লেকচার রিভিয়্যু : কারাগারের রোজনামচা

Reading Time: 2 minutes

বাংলাদেশ স্ট্যাডি ফোরাম তার একদল অদম্য, মেধাবী ও সাহসী কর্মীদের নিয়ে ছুটে চলেছে দূর্বার গতিতে। লক্ষ তাদের একটাই “বাংলাদেশের চোখে বিশ্বকে দেখা”। বিশ্ব দেখার সেই চোখের জ্যোতিকে প্রখর করবার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জ্ঞান। আর সেই জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে “সাপ্তাহিক পাবলিক লেকচার”। বাংলাদেশ স্ট্যাডি ফোরাম তার এই দীর্ঘ পথচলায় অতিক্রম করল ৯৮ টি পাবলিক লেকচার। ৯৮ তম পাবলিক লেকচারের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা “কারাগারের রোজনামচা” বইটি নির্ধারণ করা হয়েছিল। বইটির উপর সুন্দর গাঠনিক আলোচনা তুলে ধরেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গবেষক ড. কাজল রশীদ শাহীন।

ড. কাজল রশীদ শাহীন আজকের আলোচনার সূত্রপাত করেন অসাধারণ একটি ভুমিকা রচনার মাধ্যমে, যেখানে তিনি তুলে ধরেন “কারাগারের রোজনামচা” বইটি শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা কিনা তার যুক্তি ও প্রমান। তিনি বলেন বইটি যে শেখ মুজিবের লেখা তার প্রমান পাওয়া যায় পূর্বে প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” এবং ঐতিহাসিক ভাষণ গুলোর পরম্পরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে।

৯৮ তম পাবলিক লেকচারের আলোচনার জন্য কারাগারের রোজনামচা বইটি নির্ধারণ করা হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একজন মানুষ মুজিব। জনাব কাজল রশীদ শাহীন যখন বইটি থেকে শ্রোতাদের সামনে মানুষ মুজিব কে উপস্থাপন করছিলেন তখন তিনি তার ভাষা জ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রয়োগ দেখিয়েছেন। আলোচকের শব্দ চয়ন ছিল অত্যন্ত মার্জিত ও পরিশীলিত যা শ্রোতাদের আলোচনায় ডুবিয়ে রাখার একটি মন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

আলোচক কারাগারের রোজনামচা থেকে একজন মানুষ মুজিব কে তুলে ধরার জন্য বইটি থেকে কয়েকটি ঘটনার অবতারনা করেন। যার একটি ছিল মোরগ-মুরগীর ক্রয় এবং তাদের পর্যবেক্ষণ। শেখ মুজিব বলেন “আমি মোরগের চলাফেরা দেখে আনন্দ পেতাম, কারণ তাদের চলার মধ্যে গাম্ভীর্য লক্ষ করতাম”। শেখ মুজিব কারাগারের মধ্যে ফুলের বাগান করতেন। এ থেকে খুব সহজেই অনুমান করা যায় তিনি কতখানি সাধারণ মনের অধিকারি ছিলেন।

আলোচক আরেকটি ঘটনার মাধ্যমে শত অনিশ্চয়তার মধ্যেও একজন শান্ত মুজিবকে তুলে ধরেন। একবার রাত ১ টার সময় বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়, কিন্তু সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে। সামনে তার হয়তো বিপদ কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান তাতে মোটেও বিচলিত ছিলেন না, বরং তিনি নিশ্চিন্ত মনে আকাশের সৌন্দর্য অবলোকন করছিলেন। তিনি কারাগারের এত অত্যাচারের প্রতিবাদে বলেছিলেন “তোমরা আমাকে পাগল বানাতে পারবেনা, উল্টো আমি তোমাদের পাগল করে ছাড়বো”। এমনই পাহাড়সম দৃড়তা ও জয়ের আকাঙ্খা ছিল তার মনে।

কারাগারের রোজনামচা বইটি মূলত শেখ মুজিবুর রহমানের কারাগার জীবনের “ডেইলি ডায়েরী”। আজকের আলোচনার পর মনে হয়েছে “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” পড়ার পর মনের মধ্যে যে অসম্পূর্ণতার ছায়া ভেসে উঠেছিল, এই বইটি কিছুটা হলেও সেই ছায়াকে দূরীভুত করতে পারবে।

প্রধান আলোচকের আলোচনা উপস্থাপনের পর বরাবরের মতই উপস্থিত শ্রোতাদেরকে তাদের নিজের মতামত বা প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং যথারীতি সেগুলোর উত্তর তুলে ধরেন ড. কাজল রশীদ শাহীন।

সবশেষে জনাব ইমরান মাহফুজ “কারাগারের রোজনামচা” বইটির উপর গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপনের মাধ্যমে ৯৮ তম পাবলিক লেকচারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আপনারা জানেন একটি আলোচনা অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে একজন দক্ষ ও মেধাবী সঞ্চালকের অবদান কিছু কম নয়। আজকের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্ব ছিলেন রওনক জাহান। তাকে নিয়ে একটি কথা বলতেই হয়- তিনি উপস্থিত যে কোন বিষয় নিয়ে খুব সহজেই এত সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলেন যা শ্রোতাকে মোহিত করবেই।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!