বিডিএসএফ এর ক্লাসিক বুক সিরিজের দশ বই পরিচিতি

Reading Time: 4 minutes

বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম তার গতিশীল পথচলায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পাঠ উৎসবের সফল সমাপ্তি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এবারের আয়োজন ক্লাসিক বুক সিরিজ। ক্লাসিক বুক সিরিজের জন্য স্টাডি ফোরামের সভ্যদের ভোটে নির্বাচিত দশটি বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছি।

১. দ্য প্রিন্স

দ্য প্রিন্স নিক্কোলো ম্যাকিয়াভেলি রচিত ১৫৩২ সালে প্রকাশিত একটি গ্রন্থ। গ্রন্থটি তাঁর সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এবং বহুল পঠিত গ্রন্থ।
দ্য প্রিন্স গ্রন্থের মধ্যে এক উগ্র রাজনৈতিকতা বোধসম্পন্ন, প্রতিহিংসাপরায়ণ ম্যাকিয়াভেলিকে আবিষ্কার করা যায়। এ গ্রন্থে লেখক তাঁর রাজনৈতিক বাস্তবতাবাদ মতকে রাজনৈতিক তত্ত্বে রূপ দিয়েছেন। গ্রন্থটিকে অভিহিত করা হয় বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম অর্থপূর্ণ, ভীতিজনক, প্ররোচনামূলক, হিংসাত্মক ও কঠিন আঘাত দিতে সক্ষম রচনা বলে।প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বইটি বহুল সমালোচিত ও নিন্দিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশংসিতও হয়েছে অনেক বিদগ্ধজনের কাছে।

ম্যাকিয়াভেলি বইটি লিখেছিলেন ফ্লোরেন্সের তৎকালিন রাজা পিয়ারো ডি মেডিচির পুত্র প্রিন্স লরেঞ্জোর প্রতি উপদেশমূলক গ্রন্থ হিসেবে। লরেঞ্জো যদিও সেই সময় এই উপদেশ গ্রহন করেন নি; কিন্তু পরবর্তিতে দুনিয়াতে যত স্বৈরশাসক ও ডিকটেটর এসেছেন তারা সকলই দ্য প্রিন্সকে মূল উপজীব্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। একথা সুবিদিত যে, মুসোলিনি ‘দ্য প্রিন্স’ এর এক সংস্করণে ভূমিকা পর্যন্ত লিখেছিলেন। হিটলার তাঁর শয্যাপাশে সবসময় এক খণ্ড দ্য প্রিন্স রাখতেন বলে শোনা যায়।

২.  রিপাবলিক

রিপাবলিক গ্রিক দার্শনিক প্লেটো রচিত এক অমর গ্রন্থ। মূলত, রিপাবলিকের মাধ্যমেই প্লেটো সক্রেটিসকে আমাদের সামনে তুলে ধরেন। সরদার ফজলুল করিম রিপাবলিকের ইংরেজি অনুবাদ হতে বাংলা ভাষায় রুপান্তরিত করেন।
প্লেটো তাঁর এই গ্রন্থে সাম্যবাদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি তৎকালীন আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সাম্যবাদ-এর ধারণা দিয়েছিলেন। আধুনিক সাম্যবাদ হলো প্লেটোর কাছ থেকে ধার করা সাম্যবাদ। আধুনিক সাম্যবাদে শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপের কথা বলা হয়। আসলে দেখা যায়, প্লেটোর সাম্যবাদের কিছু অংশ বর্তমানেও বাস্তব।

৩. দ্য আর্ট অব ওয়ার

দ্য আর্ট অব ওয়ার সমরবিদ্যার আদি একটি গ্রন্থ। এটি সম্ভবত লেখা হয়েছিল খৃস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে। এর রচয়িতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় সান জুকে। এতে ১৩টি অধ্যায় রয়েছে।
সাধারণভাবে বইটিকে রণকৌশলের উপর লেখা শ্রেষ্ঠ বই মনে করা হয় এবং এটি চৈনিক ও এশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক প্রভাব রেখেছে।

