মুজেস এন্ড মনোথিইজম-সিগমুন্ড ফ্রয়েড

Reading Time: 2 minutes

সিগমুন্ড ফ্রয়েডের এই ছোট্ট কেতাবটির প্রধান হাইপোথিসিস হচ্ছে মুসা ইহুদি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মিশরীয়। কোন সম্প্রদায়ের জীবনে যদি বড় কিছু ঘটতে যায় তাহলে ঐ সম্প্রদায় থেকেই নেতৃত্ব আসতে হয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে ইহুদিদের জন্য একজন মিশরীয় লাগলো কেন? আবার কীভাবে সেই মিশরীয় ব্যক্তিটি সেই বিশৃঙ্খল জনতাকে জাতিতে রূপান্তর করেন?

মনে রাখতে হবে মুসা/মুজেস নামটি ভূৎপত্তিগতভাবে মিশরীয়। মুজেসের একেশ্বরবাদ নতুন ছিল না মিশরে। মুজেস যে নতুন ধর্ম নিয়ে আসলেন সেটা মুজেসের নতুন আবিষ্কার না। মিশরের অনেকগুলো ধর্মের মধ্যে সেটাও ছিল। যদিও সেটা মিশরের একমাত্র ধর্ম ছিলো না। অ্যামেনোফিস নামে মিশরীয় রাজা একেশ্বরবাদ প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু ১৩৫৮ খ্রি.পূ. তার মৃত্যুর পর সেই ধর্মবিশ্বাস হারিয়ে যেতে থাকে। পরবর্তী ফারাওরা তার ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তার সম্পর্কে জানা যায় সেই ফারাওয়ের বানানো একটি রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, একটি সমাধিসৌধের মধ্যে লেখা কিছু কথা থেকে।

কোন ফারাও বা রাজার ইতিহাস রাজবংশ থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা মিশরীয় রাজ পরিবারে নতুন কিছু নয়। মিশরের প্রথম রাণী বা বিশ্বের প্রথম নারী রাষ্ট্রপ্রধান/ফারাও হাতেশপুৎ, রাণী নেফারতিতি থেকে শুরু করে ক্লিওপ্রেট্রার ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে মিশরের রাজ পরিবারে।

একেশ্বরবাদী অ্যামেনোফিস বা আখনেটনের উত্তরসূরী মুজেস বা মুসা। সেই অ্যামেনোফিস বা আখনেটন কি ইউনূস বা জোনাহ সেটা ভাবনার বিষয়।

মুজেস তার অনুসারীদের জন্য খৎনা প্রথা চালু করেন নিজের অনুসারীদের জন্য। অবশ্য মিশরীয়রা অনেক আগে থেকেই নাকি এ প্রথা অনুসরণ করতো। অবশ্য খৎনা প্রথা চালু হয় আব্রাহামের সময় থেকে। ঈশ্বরের সাথে একটি চুক্তির ফলশ্রুতিতে আব্রাহাম এই প্রথার সূচনা করেছিলেন। মিশরীয়রা সেটা অনুসরণ করতো। হয়তো ইতিহাসের কোন এক পর্যায়ে আব্রাহামিক রীতি ও ধর্মাচার মিশরীয়দের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। ইতিহাসের জনক হিসেবে পরিচিত হিরোডোটাস ৪৫০ খ্রি.পূ. মিশর ভ্রমণ করেছিলাম। মিশরীয়দের নিয়ে তার পর্যবেক্ষণ লিখে যান। মিশরীয়দের ধর্মচর্চা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানাদির আধিক্য নিয়ে কথা বলেন হিরোডোটাস। হিরোডোটাস ও মিশরীয়দের খৎনা প্রথা নিয়ে কথা বলেন। মিশরীয়রা নাকি ভারতীয়দের মতো গরুকে অনেক সম্মান করতো। গোহত্যা মিশরেও নিষিদ্ধ ছিলো কারণ এতে শিং ওয়ালী দেবী আইসিসের অপমান বলে ধরা হতো।

মুজেস এর উচ্চাকাঙ্খা নিয়ে লিজেন্ডে তার ছোটবেলার কথা বর্ণিত আছে। তখন তার বয়স তিন। ফারাওয়ের কোলে খেলছিলেন মুজেস। শিশুদেরকে শূন্যে নিক্ষেপ করার খেলা খেলছিলেন ফারাও। যখন উপরের দিকে নিক্ষেপ করা হয় মুজেস নাকি ফারাওয়ের মাথা থেকে মুকুট ছিনিয়ে নেয় এবং সেটা নিজের মাথায় পরে ফেলে! পরবর্তীতে ফারাও তার জ্যোতিষিদের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা চান।

বিশ্বের বেশিরভাগ মহামানব, কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠির নেতাদের কিছু ব্যক্তিগত দুর্বলতার উপস্থিতির মতো মুজেসেরও কিছু সমস্যা ছিল। তিনি তোতলা ছিলেন, কথা বলতে সমস্যা হতো তার কথা কুরআনেও বর্ণিত আছে। এ নিয়ে একটি দোয়া তো মুসলমান ছাত্রদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। কথায় সমস্যার কারণে ফারাওয়ের সম্মুখে কথা বলার জন্য তাকে ভাই অ্যারন বা হারুনের সহায়তা নিতে হতো।

আরেকটি সমস্যা ছিল সেটা হলো তিনি ছিলেন খুবই বদরাগী। রাগের মাথায় ঘুষি দিয়ে একজনকে মেরে ফেলেছিলেন। আবার নিজ অনুসারীদের উপর রাগ করে নাকি ঐশী নির্দেশনা সম্বলিত পাথরখণ্ডগুলো ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। এতে ঈশ্বর নাকি তাকে একটি কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন। অবশ্য ইহুদি লিটারেচারে এ নিয়ে বিস্তারিত লেখা নেই। কারণ একটি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতার নেতিবাচক খবর প্রকাশ করতে আগ্রহী না হওয়াই ওই সম্প্রদায়ের কাছে স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য।

তাকে ঈর্ষাপরায়ন, কঠোর ও নির্মম হিসেবে দেখানো হয়েছে কিছু কিছু জায়গায়। বিশাল একটি বিশৃঙ্খল জনতাকে জাতিতে রূপান্তরিত করা, ক্ষমতায়িত করার জন্য কওমের নেতা হিসেবে তার মধ্যে এ গুণগুলোর উপস্থিতি থাকা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়।

তথসূত্র:

মুজেস এন্ড মনোথিইজম

সিগমুন্ড ফ্রয়েড    

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!