ধনঞ্জয়-ভাবিয়ে দেওয়ার মতো মুভি

Reading Time: 2 minutes

এই সিনেমা অাপনার চোখ খুলে দেবে। অাপনাকে নতুন করে ভাবতে শেখাবে, বিবেককে অারেকটু ঝাঁকিয়ে নেয়ার তাড়া দেবে। অামার- অাপনার অাশপাশে যা ঘটছে,যা অাপনি দেখছেন, মিডিয়া অাপনাকে যে তথ্য দিচ্ছে অার সোশাল মিডিয়ায় যেভাবে অাবেগ ঝরছে , সেসবের পোস্টমর্টেম করার অনুষঙ্গ পাবেন এখানে। সিনেমাটির এক জায়গায় চমৎকার একটি ডায়ালগ অাছে ” মিডিয়া অার সোসাইটি অাদালতের বাইরে অারেকটি অাদালত”।

Injustice anywhere is a threat to justice everywhere

সিনেমার শুরুতেই পর্দায় ভেসে এলো মার্টিন লুথার কিংয়ের সেই উক্তি, “Injustice anywhere is a threat to justice everywhere”. অাদালতের রায়ে ফাঁসি হয়েছিল নিরপরাধ ধনঞ্জয়ের! অাদালত রায় দিয়েছিল ঠিকই, তবে পুরো ব্যাপারটাই ঘটেছে জনমত অার মিডিয়া ট্রায়ালের কারনে। এই নিরপরাধ ব্যক্তির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল একটা মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়। এবার কাহিনীতে ফিরে যাওয়া যাক।

১৯৯০ সালে কোলকাতার সুনন্দা এপার্টমেন্টে খুন হয় হিমা পারেক নামের এক মেয়ে। সেখানেই সিকিউরিটি গার্ড কাম ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন ধনঞ্জয়, বাতি লাগানো, ফোন ঠিক করা অার বিদ্যুত বিল- টিল দেয়া ছিল তার কাজ। পুলিশ ধনঞ্জয়কে ধরে নিয়ে যায়। সাজানো সাক্ষ্যিদের উপর ভর করে সঠিক তদন্ত না করে বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করা হয় ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে। অাসামি পক্ষের অাইনজীবীর ব্যর্থতা অার ভুয়া পুলিশি অ্ভিযোগপত্র ও প্রসিকিউশন টিমের মারপ্যাঁচে অাদালত ধনঞ্জয়কে ফাঁসি দিয়ে দেয়। যদিও তাড়াহুড়া করতে গিয়ে অনেক ফাঁকফোকর রয়ে যায় পুলিশি তদন্তে যা ফাঁসি পরবর্তী পুনঃতদন্তে বেরিয়ে অাসে। কারন দ্রুত বিচারের তাড়া ছিল মিডিয়া, জনগণ’সহ সব দিক থেকে।

২০০৪ সালে অর্থাৎ হত্যাকান্ডের ১৪ বছরের মাথায় ধনঞ্জয়ের ফাঁসি কাযর্কর করে সরকার। এত বছর কারাগারেই বন্দি ছিলেন তিনি। ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়ার অাগে ধনঞ্জয় বিড় বিড় করে বলতে থাকে ‘ অামি গরীব বলে অামার অাজ ফাঁসি হচ্ছে,অার যেন কারো এমন না হয়।”

নিরপরাধ স্বামীর পরিণতি দেখে মুষড়ে পড়ে ধনঞ্জয়ের স্ত্রী চন্দ্রা। এ অবস্থায় ধনঞ্জয়ের কেসটি রি-ওপেন করেন কাপুসিনা নামে কোলকাতার এক নারী অাইনজীবী। এক সিনিয়রের সহায়তায় পৃথক অাদালতে মিস সিনা প্রমাণ করেন ধনঞ্জয় নির্দোষ ছিল, সে মূলত মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছিল। সিনা ও তার সিনিয়র অাইনজীবীর জেরায় বেরিয়ে অাসে নতুন তথ্য, প্রমাণিত হয় হিমা পারেক অনার কিলিংয়ের (honour killing) শিকার হয়েছিলেন! অার তাকে হত্যা করেছিলেন তার মা সুরভি পারেক। অথচ এই সুরভি পারেকের মিথ্যা জবানিতে খবরের কাগজগুলো মুখরোচ ক খবর প্রকাশ করতে লাগল। ভোট ব্যাংকের চাপ বাড়তে লাগল, সমাজের চাপ বাড়তে লাগল ‘যে ধর্ষণ করেছে তাকে ইমেডিয়েটলি ফাঁসি দাও’; যেখানে হিমা ধর্ষণের শিকার ই হয়নি,বরং সে তার প্রেমিকের সাথে স্বেচ্ছায় যৌনমিলন করেছে। অার এতে ক্ষুব্ধ হয়েই নিজ মেয়েকে হত্যা করেন সুরভি পারেক। সিনেমার একেবারে শেষের দিকে সিনার কতগুলো ডায়ালগ ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তার মধ্যে একটা ডায়ালগ হচ্ছে, “এরপর অামরা জনমত তৈরি করে যে কোন একজন মানুষকে থেঁতলে মেরে ফেলব অার মিডিয়া তার এক্সক্লুসিভ কাভারেজ দেবে!!!”

-সোহেল রানা

Spread the love

Related Posts

One Response

Add Comment

error: Content is protected !!