লাল নীল দীপাবলি

Reading Time: 2 minutes

আপনজনদের রুপ এবং হৃদয়ের বদল দেখতে দেখতে ক্লান্ত পথিকদের জন্য এক পশলা খোরাক হতে পারে বাংলা সাহিত্যের সৌন্দর্যরূপের বদল দেখা। উপন্যাস, আত্মকাহিনী, গল্প,নাটক, সনেট, কাব্যগ্রন্থ, কাহিনীকাব্য, রম্যরচনা, শিশুতোষ গল্প, ছোট গল্প,প্রেম,বিরহ,পরিণতি -কী নেই বাংলা সাহিত্যে! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক ড: হুমায়ুন আজাদ স্যার বাংলা সাহিত্যের নানা রঙের দীপ নিয়ে ছন্দের তালে তালে সৃষ্টি কররছেন “লাল নীল দীপাবলি “।

লেখকের লেখনীতে শুরুতেই একটু মতপার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যের ১৩৬৭ বছরের ইতিহাসের মাঝে প্রাচীন যুগ কে ধরা হয় ৬৫০ থেকে ১২০০ পর্যন্ত সময়কাল। কিন্তু বইটিতে উল্লেখ আছে প্রাচীন যুগটি ৯৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত যা ড: সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সাথে মিলে যায়।

লেখকের বর্ণনায় উঠে আসে “বাঙালা ” নামের উৎপত্তি। সম্রাট আকবরের সভার রত্ন আবুল ফজল বলেছেন বঙ্গ শব্দের সাথে “আল ” শব্দটি যোগ হবার পর আমরা পেয়েছি “বাঙাল” শব্দটি। বৃষ্টি বা বর্ষায় পর্যাপ্ত বাঁধ বা আল ছিল বলে ই এদেশের নাম হল বাঙালা বা বাঙলা।

১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল কর্তৃক প্রক্ষাপট সূচিত হয়ে ১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্রী কর্তৃক আবিষ্কৃত চর্যাপদ ই ছিল প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন। মধ্যযুগে বৈষ্ণবপদাবলি এ এবং আধুনিক যুগে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, প্যারীচঁাদ মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র, দীনবন্ধু, রবীন্দ্রনাথ, বিহারীলাল,মশাররফ হোসেন, কায়কোবাদসহ অসংখ্য তীক্ষ্ণ প্রতিভার।

মঙ্গলকাব্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক যেন জানার তৃষ্ণা আরও বাড়িয়ে দিলেন। দুই পৃষ্ঠা উল্টোতেই জানা যাবে রাধা-কৃষ্ণ, বেহুলা-লক্ষীন্দরের কাহিনী।

লোকসাহিত্যের এক উপাদান “ছড়া” বইটির মাঝপথে ক্লান্তি দূর করে দিবে। আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে, ঝাঁঝর কাসর মৃদঙ্গ বাজে- এসব আবোলতাবোল ছন্দ মনের ভিতর এমনিতেই গুনগুনিয়ে দেহে নৃত্যের একটুখানি ঝংকার তুলে দিবে। উনিশশতকের পর্তুগিজ কবি অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির বাংলার প্রতি আকাঙ্খা আমাদের বাঙালিদের মধ্যে বাংলা জানার আগ্রহকে দ্বিগুণ করে দিবে। যদিও লেখকের সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় অ্যান্টনির কথা বিস্তারিত তুলে ধরা সম্ভব হয় নি, তবুও “জাতিস্বর” মুভি থেকে সহজে ই এ পর্তুগিজ কবি সম্পর্কে সহজে হজম করা যাবে।

বর্তমান যুগে এসে বাংলা সাহিত্যের পুরোনো রত্নভান্ডার কে সঙ্গী করেই এগোতে হবে। পুরাতন মুক্তোদানা গুলো কে পাশে রেখে বাংলা সাহিত্যে নতুন নতুন সৃষ্টির দীপ জ্বেলে দিতে হবে। আর তবে ই সাহিত্য নামক মোমবাতির আলোয় আলোকিত হবে শিশু, কিশোর,যুবক,বৃদ্ধসহ সমগ্র মানবজাতি।

Image may contain: text
Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!