৪. আল মুকাদ্দিমা

ইবনে খালদুন তার বই মুকাদ্দিমার জন্য অধিক পরিচিত। ১৯ শতকের ইউরোপীয় পন্ডিতরা এই বইয়ের গুরুত্ব স্বীকার করেন এবং ইবনে খালদুনকে মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের অন্যতম হিসেবে গণ্য করতেন।
ইবনে খালদুন মুকাদ্দিমায় উপস্থাপিত বিষয়াবলী ৬ অংশে ভাগ করে আলোচনা করেন। প্রথম ভাগে সমাজ বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হয়। এখানে সামাজিক শ্রেণী ও ভৌগোলিকভাবে মানুষের বিভাজন সম্বন্ধে জানা যায়। দ্বিতীয় ভাগে তিনি যাযাবর সমাজ, গোত্র ও অনগ্রসর জাতিসমূহ সম্পর্কে আলোচনায় আসেন। তৃতীয় ভাগের বিষয়বস্তু হিসেবে পাওয়া যায় রাষ্ট্র, আধ্যাত্মিক ও ইহজাগতিক ক্ষমতা এবং রাষ্ট্ৰীয় পদবীসমূহ। চতুর্থ ভাগে স্থায়ী সমাজ, নগর ও প্রদেশের পর্যালোচনা মিলে। পঞ্চম ভাগে মানুষের কারুকাজ, জীবিকা উপার্জনের উপায় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। পরিশেষে ষষ্ঠ ভাগে পাওয়া যায় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা। মোট কথা, এ ছয় ভাগের প্রত্যেক ভাগে সামগ্রিকভাবে সর্বত্র ইতিহাস তত্ত্ব, অর্থনীতি, রাজনীতি ও শিক্ষা নীতির ওপর বহু জ্ঞানদীপ্ত পর্যবেক্ষণ ছড়িয়ে আছে। অন্যভাবে বলা যায়, এখানে মানব সভ্যতার উদ্ভব ও বিকাশের এক অনন্য সুন্দর আলেখ্য বর্তমান।
ইবনে খালদুন মুকাদ্দিমায় যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ।

৫. চাণক্য নীতি

মহামতি চাণক্য আজ থেকে ২৩০০ বছর আগে মানব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বপ্রথম জাতিসত্তার ধারণার জন্ম দিয়েছিলেন, শিষ্য চন্দ্রগুপ্তকে দিয়ে সে যুগের সবচাইতে বড় সাম্রায্যের পত্তন করেছিলেন, ভারত অভিমুখে আলেকজান্ডারের আগ্রাসন ঠেকিয়েছিলেন, তারপর নিজ জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছিলেন মানবজাতির সর্বপ্রথম অর্থনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার ম্যানুয়াল- “অর্থশাস্ত্র”।
কৌটিল্য ও বিষ্ণুগুপ্ত- উভয় নামে পরিচিত এই অসীম মেধাবী মানুষটির অন্যতম সেরা রচনা “নীতিশাস্ত্র”। এই নীতিশাস্ত্রের আবেদন এখনও অমলিন এবং প্রায়োগিক।

৬. দ্য প্রফেট

দ্য প্রফেট হচ্ছে লেবাননী-আমেরিকান কবি, চিত্রশিল্পী, লেখক, দার্শনিক, ধর্মতত্ত্ববিদ, চাক্ষুষ শিল্পী কাহলিল জিবরানের লিখা ২৬টি গদ্য কবিতার একটি বই যা ইংরেজিতে লিখা হয়েছে। বইটি ৮০টির বেশি ভাষায় প্রকাশিত করা হয়েছে।
দ্য প্রফেট বইটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র আল-মুস্তফা যে, বিদেশী আরফালিস শহরে ১২ বছর ধরে বসবাস করেছে এবং একটি জাহাজ সম্পর্কে যা তাকে তার দেশে নিয়ে যাবে। বিদায়লগ্নে তিনি একটি দল মানুষের উদ্দেশ্যে জীবন এবং মানুষের অবস্থার বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করে। বইটি প্রেম, বিয়ে, সন্তান, দান, খাওয়া-দাওয়া, কাজ, আনন্দ ও দুঃখ, ঘর, কাপড়-চোপড়, ক্রয় এবং বিক্রয়, অপরাধ ও শাস্তি, আইন, স্বাধীনতা, কারণ এবং আবেগ, ব্যথা, আত্মদর্শন, শিক্ষাদান, বন্ধুত্ব, কথা, সময়, ভালো এবং মন্দ, প্রার্থনা, আনন্দ, সৌন্দর্য, ধর্ম, এবং মৃত্যু অনুচ্ছেদে বিভক্ত।
প্রত্যেক অনুচ্ছেদে আছে কাব্যিক ঢঙে জীবনের নানা দিকের দার্শনিক উপস্থাপন।
বইতে জিবরানের নিজের আঁকা ১২ টি চিত্রকর্ম আছে।

