সায়েন্স টক – ০২ : “মানব রক্তের গ্রুপ ভিন্নতা”

Reading Time: 2 minutes

রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা। এর স্বাদ সামান্য ক্ষারীয় কারন রক্তের PH মাত্রা গড়ে ৭.৩৬-৭.৪৫। দেহের ভিতরে রক্তের তাপমাত্রা ৩৬-৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস হয়ে থাকে। রক্তের মধ্যে প্রধান অংশ হচ্ছে রক্তকণিকা। রক্তে মোট তিন ধরনের কণিকা পাওয়া যায়। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অনুচক্রিকা। তবে রক্তের গ্রুপ বিভাগের জন্য লোহিত রক্তকণিকাকেই বেছে নেয়া হয়।

১৯০১ সালে আমেরিকান জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) মানুষের রক্তের শ্রেনীবিন্যাস করেন। আগেই বলা হয়েছে যে রক্তের গ্রুপ বিভাগের জন্য লোহিত কণিকাকেই বেছে নেয়া হয়। সুতরাং লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে যে শ্রেণীবিন্যাস করা হয় তাকেই ব্লাড গ্রুপ বলে।

যেহেতু রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয় রক্তে উপস্থিত অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে, সেহেতু আমাদের অ্যান্টিজেন সম্পর্কে একটু ধারনা নেয়া প্রয়োজন। অ্যান্টিজেন হলো লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত মিউকোপলিস্যাকারাইড জাতীয় পদার্থ যা অ্যান্টিবডি উৎপাদনে উদ্দীপনা যোগায়। আর এই অ্যান্টিবডি হলো প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ যা দেহে প্রবেশকৃত ক্ষতিকর পদার্থকে ধ্বংস করে ফেলে।

মানুষের রক্তে AB এই দুই ধরনের অ্যান্টিজেন পাওয়া যায়। আর এই অ্যান্টিজেন দুটির বিপরীতে যথাক্রমে অ্যান্টিবডি b ও অ্যান্টিবডি a রক্তরসে তৈরি হয়। এভাবে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে সমগ্র মানব জাতির রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যথা- A, B, AB এবং O

A ব্লাড গ্রুপের রক্তে A অ্যান্টিজেন ও b অ্যান্টিবডি, B ব্লাড গ্রুপের রক্তে B অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি এবং AB ব্লাড গ্রুপের রক্তে AB উভয় অ্যান্টিজেন থাকে কিন্তু কোন অ্যান্টিবডি থাকে না। অপরদিকে O ব্লাড গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিজেন থাকে না কিন্তু ab উভয় অ্যান্টিবডিই থাকে।

A গ্রুপের অ্যান্টিবডি b, B গ্রুপের রক্তকে জমিয়ে দেয়। একই ভাবে B গ্রুপের অ্যান্টিবডি a, A গ্রুপের রক্তকে জমিয়ে দেয়। যেহেতু AB গ্রুপের রক্তে কোন অ্যান্টিবডি থাকেনা, সেহেতু AB গ্রুপের সাথে যে কোন গ্রুপের রক্ত মিশ্রিত হলেও কোন সমস্যা হয় না। তাই AB রক্ত গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন গ্রহীতা গ্রুপ। অপরদিকে O গ্রুপের রক্তে ab উভয় অ্যান্টিবডি থাকায় এটি অন্যকোন গ্রুপের রক্ত গ্রহন করতে পারেনা, কিন্তু সব গ্রুপকেই রক্ত দিতে পারে। তাই O রক্ত গ্রুপকে বলা হয় সার্বজনীন দাতা গ্রুপ।

যেহেতু ভুল গ্রুপের রক্ত আদান-প্রদানের ফলে রক্ত জমাট বেধে যাওয়ার মাধ্যমে মানুষের মৃত্যু হতে পারে, সেহেতু রক্ত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!