মা দু জনকেই ২৪ঘন্টা ঘরের বাইরে কাজের জন্য অবস্থান করতে হয় । এটি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য ক্ষতিকর।  তিনি নিজে এ পরিস্তিতিতে পরিবারও কর্মক্ষের সাথে  ভারসাম্য রক্ষা করতে চেষ্টা করেন এবং সকলকে তা পালনের ব্যাপারে উৎসাহী হতে বলেন। ।

পরিশেষে বলা যায় আত্মজীবনীর নিরিখে রাজনীতির অসামান্য দলিল “অডাসিটি অব হোপ” । একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি যেমন বইটি পড়ে অনেক দিকনির্দেশনা পেতে পারেন ঠিক তেমনি একজন সাধারন ব্যক্তিও শিক্ষা নিতে পারেন প্রতিকূল অবস্থা থেকেও কিভাবে সাফল্য অর্জন করা যায়, মহানায়ক হওয়া যায়।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!