আলোকিত গ্রাম গড়ার কারিগর সালাম মাস্টারের স্বপ্ন একটি পাঠাগার স্থাপন

Reading Time: 2 minutes

বাংলার আটষট্টি হাজার গ্রামকে আলোকিত করতে পারলে, বাংলাদেশ আলোকিত হবে। সোনার বাংলা গড়ার আগে চাই সোনার মানুষ গড়ার উদ্যোগ। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকার আনাচে-কানাচে এমন অনেক স্বপ্নকামী মানুষ আছেন, যাঁরা সমাজকে আলোকিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেন। ঠিক তেমনই একজন স্বপ্নকামী মানুষ ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুস সালাম (মাস্টার), যিনি গ্রামের অসহায় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ বিসর্জন দিয়ে নিজের গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

 “গ্রামের অবহেলিত ছেলে-মেয়েদের জন্য যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা দেখা দেয়, দু-একটা স্কুল থাকলেও দূরত্বের কারণে ছেলেমেয়েরা যেতে চায় না, তখন এই অবস্থা দেখে আমি চিন্তা করি, গ্রামের জন্য একটা স্কুল থাকলে কতোই না ভালো হতো! তখন থেকেই লেগে পড়ি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজে আর এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমার সব ধন-সম্পত্তি শেষ করেছি।”

-এভাবেই বলছিলেন ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের মোঃ আব্দুস সালাম (মাস্টার)।

বয়সের ভারে একটু নুয়ে পড়লেও গুণী এই শিক্ষকের দেহের মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের জ্বলন্ত শিখা আর অফুরন্ত সাহস। অসম্ভব বলতে কোন কিছুই যেন তিনি মানতে নারাজ। তাইতো, ১৯৭৫ সাল থেকেই বিনা-বেতনে গ্রামের অবহেলিত ছেলেমেয়েদের জন্য শিক্ষাদান শুরু করেন। ১৯৮২ সালে সুদীর্ঘ চেষ্টা, শ্রম ও নিজস্ব অর্থের বিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্কুলটি রেজিস্ট্রি করান ২৫২ নং (৫)। নাম দেন বালিদিয়া কচিকাঁচা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অতঃপর ২০১০-২০১১ মেয়াদে প্রাথমিক বিদ্যালয় যখন সরকারিকরণের আওতায় পড়ে, তার অল্প কিছুদিন আগে তিনি অবসরে চলে যান। অল্পের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও তার মধ্যে নেই কোন আফসোস।

বালিদিয়া কচিকাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম জানান,

“সালাম স্যার আমাদের এলাকার গর্ব। তিনি এই স্কুল করতে গিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিনিময়ে কিছু পাবেন না জানি কিন্তু তার এই সুনাম সারা জীবন থেকে যাবে। তিনি সমাজের মানুষদের দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান করতে জনপ্রতিনিধি বা ধনাঢ্য হতে হয় না, তার জন্য প্রয়োজন উচ্চ মনোবল, সৎ সাহস ও দীর্ঘ প্রয়াস।”

এলাকা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তিনি বালিদিয়া কচিকাঁচা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আশাবাদী “স্কুলের পাশেই একটা গ্রন্থাগার স্থাপন করবেন, যদিও প্রয়োজনীয় টাকার অভাব রয়েছে।”

আলোকিত গ্রাম গড়ার প্রত্যয়ে নিজের সমস্ত বিলিয়ে দিলেও এই গুণী শিক্ষক উপযুক্ত প্রাপ্তি থেকে বঞ্ছিত। উনার স্কুলের পাশেই একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করার শেষ স্বপ্নটি কি বাস্তবে রুপ নিতে পারবে? শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ, সংস্থা ও সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বশীল লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। চলুন না, আমরা সবাই মিলে এমন একজন মহান শিক্ষকের স্বপ্নটি পূরণ করি?

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!