সনেটের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

Reading Time: 3 minutes

সনেটের জন্ম বিত্তান্ত খানিকটা অস্পষ্টতায় ঢাকা। সাধারণত চতুর্দশ শতকের ইতালীয় কবি পেত্রার্ককে সনেটের জনকের সন্মান দেওয়া হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ শতকের শেষের দিকে আরেজ্জোর গিট্টোন (১২৩৫-১২৯৪) ইতালীয় ভাষাতে শুধু সনেট লিখেই খান্ত হননি সনেটের রীতিনীতি ও নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। গিট্টোন অন্তত ২৫০টির মতো সনেট লিখেছেন বলে জানা যায়। গিট্টোনের দাড় করানো রীতিনীতি অনুসরণ করেই সনেট লিখেছেন পেত্রার্ক (১৩০৪-১৩৭৪) ও দান্তে আলিগিরি (১২৬৫-১৩২১)।

কবি পেত্রার্ক

১৪ লাইনের একটি বিশেষ ধরণের লিরিক কবিতাকে সনেট বলা হয়ে থাকে। সনেটকে আরও সুন্দর জায়গায় নিয়ে যান পেত্রার্কের মতো শক্তিমান কবি। ১৪ লাইনের কবিতাকে অষ্টক ও ষষ্টক এই দুইভাগে ভাগ করেন তিনি। ১৪টি চরণে সংগঠিত কবিতার প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক(Octave) এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক(Sestet) বলে।অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্টকে ভাবের পরিণতি থাকে।

লরা নামে একটি মেয়েকে উদ্দেশ্য করে লেখা পেত্রার্কের প্রেমের কবিতাগুলো বিশ্বের সুন্দরতম প্রেমের কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।

পেত্রার্কের একটি সনেটের নমুনা

পরবর্তী কয়েক শতকের কবি সেই ধারা অনুসরণ করে সনেট লিখেছেন। কিন্তু তারা পেত্রার্কের ছায়ার নীচে হারিয়ে গেছেন বা তাদের মধ্যে পেত্রার্কের কাব্যক্ষমতার অভাব ছিল। এজন্য প্রেমের সনেট কবিতাগুলো একটি বিরক্তিকর প্রকরণে দাড়িয়েছিল যেখানে কোন নিঠুর প্রেয়সীকে উদ্দেশ্য করে কবিতাটি লেখা হতো যে কীনা প্রেমিক কবিকে অবজ্ঞা করে যেতো। সুন্দরী প্রেয়সীকে উদ্দেশ্য করে এরকম আকুতিভরা হাহাকার ছিল সনেটের মূল বয়ান।

একই প্রকরণের অতিরিক্ত ব্যবহার, বৈচিত্র্যহীন উপস্থিতি, জোর করে আনা ছন্দ সনেটকে বিরক্তিকর জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল ১৪শ থেকে ১৬শ শতকের কবিকুল। সনেটে বৈচিত্র্য নিয়ে আসেন, ধারায় সমূলে ধাক্কা ব্যক্তিটি হচ্ছেন উইলিয়াম শেইক্সপিয়র।

প্রেয়সীকে বিভিন্ন আজগুবি ও অতিপ্রাকৃতিক বস্তুর সাথে তুলনা করার রীতি রহিত করেন ইংরেজি ভাষার শ্রেষ্ঠ এই কারিগর। সনেটে নতুন একটি ধারা, নতুন একটি ভঙ্গিমা নিয়ে আসেন শেইক্সপিয়র।

William Shakespeare. Portrait of William Shakespeare 1564-1616. Chromolithography after Hombres y Mujeres celebres 1877, Barcelona Spain

শেইক্সপিয়রের সনেট ১৩০ ও সনেট ১৮ তার সুন্দরতম উদাহরণ। সনেট ১৩০ এ প্রিয়তমার রূপ বর্ণনার ভঙ্গিমাটি দেখুন। অতীতের সকল সনেট রচয়িতাকে বাঁশ দিয়েছেন।

Sonnet 130:

My mistress’ eyes are nothing like the sun

BY WILLIAM SHAKESPEARE

My mistress’ eyes are nothing like the sun;

Coral is far more red than her lips’ red;

If snow be white, why then her breasts are dun;

If hairs be wires, black wires grow on her head.

I have seen roses damasked, red and white,

But no such roses see I in her cheeks;

And in some perfumes is there more delight

Than in the breath that from my mistress reeks.

I love to hear her speak, yet well I know

That music hath a far more pleasing sound;

I grant I never saw a goddess go;

My mistress, when she walks, treads on the ground.

   And yet, by heaven, I think my love as rare

   As any she belied with false compare.

প্রিয়তমাকে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক জিনিস, চাঁদ, সূর্য, তারা, নদী-খাল বা সমুদ্রের সাথে তুলনা বাদ দিয়ে সে যা তার রূপ নিয়েই শেইক্সপিয়র যে সনেট লিখেন তা সেই পুরানা কাসুন্দির বাজার ভেঙ্গে দেন। অতি সাধারণ ও স্বাভাবিকের মাঝেই যে অপার সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকতে পারে তার সুন্দর নতিজা এই সনেট ১৩০। উইলিয়াম শেইক্সপিয়রের আরেকটি বিখ্যাত সনেট আছে যেখানেও টিপিক্যাল তুলনাগুলো প্রশ্নের মুখে ফেলেন। কবিতাটি সনেট ১৮। কবিতাটি পড়ুন:

আগের কবিরা যেসব জিনিসের সাথে তুলনা করতো সেগুলো যে কত দুর্বল সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন শেইক্সপিয়র। কবিতার শেষ লাইনে চরম আশাবাদ কবির। যতদিন মানুষ শ্বাস নিবে, চোখে দেখবে, যতদিন মানুষ এই কবিতা পড়বে ততদিন কবির প্রিয়জনটি নতুন জীবন পাবে।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!