রোহিঙ্গা গণহত্যা ও জাতিগত নিধন নিয়ে বিডিএসএফ কুবির ৪৫তম লেকচার

Reading Time: 2 minutes

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫তম পাবলিক লেকচার মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কলা ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ৫০১ নং কক্ষে বিকাল ২:৩০ মিনিটে এই পাবলিক লেকচার শুরু হয়েছে। লেকচারের এবারের বিষয় ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও জাতিগত নিধন: বাংলাদেশের করণীয়’।

লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মাসুদা কামালের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর হোসাইন। এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরী আলোচনা করবেন রোহিঙ্গা

ইস্যূতে ‘আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও আমাদের অবস্থান (অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত) এবং মোহাম্মদ আকবর হোসাইন আলোচনা করবেন রোহিঙ্গা শরণার্থী: একটি মানবিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এর উপর।’ এই লেকচারটি আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুক ইভেন্ট লিংক: https://www.facebook.com/events/181914135712621/

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম যে উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে লেকচার আয়োজন করছে সেগুলো হলো:

প্রথমত, কয়েক দশক রাখাইনে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন চালাচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। তাই ১৯৭১ সালে বিশ্বের জঘন্যতম গণহত্যার শিকার হওয়া বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব যেকোন গণহত্যার বিরুদ্ধে দাড়ানো।

দ্বিতীয়ত, আরাকানের সাথে আমাদের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের ইতিহাস অনেক লম্বা। বাংলা সাহিত্যের বেশ কয়েকটি সোনালী ঐতিহ্যের কমন উত্তরাধিকার আমাদের। তাদের প্রতি প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক আইনের R2P (Responsibility to Protect) নীতির আলোকে বাংলাদেশসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্রের রোহিঙ্গাদের রক্ষা করার দায়িত্ব রয়েছে|

তৃতীয়ত, রাখাইনে সংকট বাংলাদেশের সংকট হিসেবেও দেখা দিয়েছে। রাখাইনে সংকটের ফলে বাংলাদেশও গভীর এক জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকটে পড়েছে। বিশেষত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক সাম্যাবস্থা এবং সাংস্কৃতিক সহাবস্থান ইত্যাদি ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশকে নানান প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হবে|

এই পরিস্থিতিতে চলমান সংকট অনুধাবন, এর অতীত কারণ তল্লাশ এবং এর সমাধানের পথ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের তরুণ স্কলাররা কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ যে কোনো দেশে সিভিল সোসাইটি সংকটের সময় একটি থিঙ্ক ট্যাঁক হিসেবে কাজ করে| এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে একাধিক লেকচার, পাঠচক্র ও আলোচনার আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এই সংকটটি নিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে যা মূলত মানবাধিকার রক্ষায় আমাদের জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করবে।

 

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!