হাওরাঞ্চলের ইতিহাস ( চতুর্থ পর্ব )

Reading Time: 2 minutes

                   হাওরাঞ্চলের ইতিহাস   ( চতুর্থ পর্ব )

হাওরাঞ্চলে  পাহাড়ি ঢলে এবং নদীগর্ভে একশত বছরে ৭০টি গ্রাম বিলীন।

নিচে বিলীন হওয়া গ্রামগুলোর উপজেলাভিত্তিক তালিকা দেয়া হলো
মিঠামইন উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ১২টি গ্রাম- সাহেব নগর , চরঘাট খাল, গুপদিঘি, হাসানপুর, আজাইন্না পাড়া, কালীপুর, ডাইনগাঁও, নয়াহাটি, শান্তিপুর, বাটিয়া, হাইলা কান্দা, ঝালুপাড়া।
ইটনা উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ৩টি গ্রাম -কাকটেংগুর, ভাটির চর, উজান পাড়া।
অষ্টগ্রাম উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ৭টি গ্রাম- কালীপুর, চর প্রতাব, টানচর, নাজীরপুর, খালগাঁও, আনোয়ার পুর, চারিয়া।
নিকলী উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ৩টি গ্রাম- সুলতানপুর, কাশীপুর, কেশবপুর।
বাজিতপুর উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ১টি গ্রাম- শিবপুর গ্রাম।
খালিয়াজুরি উপজেলা (নেত্রকোণা ) : ১৭টি গ্রাম- জগদিশপুর, মাখনপুর, বিক্রমপুর, কানাইনগর, সুলতানপুর, কালিপুর, হেমনগর, দুর্গাপুর, আচানপুর, বিকনপুর, কাচারী বাড়ি, নগর, কামার বাড়ি, নরসিংপুর, সাঁওতাল, নারায়ণপুর প্রভৃতি গ্রাম হাওরের আফাল ঢেউয়ে বিলীন হয়েছে।
আটপাড়া উপজেলা (কিশোরগঞ্জ) : ১টি গ্রাম- সোনাজুর।
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা (হবিগঞ্জ) : ১টি গ্রাম- বদলপুর।
তাহিরপুর উপজেলা (সুনামগঞ্জ) : ১৮টি গ্রাম- পূর্বদইল, ইলামপুর, পুরান লাউর, আউলি, নয়াপাড়া, ফিরোজপুর, মাহারাম, মুজরাইল, দলইর গাঁও, পশ্চিম লাউড়ের গড়, রাজাবাজ, পুটিয়া মারা, পাটি চোরা, মটক, কালিপুর ও কেশবপুর।
জামালগঞ্জ উপজেলা (সুনামগঞ্জ) : ৯টি- গ্রাম- জগদিশপুর, আলীপুর, সুন্দরপুর, ফেরার কান্দি, ভায়ালা, সোনাপুর, জামলাবাজ, সুখদবপুর।
শাল্লা উপজেলা (সুনামগঞ্জ) : ১টি গ্রাম- ভেড়াডহর মধ্যহাটি।
জগন্নাথপুর উপজেলা (সুনামগঞ্জ) : ৬টি গ্রাম- রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলমপুর, বাঘময়না ও বালিশ্রী, পাইলগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর, পুরান আলাকদী, গাজীর কুল।
দোয়ারাবাজার উপজেলা (সুনামগঞ্জ) : ১টি গ্রাম- দোহালিয়া ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম।
নবীগঞ্জ উপজেলা (হবিগঞ্জ) : ২টি গ্রাম- পাহাড়পুর গ্রাম এবং পুরাতন দীঘল বাগটি গ্রামটি প্রায় বিলীন।
গোয়াইনঘাট (সিলেট) : ১টি গ্রাম- জাফলং ইউনিয়নের জয়রাম বস্তি পিয়াইন নদীর গর্ভে বিলীন।
আটপাড়া উপজেলা : ১টি গ্রাম- সোনাজুর গ্রাম বিলীন।
এসব গ্রামগুলোর মধ্যে কিছু  কিছু গ্রামে জনবসতি শুরু হয়েছে।
এ ভাবে বছরের পর বছর মানুষের আবাসস্থল বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ কোনো দিন এ অসহায় মানুষগুলোর খবর নেয় না। নির্বাচন এলে হাওর এলাকার নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়। তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তারা তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলেও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। হাওরবাসীর প্রশ্ন, কবে হবে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন? আর সে দিনই বা কত দূর? আধুনিক যুগে বসবাস করেও এখানকার মানুষকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। তারা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। হাওর কবলিত অবহেলিত মানুষের জীবনের এ বাস্তব চিত্র শহরবাসীকে কখনও ব্যাথিত করে না। অথচ শহরের মানুষের চাহিদা মেটাতে এ অঞ্চলের মানুষদেরই পরিশ্রম করতে হয় নিরন্তর। গ্রামীণ অধিবাসীদের অধিকাংশের জীবন দু:খ হতাশা আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে জরাজীর্ণ। তাদের এ দারিদ্র্যকে পুঁজি করে নাগরিক মানুষেরা গড়ে তোলে বিত্তের পাহাড়। ব্যতিক্রম শুধু এ জনগোষ্ঠীর। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন্ত ছবি যে কতখানি অন্ত:সারশূন্য একবার হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখলে তার প্রমাণ মেলে। জনপ্রতিনিধিরা যে উন্নয়ন ও অগ্রগতির বুলি নিত্য প্রচার করেন তার
বাস্তবায়ন হবে কবে তা জানে না হাওরবাসী। এখনো হাওরবাসীকে সম্পূর্ণ নিয়তির ওপর নির্ভর করে জীবন কাটাতে হয়। বিদ্যুত নেই, গ্যাস নেই, গাড়ির আওয়াজ নেই, আছে শুধু পাখির কোলাহল। হাওরবাসী জানে না কতদিন তাদের এভাবে লড়তে হবে। কখন তাদের ভাগ্যের সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আসবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

এ এস এম ইউনুছ

লেখক ও গবেষক

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!