৭. সক্রেটিসের জবানবন্দী

মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হওয়ার পূর্বে এবং তার অব্যবহিত পরে সক্রেটিস নিজের ক্রিয়াকর্ম, জীবন ও দর্শনচর্চার পক্ষে আদালতে যে কৈফিয়ত দিয়েছেন সেটাই সক্রেটিসের জবানবন্দী। সক্রেটিসের জবানবন্দী যে কেবল সক্রেটিসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা অধার্মিকতা আর যুবকদের কলুষিতকরণের অভিযোগের উত্তরে সর্বোত্তম, সবচেয়ে জ্ঞানী, সবচেয়ে নৈতিক মানুষটির জবানবন্দী, তাই নয়, এটি দর্শনের পক্ষেও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সাফাই।

৮. মসনবি

মসনবি মানে দ্বিপদী কবিতা। ফারসি ভাষায় অগণিত কবি অসংখ্য মসনবি কাব্যের কীর্তি গড়েছেন। কিন্তু অতুলনীয় গুরুত্বের কারণে মসনবি বলতে এখন শুধু মওলানা রুমির মসনবিকেই বোঝায়। রুমির মসনবির পুরো নাম মসনবিয়ে মানবি অর্থাৎ আধ্যাত্মিক দ্বিপদী কাব্য। প্রাজ্ঞজনেরা এ কাব্যগ্রন্থকে পবিত্র ও সম্মানীয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন তার অমূল্য শিক্ষা ও পবিত্র ভাবাদর্শের কারণে।
মসনবির প্রধান আলোচ্য বিষয় দর্শন, কালাম, ইরফান, তাসাউফ ও আখলাক।

৯. সোফির জগৎ

সোফির জগৎ নরওয়েজীয় লেখক ইয়স্তেন গার্ডার রচিত একটি দার্শনিক উপন্যাস। উপন্যাসের ছলে সোফির জগতে মূলত পশ্চাত্য দর্শনের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ইতিহাস পরিবেশনের যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তা অনেকটা রহস্যোপন্যাসের মত। একে একে তুলে ধরা হয়েছে দার্শনিক ভাবনা চিন্তার ক্রম বিকাশের বিবরণ। বইটি মূলত পাশ্চাত্য দর্শনের এবং অংশত পাশ্চাত্য ইতিহাস।
উপন্যাসের এক মূল চরিত্র সোফি অ্যামুন্ডসেন (এক নরওয়েজিয় কিশোরী) একদিন তার বাসায় ডাকবক্সে দেখে অজানা একজন তার জন্য দুটি চিঠি রেখে গেছে। চিঠিতে দুটি প্রশ্ন লেখা, “তুমি কে?” আর “পৃথিবীটা কোথা থেকে এল”। এরপর সম্পূর্ণ উপন্যাসে আলবার্ট নক্স (দ্বিতীয় মূল চরিত্র) নামের এক রহস্যময় ব্যক্তি কৌতূহল উস্কে দেওয়া প্রশ্ন দু’-খানি দ্বারা সূত্রপাত ঘটান প্রাক সক্রেটিস যুগ থেকে সার্ত্রে পর্যন্ত পশ্চাত্য দর্শনের রাজ্যে এক অসাধারণ অভিযাত্রার। তিনি প্রথম পর পর বেশ কয়েকটি চিঠির মাধ্যমে এবং পরে সশরীরে সোফির সামনে তুলে ধরেন পশ্চাত্য দর্শনের সব মৌলিক প্রশ্ন।

১০. Self-Reliance/ সেল্ফ রিলায়েন্স

‘আত্মনির্ভরশীলতা’ বা সেল্ফ রিলায়েন্স প্রবন্ধটি মার্কিন চিন্তক ও কবি রাল্ফ ওয়াল্ডো এমারসনের। ১৮৪১ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

It contains the most thorough statement of one of Emerson’s recurrent themes, the need for each individual to avoid conformity and false consistency, and follow their own instincts and ideas. It is the source of one of Emerson’s most famous quotations: “A foolish consistency is the hobgoblin of little minds, adored by little statesmen and philosophers and divines.”

This essay is an analysis into the nature of the “aboriginal self on which a universal reliance may be grounded.”

Spread the love

Related Posts

Add Comment

error: Content is protected !!