স্মৃতিতে ঢাকা

Reading Time: 2 minutes

বুক রিভিউ

“ঢাকার স্মৃতি।১২” – মুনতাসীর মামুন

অষ্টাদশ শতকের শুরুতে ঢাকা ছিল বিশ্বের দ্বাদশ বৃহত্তম নগরী। ঢাকার স্মৃতি বইটিতে ঢাকা সম্পর্কে সমৃদ্ধ তথ্য না থাকলেও খন্ড খন্ড কিছু ধারনা পাওয়া যায়। এখানে সংকলিত হয়েছে অলকানন্দা দাশগুপ্ত পটেল, রিজিয়া রহমান এবং রাবেয়া খাতুনের স্মৃতিকথা। অলকানন্দা দাশগুপ্ত ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিককার প্রবাদপ্রতিম শিক্ষক অমিয় দাশগুপ্তের কন্যা। আর অমিয় দাশগুপ্ত অধ্যাপক াব্দুর রাজ্জাকের শিক্ষক। রিজিয়া রহমানের জন্ম কলকাতায়। ১৯৪৭ সালের পর তার পিতামাতা ঢাকায় চলে আসেন,, স্মৃতিকথায ঢাকায় প্রথম াসার বর্ননা করেছেন।

বাংলাদেশের অন্যতম কথাসাহিত্যক রাবেয়া খাতুন রক্ষনশীল সমাজে নিজ গুনে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছিলেন। পুরনো ঢাকা েবং তখনকার গড়ে উঠতে থাকা ঢাকার এক সিনেম্যাটিক বিবরণ পাই তার কাছ থেকে।

১৯৪৬ সালের দিকে পুরানা পল্টন ছিল বেশ শান্ত খোলামেলা এক একটি পাড়া। বড় বড় দিঘী, ার দিঘীর পাশে বঁাধানো ঘাটে চলত খেলাধুলা, স্বাস্থ্যচর্চা, বৃদ্ধদের গল্চগুজব, অল্পবয়সীদেরর আলোচনা, রাজনীতি সহ সব আলোচনা।

বেশিরভাগ বাড়ি ছিল একতলা বেশ খানিকটা জমির উপরে, দোলনচাঁপা, মাধবীলতা, জঁুই, কাঞ্চন ছাড়াো অনেক বাড়িতে ছিল মৌসুমি ফুলের বাগান। পূজোর জন্য শিউলির মালা গঁাথা, বঁোটা শুকিয়ে বাসন্তী রঙে পুতুলের শাড়ি রাঙানো কাজে সবাই ব্যাস্ত ছিল। বাড়িগুলোতে উঠোনের আকর্ষন ছিল প্রচুর। কুয়ো থেকে জল তোলা, কয়লা ভাঙা, গুল দেওয়া, কাঠ কাটা সবই হতো উঠোনে।

মধ্যবিত্তরা পূজোতে সাধারন পোশাকই পরিধান করত। সুতির ফ্রক, কখনো একটি শাড়ি,, মেয়েদের পোশাক। ছেলেরা পরতেন ধুতি শার্ট অথবা ধুতি পাঞ্জাবি। তবে বয়স তিরিশের কাছাকাছি গেলেই বা দুই এক ছেলেমেয়ের মা হলেই মায়ের দলকে রঙিন শাড়ি ছেড়ে সাদা শাড়ি পরতেহতো।

তথনকার ঢাকাবাসীর খাবারেো ছিল ভিন্নতা। নিরামিষঘর আলাদা করে নাথাকলেও পেয়াজ রসুন ছাড়া সুস্বাদু পরিবেশনা থাকত। বকুল ফুল ভাজা, কুমরো ফুল ভাজা, লাউয়ের খোসা ভাজা, কঁাঠালের বিচি পোড়া, সব আলাদা স্বাদে আলাদা ুপপকরনে রান্না হত। ফুলের ভেতর ারেকটি ফুল ভরে কাকে ত্রিকোন করে বেসন বা চালের গঁোড়ো মাখিয়ে খাবার খেলে প্রান জুড়িয়ে যেত। অসুখ বিসুখ না হলে আপেল ানা হত না।

ঢাকা সেন্ট্রাল জেলের ভিতরের দৃশ্য সব বাহির থেকে দেখা যেত। ভেতরের মাঠে রাস্তায় বাগানে, কয়েদিদের কাজের ব্যাস্ততা সবই। সন্ধ্যায় কয়েদিদের ভেতরের দালানে ঢুকিয়ে তালা দেয়া হত, রাতে তারা দলবেধে মিলাদ পড়ত। কয়েদিরা তাদের মহিলা বাবুর্চিকে মামা বলে সম্বোধন করত। টিনের থালায় মোটা মোটা আটার রুটি, বুন্দিয়া ারর তরকারীর ঘ্যাট ছিল তাদের নাস্তা।

জাদুঘরটিরনঅবস্থান তখন ছিল নিমতলীতে। শুনশান অযত্নের মাঠের মধ্যে জনবিরল এক পুরনো বাড়ি।
সেইসময় থেকে এখন পর্যন্ত চলে গেছে অনেকগুলো বছর। সহস্র স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা আজ অতীত হয়ে ই প্রানবন্ত আছে। চোখ বন্ধ করে শুধু রুপকথার রাজকন্যার মত নিরিবিলি গ্রামীণ আবহের ঢাকাকে কল্পনা ই করা যাবে কিন্তু কোন আঙ্কিক হিসাব আর মিলবে না।।

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!