লালব্রিজ গণহত্যা : মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়

Reading Time: 2 minutes

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরামের ধারাবাহিক সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচারের ১০১ তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ডাকসু ভবনে গত ০৫ আগস্ট, শনিবার বিকল ০৪:৩০ টায়। ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারী ১ম পাবলিক লেকচারের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা বিডিএসএফ ইতিপূর্বেই উদযাপন করেছে ১০০তম পাবলিক লেকচার। এই অর্জন বিডিএসএফ প্রত্যেক সভ্যের জন্য অনেক বেশি আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার।

১০০ তম পাবলিক লেকচার উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘উচিৎ শিক্ষা : সংকট ও সমাধান’ শীর্ষক আলোচনায় অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্যার বলেছিলেন, ‘ইতিহাসের জ্ঞান ছাড়া কোন জ্ঞানই পর্যাপ্ত নয়’। অর্থাৎ ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবার শিক্ষা আমাদের অতীত থেকেই গ্রহন করতে হবে। আর বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসের একটি অন্যতম অধ্যায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন বাঙালি জাতির সোনালি ইতিহাস, কিন্তু এই গৌরব অর্জনে ত্যাগ করতে হয়েছে ৩০ লক্ষ প্রাণ, ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম এবং সহ্য করতে হয়েছে পাকবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন।

ইতিহাসের এই অধ্যায়ের সকল অর্জন এবং ত্যাগ সমান ভাবে জানার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বিডিএসএফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ তম পাবলিক লেকচার, যার শিরোনাম ছিল ‘লালব্রিজ গণহত্যা : মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায়’। ১৯৭১ সালে সংঘটিত আলমডাঙ্গার গণহত্যার উপর রচিত গবেষণামূলক বই এই ‘লালব্রিজ গণহত্যা’। বইটির উপর আলোচনা উপস্থাপন করেন বইয়ের লেখক ও গবেষক জনাব ইমরান মাহফুজ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার স্টিলব্রিজ সংলগ্ন ওয়াপদা ভবনের পাশে সংঘটিত হত্যাকান্ড এবং নির্যাতনের প্রতিচ্ছবি শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন ইমরান মাহফুজ। তিনি বলেন- বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে একাত্তরের ঘাতকদের এক জল্লাদখানা ও বধ্যভূমি আবিষ্কারের চাঞ্চল্যকর সংবাদ তথ্য, যা ৪৫ বছরে ইতিহাসের পাতায় ঠাই হয়নি। বলা যায় মুক্তিযুদ্ধের এক অজানা অধ্যায়। লালব্রিজ চুয়াডাঙ্গার জেলার আলমডাঙ্গা থানার রেলব্রিজের সংলগ্ন একটি জায়গা। যুদ্ধকালীন সময় পাক ঘাতকরা ট্রেন থামিয়ে স্বাধীনতাকামী প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষকে হত্যা করে রেলব্রিজের পাশে ওয়াপদা ভবনের বাউন্ডারি মধ্যে ও পার্শ্ববর্তী দু’টি বধ্যভূমিতে পুঁতে রাখে।

গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হোসেনের ভাষ্যমতে তাঁর জমিতেই প্রায় একহাজার নারী-পুরুষকে খানসেনারা হত্যা করে পুঁতে রেখেছে। ’৭১ এর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে রেলব্রিজের কাছের ওই বধ্যভূমি খনন করে ৪শ’ মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড় তুলে ছবি তুলে রাখা হয়েছিল। তবে ওখানে আরও প্রায় এক দেড় হাজার দেহাবশেষ রয়েছে।

ইমরান মাহফুজ আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে এবং বুকে ধারন করতে হলে আমাদের একাধিক তথ্য উৎসের সন্ধান করতে হবে। প্রয়োজনে যেতে হবে গ্রামাঞ্চলে, কথা বলতে হবে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের সাথে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সেই দুঃখের সময়ের সাক্ষী হয়েছে। আর এই দায়িত্ব নিতে হবে তরুণদেরই। তবেই কেবল সম্ভব স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস ধারন করে সামনে এগিয়ে যাওয়া। এছাড়া লেকচারে অংশগ্রহনকারী শ্রোতাদের মধ্যে থেকে কয়েক জন মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত আরো কয়েকটি গণহত্যার খবর তুলে ধরেন, যা কেবল আড়ালেই থেকে যায়।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!