নোংরামী নয়, খেলা হোক সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম

Reading Time: 2 minutes

পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ঐশ্বর্য্যশালী অঞ্চল ভারতীয় উপমহাদেশ। সুদূর অতীতকাল থেকেই এই সাব-কন্টিনেন্টের দিকে বাকি দুনিয়ার সবসময়ই লোভাতুর নজর বিদ্যমান। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন সাম্রাজ্যবাদী সেনাবাহিনী নাই, যারা ভারতবর্ষ জয়ের চেষ্টা করে নাই কিংবা স্বপ্ন দেখে নাই! কেউ সফল হয়েছে, কেউ ব্যর্থ হয়েছে।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও চাহিদাযোগ্য পণ্যের নাম “আবেগ”। আধুনিককালের মিডিয়া ও কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদীরা এই পণ্যটিই বেশী বিক্রি করে এখানকার অধিবাসীদের মাঝে। কিভাবে? চলুন, সংক্ষিপ্ত আলোচনা করি।

এককালের ভারতীয় উপমহাদেশ ভেঙ্গে এখন হয়েছে তিনটি স্বাধীন দেশ -ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। এই তিন দেশেই সর্বাধিক বিক্রিত পণ্যের নাম “আবেগ”।

যেমন, “বাংলাদেশকে পাত্তা দিলেন না শেবাগ” বা “ভারতকে পাত্তা দিচ্ছেন না হাতুরেসিংহে”, “বাংলাদেশকে হেয় করেছেন ইমরান খান” ইত্যাদি চটকদার শিরোনামে নিউজ করা উপমহাদেশীয় গণমাধ্যমওয়ালা এবং “মওকা মওকা” কিংবা “ধরে দিবানি” ভিডিও ও এক দেশ নিয়ে আরেক দেশের ট্রল করা ছবি প্রকাশ করা কিছু নিকৃষ্ট ফেসবুক পেইজের এডমিনেরা কিন্তু এই “আবেগ” বিক্রি করেই আমাদের বলদ বানাচ্ছে!

আমরা অতিমাত্রায় আবেগাপ্লুত এক অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকার হিসেবে এসব নিকৃষ্ট ব্যবসায়ী লোকদের ফাঁদে পা দিচ্ছি দেদারসে। আমরা সামান্য এক ক্রিকেট খেলাকে উদ্দেশ্য করে একটা জাতিকে গালাগালিতে ভাসিয়ে দিচ্ছি। একজন সাকিব আল হাসান কিংবা একজন বিরাট কোহলি বা মোহাম্মদ হাফিজের সমান যোগ্যতা আমার নেই, তবে কেন আমি তাকে নিয়ে কটুক্তি করবো?

আসলে, বর্তমানে “ক্রিকেট” একটি লাভজনক বিজনেস ইন্ডাস্ট্রী, এর মেইন প্রোডাক্টই হলো “আবেগ” এবং মেইন লাভজনক বাজার “ভারতীয় উপমহাদেশ”। এই অঞ্চলের সহজ-সরল মানুষগুলোকে আবেগের ফাঁদে ফেলে বোকা বানাচ্ছে কর্পোরেট সাম্রাজ্যবাদী ও এইকালের নিকৃষ্ট জীব কয়েকটি ফেসবুক পেজের এডমিন। সামান্য কিছু দর্শক, ভিজিটর কিংবা পেজে কিছু লাইক-কমেন্টের আশায় এরা জাতিতে-জাতিতে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, দেদারসে সম্মানিত প্লেয়ারদের নিয়ে থার্ডক্লাস সব ট্রল বানাচ্ছে কিংবা গাঁজাখুরি নিউজ বানাচ্ছে!

সমাধান: বিশ্ব দরবারে নিজ দেশের পতাকা দেখতে সবারই ভাল লাগে। আর, জয়লাভ করতে চায় সবাই। এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। আদিযুগ থেকেই মানুষের মাঝে জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিলো, আছে এবং থাকবে। আর, জয়লাভের পর নৃশংস উদযাপনও মানুষের স্বাভাবিক আচরণ, তবে, স্বীকৃত আচরণ নয়।

অন্যের চেয়ে সেরা হওয়ার এই লড়াইয়ে মানুষ অনেক বেশী হিংস্র হতে পারে, কিন্তু সেরা হলেই মানুষ হওয়া যায় না। মানুষকে “সেরা মানুষ” হতে হলে আবেগ ও বিবেকের সমণ্বয় করতে জানতে হয়, এখানে আবেগের বাড়াবাড়ি থাকলে “সেরা মানুষ” হবার চান্স নেই।

সুতরাং, খেলা হোক সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম। খেলা নিয়ে একে-অপরকে গালাগালি কিংবা সম্মানহানি করলে তা বিনোদন থাকে না, হয়ে যায় নোংরামী। এসব নোংরামী থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখাটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমরা যদি কোন নোংরামীতে না জড়াই, কোন মিডিয়া বা ফেসবুক পেজ আমাদের আবেগকে পুঁজি করে নোংরাভাবে মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করবে না। সুতরাং, পাল্টাতে হবে নিজেকেই।

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এককালের ব্রিটিশ উপনিবেশ তিন জাতির জন্য শুভকামনা রইলো। আর, আমার প্রাণের বাংলাদেশের জন্য রইলো ভালবাসা ও আশীর্বাদ!

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!